বায়তুল আমান জামে মসজিদ: এক নজরে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে, বানারীপাড়া সড়ক ধরে শহর থেকে ~২২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বায়তুল আমান জামে মসজিদ — সবার মুখে গুঠিয়া মসজিদ। প্রায় ১৪ একর জুড়ে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স: ২০টি গম্বুজ, ~১৯৩ ফুট উঁচু মিনার (দেশের সবচেয়ে উঁচুগুলোর একটি), মার্বেলের গায়ে কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি আর প্রবেশপথের পুকুরে ভেসে ওঠা মসজিদের প্রতিবিম্ব। রাতে আলোকসজ্জায় পুরো কমপ্লেক্স ঝলমল করে — প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী আসেন শুধু দেখতেই।

গুঠিয়া মসজিদ — বায়তুল আমান জামে মসজিদ, উজিরপুর, বরিশাল
বায়তুল আমান জামে মসজিদ (গুঠিয়া মসজিদ)। ছবি: Md Shaifuzzaman Ayon, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতা

চাংগুরিয়ার সন্তান, ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্য এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজের বাসভবনের সামনে এই কমপ্লেক্সের নির্মাণ শুরু করেন ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর; তাঁর ছোট ভাই মো. আমিনুল ইসলাম নিপুর তত্ত্বাবধানে তিন বছরে কাজ শেষ হয় ২০০৬ সালে — ব্যয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। নকশায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রসিদ্ধ মসজিদগুলোর ছাপ আনতে প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি-বন্ধুদের নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সৌদি আরব, ভারত ও পাকিস্তান সফর করেছিলেন।

কমপ্লেক্সে যা যা আছে

মূল মসজিদ: ভেতরে একসঙ্গে ~১,৫০০ মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন, বাইরের প্রাঙ্গণে আরও ~৫,০০০; মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা আছে। ঈদগাহ ময়দান: ২০ হাজারের বেশি মানুষের ধারণক্ষমতা — ঈদের জামাতে পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। পবিত্র মাটির সংগ্রহ: কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত আছে কাবা শরীফ, আরাফার ময়দান, জাবালে রহমত, জাবালে নূর, নবীজীর জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান ও খলিফাদের কবরস্থানসহ বিখ্যাত পবিত্র স্থানের মাটি এবং জমজমের পানি — দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। আরো আছে: এতিমখানা, হাফেজি মাদরাসা, ডাকবাংলো, কবরস্থান, হেলিপ্যাড, গাড়ি পার্কিং, লেক ও ফুলের বাগান। দেশের আরেক বিখ্যাত মসজিদ-ভ্রমণে আগ্রহ থাকলে রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদের গাইডও দেখুন।

গুঠিয়া মসজিদের গম্বুজ ও মিনার, বরিশাল
গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার। ছবি: Azimronnie, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কিভাবে যাবেন

বরিশাল শহর থেকে: বানারীপাড়া সড়ক ধরে বাস/মাহিন্দ্রা/অটোতে গুঠিয়া (~২২ কিমি)। ঢাকা থেকে: সড়কপথে (পদ্মা সেতু হয়ে) বা লঞ্চে বরিশাল, তারপর উপরের রুটে। দর্শনের সেরা সময়: বিকেল–সন্ধ্যা — দিনের আলোয় স্থাপত্য, সন্ধ্যায় আলোকসজ্জা ও পুকুরের প্রতিবিম্ব দুটোই ধরা যায়। জুমার দিনে মুসল্লিদের ভিড় থাকে; দর্শনার্থীদের নামাজের সময় ভেতরের শৃঙ্খলা মেনে চলা উচিত। জেলা তথ্য: বরিশাল জেলা প্রশাসন।

টিপস ও সতর্কতা

  • মসজিদ প্রাঙ্গণে পোশাকে শালীনতা বজায় রাখুন; নারী দর্শনার্থীদের ওড়না/স্কার্ফ সঙ্গে রাখা ভালো।
  • নামাজের সময়ে ভেতরে উচ্চস্বরে কথা ও অনিয়ন্ত্রিত ছবি তোলা এড়িয়ে চলুন।
  • ঈদ ও জুমায় প্রচণ্ড ভিড় হয় — শুধু দর্শনের জন্য সাধারণ দিনে বিকেলে যাওয়াই আরামদায়ক।
  • পুকুরপাড়ে ছবি তোলার সেরা জায়গা — তবে পিচ্ছিল ঘাটে সতর্ক থাকুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

গুঠিয়া মসজিদ কোথায়?

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে — বরিশাল শহর থেকে ~২২ কিমি।

মসজিদটি কে নির্মাণ করেন?

এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু — নির্মাণ ১৬ ডিসেম্বর ২০০৩ শুরু, শেষ ২০০৬ সালে; ব্যয় ~২০ কোটি টাকা।

মিনারের উচ্চতা কত?

প্রায় ১৯৩ ফুট (৫৮ মিটার) — দেশের সবচেয়ে উঁচু মিনারগুলোর একটি; গম্বুজ ২০টি।

কতজন নামাজ পড়তে পারে?

মসজিদের ভেতরে ~১,৫০০, প্রাঙ্গণে আরও ~৫,০০০; ঈদগাহে ২০,০০০+ মানুষের জায়গা হয়।

দর্শনার্থীরা কি ভেতরে যেতে পারে?

কমপ্লেক্স উন্মুক্ত — প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী আসেন; শালীন পোশাক ও নামাজের শৃঙ্খলা মেনে চলুন।

কমপ্লেক্সে আর কি আছে?

ঈদগাহ, পবিত্র মাটির সংগ্রহ ও জমজমের পানি, এতিমখানা, মাদরাসা, ডাকবাংলো, পুকুর-লেক ও ফুলবাগান।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top