সংক্ষেপে
- পদ্মা রিসোর্ট (Padma Resort) মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত — ঢাকা থেকে মাত্র 50 কিলোমিটার দূরে।
- রিসোর্টে মোট 16টি কটেজ; বাঁশ ও তালকাঠের তৈরি কটেজগুলোর 12টির নাম বাংলা 12 মাসের নামে, বাকি 4টির নাম ঋতুর নামে।
- দিনে ঘুরে আসার ভাড়া 2300 টাকা (সকাল 10টা–সন্ধ্যা 6টা) এবং এক রাত থাকার ভাড়া 3450 টাকা (ভ্যাটসহ)।
- স্পিডবোট, শাম্পান নৌকা ও ট্রলারে নদীভ্রমণ; লাইফ জ্যাকেট প্রতিটি নৌকায় থাকে।
- যাতায়াত: ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে লৌহজং, অথবা মাওয়া ফেরিঘাট হয়ে রিসোর্টের নিজস্ব স্পিডবোট।
সূচিপত্র
- কটেজ ও থাকার ব্যবস্থা
- যা যা করতে পারবেন
- যেভাবে যাবেন
- মাওয়া হয়ে যাওয়ার পথ
- খরচ ও ভাড়া
- খাবারের ব্যবস্থা
- বুকিং
- সচরাচর জিজ্ঞাসা
কটেজ ও থাকার ব্যবস্থা
শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে পদ্মা রিসোর্ট একটি ভালো জায়গা। সপ্তাহান্তে বা বিশেষ কোনো দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে একদিনের জন্য ঘুরে আসা যায়।
রিসোর্টে মোট 3টি ডুপ্লেক্স কটেজসহ মোট 16টি কটেজ আছে। প্রতিটি কটেজে একটি বড় বেডরুম, দুটি সিঙ্গেল বেডরুম ও একটি ড্রয়িংরুম; সঙ্গে দুটি বারান্দা ও একটি বাথরুম। বাঁশ ও তালকাঠের তৈরি কটেজগুলো পরিষ্কার ও সাজানো। বর্ষায় কটেজগুলো পানির রাজ্যে ভাসমান দ্বীপের মতো মনে হয়, আর শীতে রঙিন ফুলে ভরে ওঠে। 12টি কটেজের নাম বাংলা 12 মাসের নামে রাখা হয়েছে, বাকি 4টির নাম ঋতুর নামে। কাছাকাছি থাকতে চাইলে পশ্চিম পাশের বাংলা মাসের নামের কটেজগুলো বেছে নেওয়া যায়।
যা যা করতে পারবেন
- কটেজের বাইরে চেয়ারে বসে আড্ডা বা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঘোরাঘুরি
- ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, বিচ ভলিবল, ঘুড়ি ওড়ানো, ফ্রিসবি খেলা
- রাবার বোট, স্পিডবোট বা দেশি নৌকায় নদীভ্রমণ
- নৌকা থেকে মাছ ধরা
- যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি নৌকায় লাইফ জ্যাকেট রাখা আছে
যেভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে গাংচিল বা হিলসা বাসে লৌহজং যাওয়া যায়; জনপ্রতি ভাড়া প্রায় 70 টাকা। মিরপুর 10, ফার্মগেট বা শাহবাগ থেকেও লৌহজংয়ের বাস পাওয়া যায়। গুলিস্তান থেকে গ্রেট বিক্রমপুর বাসে মাওয়া ফেরিঘাটে নেমে লৌহজং চৌরাস্তায় রিকশা বা অটোরিকশায় পদ্মা রিসোর্টে যাওয়া যায়। রোড ম্যাপ: মাওয়া ফেরিঘাট > লৌহজং চৌরাস্তা রোড > লৌহজং থানা > পদ্মা রিসোর্ট।
নিজের গাড়ি নিয়ে গেলে রাস্তায় দুই জায়গায় টোল দিতে হবে। গাড়ি পার্ক করতে হবে লৌহজং থানার কাছে। লৌহজং থানার কাছের মসজিদ ঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোট পাওয়া যায়; ট্রলার ভাড়া প্রায় 70 টাকা। মাওয়া ঘাট থেকে গ্রেট বিক্রমপুর ট্রান্সপোর্ট (মাওয়া-গুলিস্তান-মাওয়া) বা গোধূলি ট্রান্সপোর্ট (মাওয়া-গাজীপুর/যাত্রাবাড়ি-মাওয়া) বাসেও যাওয়া যায় — সেক্ষেত্রে মাওয়া যাওয়ার আগে লৌহজং থানার মোড়ে নামতে হবে, সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় প্রায় 15 মিনিট।
মাওয়া হয়ে যাওয়ার পথ
মাওয়া ফেরিঘাট থেকে রিসোর্টের নিজস্ব স্পিডবোটে সরাসরি রিসোর্টে যাওয়া যায়। আগে থেকে যোগাযোগ করে রাখলে রিসোর্টের নৌকা ঘাট থেকে তুলে নিয়ে যাবে। মাওয়া থেকে অটো বা সিএনজিতে লৌহজং গিয়ে ঘাটে নামলে ট্রলারে 50 টাকা দিয়ে পদ্মা রিসোর্টে পৌঁছানো যায়।
খরচ ও ভাড়া
| বিষয় | ভাড়া (টাকা) |
|---|---|
| কটেজ ভাড়া — সকাল 10টা থেকে সন্ধ্যা 6টা (ভ্যাটসহ) | 2300 |
| কটেজ ভাড়া — সকাল 10টা থেকে পরদিন সকাল 10টা (ভ্যাটসহ) | 3450 |
| স্পিডবোট (প্রতি ঘণ্টা) | 2500 |
| শাম্পান নৌকা (প্রতি ঘণ্টা) | 1200 |
| ট্রলার (প্রতি ঘণ্টা) | 600 |
খাবারের ব্যবস্থা
পদ্মা রিসোর্টে একটি সাজানো রেস্টুরেন্ট আছে, যেখানে 20টি টেবিলে একসঙ্গে প্রায় 200 জন খেতে পারে। দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য রিসোর্ট অফিস থেকে জনপ্রতি 15% ভ্যাটসহ ফুড টোকেন নিতে হয়। দুপুরের মেনুতে সাধারণত ভাত, ইলিশ ভাজি (1 পিস), মুরগি (1 পিস), সবজি, সালাদ থাকে। সকালের নাশতায় সবজি, ডিম ও চা — দাম 350 টাকা। পানির বোতল আলাদা কিনতে হয়, খাবারের দামের সঙ্গে পানি ধরা নেই।
বুকিং
সরকারি ছুটির দিনে যেতে চাইলে আগেই বুকিংয়ের টাকা দিয়ে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। অন্য দিনে খালি থাকলে রিসোর্টে গিয়েও কটেজ ভাড়া নেওয়া যায়। বর্ষায় পদ্মার রূপ দেখতে ভিড় বেশি হয়, তাই ছুটির দিনে আগে থেকে বুকিং করা জরুরি। বর্ষা ছাড়া অন্য মৌসুমেও বুকিং ছাড়া যাওয়া যায়। অগ্রিম বুকিং করতে হবে পদ্মা রিসোর্টের ঢাকা অফিসে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পদ্মা রিসোর্ট কোথায়?
মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড়ে — ঢাকা থেকে প্রায় 50 কিলোমিটার দূরে।
একদিনের জন্য কটেজ ভাড়া কত?
সকাল 10টা থেকে সন্ধ্যা 6টা পর্যন্ত 2300 টাকা (ভ্যাটসহ); এক রাত থাকলে 3450 টাকা (ভ্যাটসহ)।
নৌকায় ঘোরার খরচ কত?
স্পিডবোট প্রতি ঘণ্টা প্রায় 2500 টাকা, শাম্পান নৌকা 1200 টাকা ও ট্রলার 600 টাকা।
খাবারের ব্যবস্থা কেমন?
রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য টোকেন নিতে হয় (15% ভ্যাটসহ); সকালের নাশতা 350 টাকা।
বুকিং কি আগে থেকে করতে হয়?
সরকারি ছুটির দিনে হ্যাঁ — ঢাকা অফিসে আগেই বুকিং নিশ্চিত করতে হয়। অন্য দিনে খালি থাকলে সরাসরি গিয়েও ভাড়া নেওয়া যায়।
