বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: এক নজরে

ময়মনসিংহ শহর থেকে ~৪ কিমি দক্ষিণে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম তীরে ১,২০০ একর সবুজে ছাওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) — দেশের আয়তনে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাম্পাস, যার পরিচিতি “প্রকৃতিকন্যা” নামেও। ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা করা এই প্রতিষ্ঠান দেশের প্রথম বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। বাউ ধান-৩ থেকে ইলিশ ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জিন-গবেষণা — দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অনেক মাইলফলকের ঠিকানা এই ক্যাম্পাস। ভর্তি ও অনুষদ-ভিত্তিক তথ্যের জন্য আমাদের বাকৃবি ভর্তি ও ক্যাম্পাস গাইডটি দেখুন; এই লেখায় মূলত ক্যাম্পাস ভ্রমণের দিকটি তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, ময়মনসিংহ
বাকৃবির প্রধান ফটক। ছবি: Wasiul Bahar, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইতিহাস ও পরিচিতি

নীতিবাক্য “জ্ঞান, দক্ষতা, চরিত্র” নিয়ে বাকৃবিতে বর্তমানে প্রায় ৮,০০০ শিক্ষার্থী ও ৪৪টি বিভাগ চালু আছে — কৃষি, পশুচিকিৎসা, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি, কৃষি প্রকৌশল ও মৎস্যবিজ্ঞানসহ কৃষিবিজ্ঞানের প্রায় সব শাখা এখানে পড়ানো ও গবেষণা হয়। দুর্ভিক্ষ মোকাবেলা থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার লড়াইয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরাই মাঠ পর্যায়ে কৃষিকে বদলে দিয়েছেন — সেই ইতিহাস ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভ আর পুরনো ভবনগুলোতে আজও জীবন্ত। অফিসিয়াল তথ্য: bau.edu.bd।

ক্যাম্পাসে যা দেখবেন

বোটানিক্যাল গার্ডেন: শত শত প্রজাতির গাছের সংগ্রহশালা — উদ্ভিদপ্রেমী ও শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার খোলা পাঠশালা; আলাদা করে আমাদের বোটানিক্যাল গার্ডেন গাইডে বিস্তারিত আছে। মৎস্য জাদুঘর: মৎস্য অনুষদের জাদুঘরে দেশি মাছের বিশাল সংরক্ষিত সংগ্রহ — শিক্ষা সফরের দলগুলোর নিয়মিত গন্তব্য (পরিদর্শনের সময়সূচি কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে নিন)। ব্রহ্মপুত্রের পাড়: ক্যাম্পাসের পূর্ব প্রান্তের নদীতীরে বিকেলের হাঁটা ময়মনসিংহবাসীর প্রিয় আড্ডা। গবেষণা খামার ও ফসলের মাঠ: ঋতুভেদে বদলে যাওয়া সারিবদ্ধ ক্ষেত, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খামার — শহুরে দর্শনার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আলাদা অভিজ্ঞতা। স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ মিনার: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী স্থাপনা, শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা।

বাকৃবির গবেষণা ক্ষেতে কৃষিশ্রমিক, ময়মনসিংহ
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ক্ষেতে কাজ চলছে। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

কিভাবে যাবেন

ময়মনসিংহ শহর থেকে: টাউন হল/গাঙ্গিনার পাড় থেকে অটো-রিকশায় ক্যাম্পাস গেট ~৪ কিমি। ঢাকা থেকে: ট্রেনে ময়মনসিংহ (সময়সূচি আমাদের সাইটে আছে) অথবা বাসে; স্টেশন/বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোতে ক্যাম্পাস। দর্শনার্থীদের জন্য: ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো সাধারণের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত — তবে এটি একটি সক্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: পরীক্ষার সময় ও ভর্তি মৌসুমে ব্যস্ততা বেশি থাকে, গবেষণা খামার ও ল্যাবে অনুমতি ছাড়া ঢোকা যায় না। শিক্ষা সফরে গেলে আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন। ময়মনসিংহের আরও জায়গার জন্য টাউন হলের গাইডটিও দেখতে পারেন।

টিপস

  • বিকেল–সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস সবচেয়ে প্রাণবন্ত; ভোরে গেলে পাখির ডাক আর নির্জন সবুজ উপভোগ করা যায়।
  • বর্ষায় ক্যাম্পাস অপরূপ, তবে খামারের মাটির পথে কাদা থাকে — উপযুক্ত জুতা নিন।
  • সাইকেল থাকলে পুরো ১,২০০ একর ঘোরা সহজ; হেঁটে দেখলে অন্তত ২–৩ ঘণ্টা হাতে রাখুন।
  • ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখুন — গবেষণা ক্ষেতের ফসল ও গাছে হাত দেবেন না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৮ আগস্ট ১৯৬১ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) — দেশের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাকৃবি ক্যাম্পাস কত বড়?

১,২০০ একর — আয়তনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাম্পাস, পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম তীরে।

সাধারণ দর্শনার্থী কি ক্যাম্পাসে ঘুরতে পারে?

প্রধান সড়ক ও উন্মুক্ত জায়গা ঘোরা যায়; ল্যাব ও গবেষণা খামারে অনুমতি লাগে।

ক্যাম্পাসে দেখার মতো কি আছে?

বোটানিক্যাল গার্ডেন, মৎস্য জাদুঘর, ব্রহ্মপুত্রের পাড়, গবেষণা খামার ও স্মৃতিস্তম্ভ।

ভর্তির তথ্য কোথায় পাবো?

আমাদের বাকৃবি ভর্তি গাইডে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সাইট bau.edu.bd-তে।

ময়মনসিংহ শহর থেকে কত দূর?

প্রায় ৪ কিমি দক্ষিণে — অটো-রিকশায় সহজে যাওয়া যায়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top