বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা (Bangladesh National Zoo) ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা। 186 একর (75 হেক্টর) জায়গাজুড়ে এখানে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, হাতি, জিরাফ, গন্ডার, জলহস্তি থেকে শুরু করে দেড় হাজারের বেশি পাখি, কুমির, হরিণ আর বানরের দল। ঢাকার ভেতরে পরিবার নিয়ে একদিনের ঘোরার জায়গা হিসেবে মিরপুর চিড়িয়াখানার বিকল্প কম। এই গাইডে চিড়িয়াখানার ইতিহাস, কী কী প্রাণী দেখবেন, প্রবেশ টিকেট ও সময়সূচি, মেট্রো-বাসে যাতায়াত, ভেতরে ঘোরার রুট, খাবার ও সতর্কতা — সবকিছু এক জায়গায় দেওয়া হলো।
সংক্ষেপে
- অবস্থান: জু রোড, মিরপুর 1, ঢাকা 1216; মিরপুর 1 গোলচত্বর থেকে অল্প দূরে।
- খোলা থাকে: গ্রীষ্মে (এপ্রিল-অক্টোবর) সকাল 9টা থেকে সন্ধ্যা 6টা; শীতে (নভেম্বর-মার্চ) সকাল 8টা থেকে বিকেল 5টা। প্রতি রবিবার বন্ধ।
- প্রবেশ টিকেট: প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী 2 বছরের বেশি বয়সীদের জন্য 50 টাকা; 2 বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে; শিক্ষার্থীদের অর্ধেক (আইডি কার্ড দেখাতে হবে)।
- যাতায়াত: মেট্রোরেলে মিরপুর 10 স্টেশনে নেমে মিরপুর 1 হয়ে রিকশা বা বাসে; অথবা ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে মিরপুর 1 গামী বাসে।
- সময় লাগবে: ভালোভাবে ঘুরতে কমপক্ষে 3-4 ঘণ্টা; বাচ্চাদের নিয়ে গেলে অর্ধদিন ধরে রাখুন।
সূচিপত্র
- বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কোথায় ও কেন যাবেন
- চিড়িয়াখানার ইতিহাস: হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মিরপুর
- কী দেখবেন: প্রাণী অঞ্চল ধরে ধরে
- প্রবেশ টিকেট, সময়সূচি ও অন্যান্য ফি
- কিভাবে যাবেন: মেট্রো, বাস ও রিকশা
- ভেতরে ঘোরার অর্ধদিনের পরিকল্পনা
- কোথায় খাবেন
- কোথায় থাকবেন: ডে-ট্রিপের হিসাব
- টিপস ও সতর্কতা
- সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কোথায় ও কেন যাবেন
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিমে মিরপুর 1 এলাকায়, জু রোডে অবস্থিত। পুরনো নাম ঢাকা চিড়িয়াখানা; 2015 সালের 5 ফেব্রুয়ারি এর নাম বদলে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা করা হয়। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, এবং দেশের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচিত।
কেন যাবেন, তার উত্তরটা সহজ: ঢাকার ভেতরে এত বড় জায়গায় এত ধরনের প্রাণী আর কোথাও একসাথে দেখা যায় না। বাচ্চারা বইয়ে পড়া বাঘ, হাতি, জিরাফ, কুমিরকে সামনাসামনি দেখতে পায়; বড়রা লেকের ধারে হাঁটতে পারেন, পাখির খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে সময় কাটাতে পারেন। বছরে প্রায় 30 লাখ দর্শনার্থী এখানে আসেন, ছুটির দিনে সংখ্যাটা আরও বেড়ে যায়। তবে একটা কথা আগেই বলে রাখা ভালো: এটি একটি পুরনো সরকারি চিড়িয়াখানা, কোনো আধুনিক সাফারি পার্ক নয়। কিছু খাঁচা ও স্থাপনা পুরনো, কিছু প্রাণীর আবাস ছোট মনে হতে পারে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে গেলে হতাশা কম হবে, আর বাচ্চাদের প্রাণী সম্পর্কে শেখানোর সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে।
চিড়িয়াখানার ঠিক পাশেই জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন)। হাতে সময় থাকলে একই দিনে দুই জায়গা মিলিয়ে ঘোরা যায়, তবে দুই জায়গার টিকেট আলাদা। আর মিরপুর ঘোরার পরিকল্পনায় মিরপুর বেরিবাঁধ বা দিয়াবাড়ি লেক যোগ করলে দিনটা আরও পূর্ণ হয়।
চিড়িয়াখানার ইতিহাস: হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে মিরপুর
ঢাকায় চিড়িয়াখানার শুরুটা 1950 সালের 26 ডিসেম্বর, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় একটি চিড়িয়াখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। তখন অল্প কিছু প্রাণী — চিত্রা হরিণ, ময়ূর, বানর আর হাতি — নিয়ে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের কাছে সেগুনবাগিচায় এর যাত্রা শুরু হয়। পরে প্রাণীর সংখ্যা বাড়লে এটি ঈদগাহ ময়দানে সরিয়ে নেওয়া হয়। 1961 সালে চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়।
দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে প্রাণী সংগ্রহের পর 1974 সালের 23 জুন মিরপুরের বর্তমান জায়গায় চিড়িয়াখানাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সেই থেকে এটি মিরপুর চিড়িয়াখানা নামেই সবার কাছে পরিচিত। 2015 সালে নাম বদলে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা হলেও স্থানীয়রা এখনো একে মিরপুর চিড়িয়াখানা বলেই ডাকেন। ইতিহাসটা জানা থাকলে ঘোরাটা শুধু প্রাণী দেখা থাকে না — 70 বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকার মানুষের বিনোদন আর প্রাণী-শিক্ষার এই ঠিকানাটার গল্পটাও সঙ্গে থাকে।
কী দেখবেন: প্রাণী অঞ্চল ধরে ধরে
প্রকাশিত হিসাবে চিড়িয়াখানায় 2,000-এর বেশি প্রাণী ও শতাধিক প্রজাতি রয়েছে; 2026 সালের সরকারি হিসাবে প্রায় 3,100 প্রাণীর কথাও এসেছে। সংখ্যাটা বছরভেদে বদলায়, কারণ প্রাণী জন্ম নেয়, আনা হয়, আবার কিছু প্রাণী মারাও যায়। তাই সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন অঞ্চলে কী দেখবেন, সেটা জানা। নিচে অঞ্চল ধরে ধরে মূল আকর্ষণগুলো দেওয়া হলো।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও মাংসাশী প্রাণীর এলাকা
চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সরকারি হিসাবে এখানে 16টির মতো রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে, যাদের মধ্যে সাদা (অ্যালবিনো) বাঘের ছানাও আছে। বাঘের খাঁচার সামনে সকালের দিকে গেলে প্রাণীগুলোকে তুলনামূলক সক্রিয় দেখা যায়; দুপুরের গরমে ওরা প্রায়ই ছায়ায় শুয়ে থাকে। একই এলাকায় সিংহ (সাদা সিংহসহ), চিতাবাঘ, ভালুক, হায়েনা আর শিয়ালের মতো মাংসাশী প্রাণীও দেখতে পাবেন। বাঘের খাঁচার সামনে ভিড় বেশি হয়, তাই ছবি তুলতে চাইলে একটু ধৈর্য ধরে ফাঁকা মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করুন।
হাতি, জিরাফ, গন্ডার ও জলহস্তির এলাকা
বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের এলাকায় এশীয় হাতি, জিরাফ, আফ্রিকান গন্ডার, জলহস্তি, জেব্রা, নীলগাই, তাপির আর ইমপালা রয়েছে। হাতিরা সাধারণত সকালের দিকে খাবার খায়, সেই সময়টা দেখার জন্য ভালো। জিরাফের উঁচু ঘাড় আর জলহস্তির পানিতে ডুবে থাকা — বাচ্চাদের কাছে এই দুই দৃশ্য সবচেয়ে মনে রাখার মতো। এই এলাকাটা হাঁটার দিক থেকে বেশ ছড়ানো, তাই ছায়াযুক্ত পথ ধরে ধীরে ধীরে এগোন।

হরিণ, বানর ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী
চিত্রা হরিণ এখানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকা প্রাণীদের একটি — কয়েক শ চিত্রা হরিণ একসাথে ঘুরতে দেখা যায়। বানরের খাঁচায় নানা প্রজাতির বানর, শিম্পাঞ্জি আর বেবুন রয়েছে। বানরগুলো বেশ চঞ্চল, তবে খাঁচার কাছে খাবার দেখাবেন না বা হাত বাড়াবেন না; এতে ওরা উত্তেজিত হয়। ছোট প্রাণীদের মধ্যে উদবিড়াল, ভোঁদড় জাতীয় প্রাণী আর নানা জাতের হরিণও আছে। বাচ্চারা সাধারণত এই অংশটায় সবচেয়ে বেশি সময় কাটাতে চায়।
পাখির রাজ্য: দেড় হাজারের বেশি পাখি
চিড়িয়াখানার পাখিশালায় 1,500-এর বেশি পাখি ও 60টির বেশি প্রজাতি রয়েছে বলে সরকারি হিসাবে জানা যায়। ময়ূর, উটপাখি, ইমু, ক্যাসোয়ারি, টিয়া, প্যাঁচা, শকুন, ঈগল, বক আর পানকৌড়ি — সবই এখানে আছে। শীতকালে চিড়িয়াখানার দুই লেকে পরিযায়ী পাখি আসে, তাই শীতের সকালে লেকের ধারটা পাখি দেখার জন্য বিশেষভাবে ভালো। রাতের বেলা সক্রিয় পাখি যেমন প্যাঁচা দেখতে চাইলে খাঁচার ভেতরের অন্ধকার কোণগুলোতে চোখ রাখুন।
সরীসৃপ, কুমির ও দুই লেক
সরীসৃপ বিভাগে কুমির, নানা জাতের সাপসহ 13টির মতো প্রজাতি রয়েছে। মোহনার কুমির (estuarine crocodile) এখানকার অন্যতম পরিচিত প্রাণী। চিড়িয়াখানার ভেতরে 13 হেক্টর জায়গাজুড়ে দুইটি লেক আছে — লেকের ধারে হাঁটা, বসে বিশ্রাম নেওয়া আর পাখি দেখা, এই তিনটাই এখানে করা যায়। প্রথম শুক্রবারের মৎস্য শিকারের টিকেটের ব্যবস্থা আছে, যার বিস্তারিত ফি-এর টেবিলে দেওয়া হলো।

প্রাণী জাদুঘর ও শিশু পার্ক
চিড়িয়াখানার ভেতরে একটি প্রাণী জাদুঘর আছে, যেখানে প্রায় 240 প্রজাতির স্টাফিং করা পশুপাখি সংরক্ষিত আছে বলে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়। বাচ্চাদের প্রাণীর শরীরের গঠন, আকার আর বৈচিত্র্য বোঝাতে জাদুঘরটা কাজে লাগে। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। ছোটদের জন্য শিশু পার্কে মেরি-গো-রাউন্ড আর ট্রেনের ব্যবস্থা আছে — দুপুরের দিকে বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়লে এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যায়। এছাড়া হাতি বা ঘোড়ার পিঠে চড়ার ব্যবস্থার কথা বিভিন্ন সময়ে চালু থাকে; গিয়ে সেদিনের ব্যবস্থা জেনে নিন।
প্রবেশ টিকেট, সময়সূচি ও অন্যান্য ফি
নিচের টেবিলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী টিকেট ও সময়সূচি দেওয়া হলো। সরকারি চিড়িয়াখানার ফি সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা তাদের ফেসবুক পেজে বর্তমান ফি মিলিয়ে নিন।
| সময়কাল | খোলা থাকে | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গ্রীষ্ম (এপ্রিল-অক্টোবর) | সকাল 9টা – সন্ধ্যা 6টা | সকালের দিকে ভিড় কম |
| শীত (নভেম্বর-মার্চ) | সকাল 8টা – বিকেল 5টা | কিছু তালিকায় শীতের খোলার সময় সকাল 9টা লেখা থাকে; যাওয়ার আগে মিলিয়ে নিন |
| সাপ্তাহিক বন্ধ | প্রতি রবিবার বন্ধ | রবিবার সরকারি ছুটির দিন হলে সেদিন খোলা থাকে |
| বিষয় | ফি (প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী) |
|---|---|
| প্রধান ফটক প্রবেশ টিকেট (2 বছরের বেশি বয়সী) | 50 টাকা |
| 2 বছরের কম বয়সী শিশু | বিনামূল্যে |
| শিক্ষার্থী (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে) | অর্ধেক মূল্য |
| প্রাণী জাদুঘর প্রবেশ ফি | 10 টাকা |
| শিশু পার্ক: মেরি-গো-রাউন্ড / ট্রেন | 30 টাকা / 40 টাকা |
| মৎস্য শিকার (প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার) | 2,000 টাকা |
| পিকনিক স্পট: উৎসব / নিঝুম (সারাদিন) | 10,000 টাকা / 6,000 টাকা |
| পার্কিং: বাস-ট্রাক-মিনিবাস / কার-জিপ-মাইক্রোবাস / সিএনজি-মোটরসাইকেল / রিকশা-বাইসাইকেল | 40 / 20 / 10 / 2 টাকা |
সতর্কতা: উপরের ফি-গুলো বিভিন্ন প্রকাশিত উৎস থেকে নেওয়া। পিকনিক স্পট ভাড়া বা মৎস্য শিকারের মতো বিশেষ সুবিধার জন্য আগেভাগে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
কিভাবে যাবেন: মেট্রো, বাস ও রিকশা
মেট্রোরেলে: সবচেয়ে ঝামেলাহীন উপায় হলো মেট্রোরেলে মিরপুর 10 স্টেশনে নামা। সেখান থেকে মিরপুর 1 হয়ে চিড়িয়াখানায় যেতে রিকশা, সিএনজি বা বাস পাওয়া যায়। মিরপুর 10 থেকে মিরপুর 1-এর দূরত্ব কম, তবে দুপুরের দিকে এই রুটে যানজট থাকে, তাই হাতে বাড়তি সময় রাখুন।
বাসে: ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিরপুর 1 গামী বাস চলে। মিরপুর 1-এর সনি সিনেমা হলের সামনের গোলচত্বর থেকে উত্তরের রাস্তাটা সরাসরি চিড়িয়াখানায় গেছে; সেখান থেকে রিকশা বা বাসে অল্প সময়েই গেটে পৌঁছানো যায়। গাবতলী, কল্যাণপুর, ফার্মগেট বা মতিঝিল দিক থেকে এলে মিরপুর 1-এর বাস ধরে একইভাবে যেতে পারবেন।
রিকশা, সিএনজি বা নিজের গাড়িতে: মিরপুর এলাকার ভেতর থেকে রিকশাই সবচেয়ে সহজ। দূর থেকে এলে সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং নিলে গেট পর্যন্ত সরাসরি যাওয়া যায়। নিজের গাড়ি নিয়ে গেলে পার্কিং ফি-র টেবিলটা আগেই দেখে নিন। ঢাকার বাইরে থেকে এলে সকালে রওনা দেওয়াই ভালো, কারণ মিরপুরের রাস্তায় সকাল 10টার পর থেকে চাপ বাড়তে থাকে।

ভেতরে ঘোরার অর্ধদিনের পরিকল্পনা
পুরো চিড়িয়াখানা ভালোভাবে ঘুরতে 3-4 ঘণ্টা লাগে। একটা সহজ রুট হলো: গেট দিয়ে ঢুকে প্রথমে বাঘ ও সিংহের এলাকা দেখুন (সকালে প্রাণী সক্রিয় থাকে), তারপর হাতি-জিরাফ-গন্ডারের এলাকা, এরপর পাখিশালা ও সরীসৃপ বিভাগ, লেকের ধারে কিছুক্ষণ বিশ্রাম, সবশেষে হরিণ-বানরের এলাকা আর শিশু পার্ক। এই ক্রমে হাঁটলে দুপুরের গরমে লেকের ছায়ায় বিশ্রামটা মাঝপথে পড়ে, যা বাচ্চাদের জন্য সুবিধাজনক।
দুপুরের খাবার চিড়িয়াখানার ভেতরের রেস্টুরেন্টে বা গেটের বাইরের দোকানে সেরে নিতে পারেন। চাইলে সকাল 9টায় ঢুকে দুপুর 1টার মধ্যে মূল অংশ শেষ করে বেরিয়ে আসুন, আর বিকেলটা পাশের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে কাটান — তবে মনে রাখবেন, উদ্ভিদ উদ্যানের টিকেট আলাদা এবং সেখানকার সময়সূচিও আলাদা। একদিনে দুই জায়গা মিলিয়ে ঘুরতে চাইলে সকাল সকাল বের হওয়া জরুরি। ঢাকার অন্য পার্কের সঙ্গে তুলনা করতে চাইলে চন্দ্রিমা উদ্যান আর বন্যপ্রাণীর গভীর অভিজ্ঞতার জন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ গাইডটাও দেখতে পারেন।
কোথায় খাবেন
চিড়িয়াখানার ভেতরে পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত ময়ূরী ও ঈগল নামে দুইটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া চিড়িয়াখানার ভেতরে কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা আছে। গেটের সামনেও বেশ কিছু খাবারের দোকান আছে।
বাস্তব পরামর্শ: সকালে বের হওয়ার আগে বাড়ি থেকে নাশতা সেরে যান; ভেতরে দুপুরের খাবার খান; বেরিয়ে মিরপুর 1 এলাকায় বিকেলের নাশতা সারতে পারেন। বাচ্চাদের জন্য পানি, হালকা শুকনো খাবার আর টিস্যু সঙ্গে রাখুন — ভেতরে সব জায়গায় দোকান পাওয়া যায় না। বাইরের দোকানে খাওয়ার আগে দাম জিজ্ঞেস করে নিন, কারণ ছুটির দিনে কিছু দোকানে দাম বেশি চাওয়া হয়।
কোথায় থাকবেন: ডে-ট্রিপের হিসাব
ঢাকার ভেতর থেকে গেলে থাকার দরকার নেই — এটি পুরোপুরি একটি ডে-ট্রিপের গন্তব্য। ঢাকার বাইরে থেকে এলে মিরপুর 10, কাজীপাড়া বা মিরপুর 1 এলাকার হোটেলে থাকা সুবিধাজনক, কারণ সেখান থেকে সকালে চিড়িয়াখানায় পৌঁছাতে কম সময় লাগে। হোটেল ভাড়া মৌসুম ও সুবিধাভেদে অনেক বদলায়, তাই কোনো নির্দিষ্ট দাম এখানে লেখা হলো না — বুকিংয়ের আগে হোটেলের অফিসিয়াল পেজ বা নির্ভরযোগ্য বুকিং প্ল্যাটফর্মে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নিন। একদিনের বেশি ঢাকায় থাকলে চিড়িয়াখানার সঙ্গে মিরপুরের অন্য জায়গাগুলো মিলিয়ে পরিকল্পনা সাজান।

টিপস ও সতর্কতা
- সকাল সকাল যান: গেট খোলার সময় ঢুকলে প্রাণী সক্রিয় থাকে, ভিড় কম থাকে, আর ছবিও ভালো আসে। শুক্রবার ও ছুটির দিনে দুপুরের পর ভিড় অনেক বেড়ে যায়।
- রবিবার যাবেন না: প্রতি রবিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে, শুধু রবিবার সরকারি ছুটির দিন হলে খোলা থাকে।
- প্রাণীকে খাবার দেবেন না: নিজের খাবার খাঁচার ভেতরে ছুড়ে দেওয়া প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর এবং অনেক জায়গায় নিষিদ্ধ। বানরের খাঁচার কাছে ব্যাগ, চশমা আর মোবাইল সাবধানে রাখুন।
- পানি ও ছাতা সঙ্গে রাখুন: গ্রীষ্মে ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে পানির তৃষ্ণা পায়; ছাতা বা টুপি, আরামদায়ক জুতা আর পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
- বাচ্চাদের হাত ধরে রাখুন: ভিড়ের দিনে বাচ্চা হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হাত ধরে রাখুন, আর গেটের কাছে দেখা করার একটা জায়গা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
- ছবি তোলার নিয়ম মানুন: ফ্ল্যাশ দিয়ে প্রাণীর ছবি তুলবেন না; কিছু এলাকায় ছবি তোলার বিশেষ নিয়ম থাকতে পারে, সাইনবোর্ড দেখে নিন।
- পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন: প্লাস্টিক, প্যাকেট বা খাবারের উচ্ছিষ্ট যেখানে-সেখানে ফেলবেন না; নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার করুন।
- ফি যাচাই করুন: টিকেট, জাদুঘর বা পিকনিক স্পটের ফি বদলাতে পারে — যাওয়ার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন।
যোগাযোগ ও অফিসিয়াল তথ্যের জন্য: বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, জু রোড, মিরপুর 1, ঢাকা 1216। বিস্তারিত তথ্য ও নোটিশের জন্য চিড়িয়াখানার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা সম্পর্কে উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কোথায় অবস্থিত?
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুর 1 এলাকায়, জু রোডে অবস্থিত (ঢাকা 1216)। মেট্রোরেলে মিরপুর 10 স্টেশনে নেমে মিরপুর 1 হয়ে রিকশা বা বাসে সহজে যাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে এটি মিরপুর চিড়িয়াখানা নামেই বেশি পরিচিত।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কবে খোলা আর কবে বন্ধ থাকে?
চিড়িয়াখানা গ্রীষ্মে (এপ্রিল-অক্টোবর) সকাল 9টা থেকে সন্ধ্যা 6টা এবং শীতে (নভেম্বর-মার্চ) সকাল 8টা থেকে বিকেল 5টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতি রবিবার বন্ধ থাকে, তবে রবিবার সরকারি ছুটির দিন হলে সেদিন খোলা থাকে।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রবেশ টিকেট কত?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রধান ফটকের প্রবেশ টিকেট 2 বছরের বেশি বয়সীদের জন্য 50 টাকা; 2 বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখিয়ে অর্ধেক মূল্যে ঢুকতে পারেন। প্রাণী জাদুঘরের জন্য আলাদা 10 টাকা ফি দিতে হয়।
চিড়িয়াখানায় কী কী প্রাণী দেখা যায়?
এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, হাতি, জিরাফ, গন্ডার, জলহস্তি, জেব্রা, চিত্রা হরিণ, নানা জাতের বানর, 1,500-এর বেশি পাখি, কুমির আর সাপ দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ বাঘের এলাকা, পাখিশালা আর লেকের ধারের পরিবেশ।
পরিবার ও ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় যাওয়া কি ভালো?
হ্যাঁ, পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য এটি ঢাকার অন্যতম সহজ গন্তব্য। সকালের দিকে গেলে ভিড় কম থাকে, বাচ্চারা শিশু পার্কে খেলতে পারে আর লেকের ধারে বিশ্রাম নেওয়া যায়। তবে ছুটির দিনের ভিড়ে বাচ্চাদের হাত ধরে রাখুন এবং পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন।
ঢাকা থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানায় কিভাবে যাবেন?
মেট্রোরেলে মিরপুর 10 স্টেশনে নেমে মিরপুর 1 হয়ে রিকশা বা বাসে চিড়িয়াখানায় যাওয়া সবচেয়ে সহজ। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিরপুর 1 গামী বাসেও যাওয়া যায়; মিরপুর 1-এর গোলচত্বর থেকে উত্তরের রাস্তাটা সরাসরি চিড়িয়াখানায় গেছে।
