⚠️ জরুরি নোট: টিকিটের নিয়ম ও ভাড়া বদলাতে পারে। বুকিংয়ের আগে eticket.railway.gov.bd-তে হালনাগাদ তথ্য দেখে নিন।

সংক্ষেপে জানুন

  • অফিসিয়াল বুকিং: eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট ও রেল সেবা অ্যাপ।
  • যাত্রার ১০ দিন আগে পর্যন্ত অনলাইন টিকিট পাওয়া যায়।
  • পেমেন্ট: বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড।
  • এক অ্যাকাউন্টে একবারে ৪টি টিকিট কাটা যায়।
  • কাউন্টারেও টিকিট পাওয়া যায় — তবে ঈদের সময় অনলাইনেই ভরসা।

সূচিপত্র

অনলাইনে টিকিট কেন কাটবেন

আগে ট্রেনের টিকিট মানেই ছিল স্টেশনে লম্বা লাইন। এখন বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় ঘরে বসেই টিকিট কাটা যায়। ঈদ, পূজা বা লম্বা ছুটির সময় জনপ্রিয় রুটের টিকিট মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায় — অনলাইনে আগে কাটাই একমাত্র ভরসা। অনলাইন টিকিটে সিট নম্বর আগেই জানা যায়, কাউন্টারের ভিড় এড়ানো যায়, আর পেমেন্টও নিরাপদ।

কোথা থেকে টিকিট কাটবেন

  • ওয়েবসাইট: eticket.railway.gov.bd — বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট পোর্টাল।
  • মোবাইল অ্যাপ: রেল সেবা (Rail Sheba) অ্যাপ — অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে পাওয়া যায়।
  • সতর্কতা: অফিসিয়াল সাইট ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটবেন না — প্রতারণার ঝুঁকি আছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেন
বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেন (প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি)। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (Mahbubur, CC BY-SA 4.0)

অ্যাকাউন্ট খোলার ধাপ

  1. eticket.railway.gov.bd-তে গিয়ে “Register” এ ক্লিক করুন।
  2. নাম, মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নম্বর দিন।
  3. মোবাইলে আসা OTP দিয়ে নম্বর যাচাই করুন।
  4. পাসওয়ার্ড সেট করুন — অ্যাকাউন্ট তৈরি।
  5. প্রথম লগইনে প্রোফাইল তথ্য (ঠিকানা) পূরণ করে নিন।

মনে রাখবেন, টিকিট কাটার সময় যাত্রীর নাম এনআইডি অনুযায়ী দিতে হয় — টিকিট চেকার পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে পারে।

টিকিট বুকিংয়ের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

  1. লগইন করে From (যাত্রা শুরু) ও To (গন্তব্য) স্টেশন বেছে নিন।
  2. যাত্রার তারিখ দিন — ১০ দিন আগে পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যায়।
  3. ট্রেনের তালিকা থেকে পছন্দের ট্রেন ও শ্রেণি (শোভন/শোভন চেয়ার/স্নিগ্ধা/এসি) বেছে নিন।
  4. সিট ম্যাপ থেকে খালি সিট বেছে নিন — সবুজ মানে খালি।
  5. যাত্রীর নাম ও মোবাইল নম্বর দিন।
  6. পেমেন্ট করুন — সফল হলে টিকিটের PDF ও SMS পাবেন।
  7. টিকিটের PDF প্রিন্ট বা ফোনে সেভ রাখুন — যাত্রার দিন দেখাতে হবে।

পেমেন্ট মাধ্যম

মাধ্যম বিস্তারিত
বিকাশসবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম
নগদচালু আছে
রকেটচালু আছে
ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডভিসা, মাস্টারকার্ড
বাংলাদেশ রেলওয়ে
বাংলাদেশ রেলওয়ে (প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি)। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (Frameofashik, CC BY-SA 4.0)

রিফান্ড ও ক্যানসেল নীতি

  • যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা আগে ক্যানসেল করলে সার্ভিস চার্জ বাদে পুরো টাকা ফেরত পাবেন।
  • ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে ক্যানসেলে ২৫% কাটা যায়।
  • ১২–২৪ ঘণ্টা আগে ক্যানসেলে ৫০% কাটা যায়।
  • ১২ ঘণ্টার কম সময়ে ক্যানসেলে রিফান্ড পাওয়া যায় না।
  • রিফান্ড পেমেন্টের মাধ্যমেই ফেরত আসে — ৭–১০ কর্মদিবস লাগতে পারে।

কাউন্টার থেকে টিকিট

  • প্রতিটি বড় স্টেশনে টিকিট কাউন্টার আছে — কমলাপুর, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সব জংশনে।
  • কাউন্টারেও যাত্রার ১০ দিন আগে পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট পাওয়া যায়।
  • সকালের ভিড় এড়াতে দুপুরের দিকে যান।
  • এনআইডি সঙ্গে রাখুন — আন্তঃনগর টিকিটে যাত্রীর নাম লেখা থাকে।

সফল বুকিংয়ের টিপস

  • ঈদের টিকিট ছাড়ার দিন সকাল ৮টার আগেই লগইন করে থাকুন — সার্ভার ব্যস্ত থাকে।
  • এক অ্যাকাউন্টে একবারে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কাটা যায়।
  • পেমেন্টের সময় ইন্টারনেট স্থিতিশীল রাখুন — মাঝপথে কেটে গেলে টাকা আটকে যেতে পারে (পরে রিফান্ড আসে)।
  • ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস জানতে TR লিখে ট্রেন নম্বর 16318 নম্বরে SMS করুন।
  • যাত্রার দিন স্টেশনে অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছান।

ঢাকার জনপ্রিয় রুট: ঢাকা–নরসিংদী ট্রেন | ঢাকা–জয়দেবপুর ট্রেন | বাসে: ঢাকা–কক্সবাজার বাস।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কত দিন আগে টিকিট কাটা যায়?

যাত্রার ১০ দিন আগে পর্যন্ত।

এক অ্যাকাউন্টে কয়টি টিকিট কাটা যায়?

একবারে সর্বোচ্চ ৪টি।

টিকিট ক্যানসেল করলে টাকা ফেরত পাব?

৪৮ ঘণ্টা আগে ক্যানসেলে সার্ভিস চার্জ বাদে পুরো টাকা ফেরত।

পেমেন্টের কী কী মাধ্যম আছে?

বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড।

টিকিট ছাড়া কি ট্রেনে ওঠা যায়?

না — টিকিট ছাড়া ভ্রমণে জরিমানা হয়।

অফিসিয়াল বুকিং সাইট কোনটি?

eticket.railway.gov.bd।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top