বেলস পার্ক: এক নজরে

খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে, রূপসা নদীর তীরে খুলনার সবচেয়ে পুরনো উদ্যানগুলোর একটি — বেলস পার্ক। বিভাগীয় প্রশাসনের ভবনসমূহ ও সার্কিট হাউসের কাছাকাছি এই সবুজ চত্বর ব্রিটিশ আমল থেকে খুলনাবাসীর প্রাতর্ভ্রমণ, বিকেলের আড্ডা আর পারিবারিক অবসরের ঠিকানা। প্রচলিত ধারণা, পার্কটির নামকরণ তৎকালীন ব্রিটিশ জেলা কর্মকর্তা বেল সাহেবের নামে। শতবর্ষী ছায়াদার গাছ, নদীর হাওয়া আর খোলা মাঠের সমন্বয়ে বেলস পার্ক শহরের ঘনবসতির মাঝে এখনো সবচেয়ে সহজলভ্য শ্বাস-প্রশ্বাসের জায়গা।

বেলস পার্কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রূপসা নদী, খুলনা
পার্কের পাশের রূপসা নদী। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কি দেখবেন ও করবেন

নদীপাড়ের হাওয়া ও দৃশ্য: পার্কের সবচেয়ে বড় সম্পদ এর অবস্থান — রূপসার বিস্তীর্ণ জলরাশি, যাওয়া-আসা করা নৌকা-লঞ্চ আর ওপারের দিগন্ত। বিকেলের শেষ আলোয় নদীর ধারে বসে থাকাটাই এখানকার প্রধান অভিজ্ঞতা।

প্রাতর্ভ্রমণ ও ব্যায়াম: ভোরে পার্ক ভরে ওঠে হাঁটার দল, যোগব্যায়াম আর বয়স্কদের আড্ডায় — খুলনার সকালের স্বাস্থ্য-সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু এই পার্ক।

শতবর্ষী গাছের ছায়া: বিশাল ছায়াদার গাছগুলো পার্কের ঐতিহ্যের সাক্ষী; দুপুরের রোদেও এখানে ঠান্ডা ছায়া মেলে — বই পড়া বা ঝিমানোর জন্য আদর্শ কোণ।

শিশুদের খেলা ও পারিবারিক বিকেল: খোলা মাঠ ও শিশুদের খেলার জায়গায় বিকেলে পরিবারের ভিড় জমে; স্কুল ছুটির পর এলাকার ছেলেমেয়েদের ক্রিকেট-ফুটবল চলে মাঠে।

ছবি তোলা: নদী, পুরনো গাছ আর শহরের স্কাইলাইনের কম্বিনেশনে বেলস পার্ক ফটোগ্রাফারদের প্রিয় — বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময়।

রূপসা ঘাট, খুলনা — বেলস পার্কের কাছের নদীতীর
কাছাকাছি রূপসা ঘাটের নদীতীর। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ব্যবহারিক তথ্য

বিষয় তথ্য
প্রবেশসবার জন্য উন্মুক্ত (পাবলিক পার্ক, প্রবেশ ফ্রি)
সেরা সময়ভোরে প্রাতর্ভ্রমণ; বিকেল ৪টা–সন্ধ্যা পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য
অবস্থানখুলনা সদর, রূপসা নদীর তীরে — সার্কিট হাউস/বিভাগীয় প্রশাসন এলাকার পাশে

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে খুলনা: বাসে (বিস্তারিত ঢাকা–খুলনা বাস গাইডে) অথবা ট্রেনে জেসোর/খুলনা। শহরের ভেতরে: যেকোনো প্রান্ত থেকে রিকশা/অটোতে “বেলস পার্ক” বললেই চলবে — ডাকবাংলা-জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে হাঁটা দূরত্ব। একই ট্রিপে কাছের খুলনা জিরো পয়েন্ট ও রূপসা সেতু (খান জাহান আলী সেতু) দেখে নেওয়া যায়। শহরের আরেক ঐতিহ্যবাহী উদ্যান হাদিস পার্কও অদূরে। জেলা তথ্য: খুলনা জেলা প্রশাসন ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন।

খাবার ও আশপাশে

পার্কের বাইরে ফেরিওয়ালাদের চা-ফুচকা-ঝালমুড়ির স্টল বিকেলে বসে; পূর্ণাঙ্গ খাবারের জন্য ডাকবাংলা মোড় ও জিরো পয়েন্ট এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্ট (খুলনার বিখ্যাত চিংড়ি-ইলিশের পদ চেখে দেখতে ভুলবেন না)। রাতে পার্কের পরিবেশ শান্ত থাকে — তবে অন্ধকারে নির্জন কোণ এড়িয়ে চলুন।

টিপস ও সতর্কতা

  • নদীর ধারের রেলিং/ঢলে শিশুদের একা ছাড়বেন না — নদীর পাড় কোথাও কোথাও খাড়া।
  • সন্ধ্যার পর পার্কে আলো সীমিত — পরিবার নিয়ে গেলে সূর্যাস্তের আগেই ফেরার পরিকল্পনা রাখুন।
  • জুমার দিন ও ছুটির বিকেলে ভিড় বেশি থাকে — নিরিবিলি চাইলে সপ্তাহের দিনের ভোর বেছে নিন।
  • পার্ক পরিষ্কার রাখুন — এটি শহরের ঐতিহ্য, স্থানীয়দের আবেগের জায়গা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বেলস পার্ক কোথায়?

খুলনা শহরের কেন্দ্রে, রূপসা নদীর তীরে — সার্কিট হাউস/বিভাগীয় প্রশাসন এলাকার পাশে, শহরের অন্যতম প্রাচীন পার্ক।

বেলস পার্ক নাম কেন?

প্রচলিত ধারণা — ব্রিটিশ আমলের জেলা কর্মকর্তা বেল সাহেবের নামে এই পার্কের নামকরণ।

বেলস পার্কে প্রবেশ ফি আছে?

না — এটি সবার জন্য উন্মুক্ত পাবলিক পার্ক।

পার্কে যাওয়ার সেরা সময় কখন?

প্রাতর্ভ্রমণের জন্য ভোরে, আর পরিবার নিয়ে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা — নদীর হাওয়া ও সূর্যাস্তের জন্য।

বেলস পার্কের আশেপাশে আর কি দেখব?

রূপসা নদী ও ঘাট, খুলনা জিরো পয়েন্ট, হাদিস পার্ক এবং রূপসা সেতু।

ঢাকা থেকে খুলনা যাবো কীভাবে?

বাসে সরাসরি খুলনা (৬–৭ ঘণ্টা) অথবা ট্রেনে; শহরে নেমে রিকশা-অটোতে বেলস পার্ক।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top