ঢাকার কোলাহল আর যানজট থেকে একটু দূরে, গুলশান লেকের শান্ত জলের পাশে বসে এক কাপ গরম কফি — এমন মুহূর্তের খোঁজে অনেকেরই গন্তব্য এখন বেরানিয়ে লেক শোর ক্যাফে (Beranie Lake Shore Cafe)। গুলশান লেকের পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ক্যাফেটি শহরের মাঝেও প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে চাওয়া মানুষদের কাছে প্রিয় ঠিকানা হয়ে উঠেছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবার নিয়ে বিকেল কাটানো কিংবা একা নিরিবিলি বসে থাকা — সব ধরনের অবসর সময়ের জন্যই জায়গাটি মানানসই। এই লেখায় ক্যাফেটির অবস্থান, পরিবেশ, মেনু, আনুমানিক খরচ, যাওয়ার উপায়, সেরা সময় ও ভ্রমণ টিপস নিয়ে বিস্তারিত জানানো হলো।

সংক্ষেপে

  • গুলশান লেকের পাড়ে অবস্থিত লেকসাইড ক্যাফে — শহরের ভেতরেও শান্ত ও মনোরম পরিবেশ
  • লেকমুখী খোলা বসার ব্যবস্থা; পাশাপাশি ইনডোর সিটিংও রয়েছে
  • কফি, চা, ফ্রেশ জুস, শেক, স্ন্যাকস ও হালকা খাবারের মেনু (বিস্তারিত নিচে টেবিলে)
  • বিকেল থেকে সন্ধ্যা — লেকের পাড়ে বসে সময় কাটানোর সেরা সময়
  • বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক ঘোরাঘুরি বা নিরিবিলি মুহূর্ত — সবকিছুর জন্য উপযোগী

সূচিপত্র

অবস্থান ও পরিচিতি

বেরানিয়ে লেক শোর ক্যাফে ঢাকার গুলশান এলাকায়, গুলশান লেকের পাড়ে অবস্থিত।

গুলশান লেক ঢাকার অন্যতম পরিচিত জলাশয়। এর পাড় ধরে হাঁটার পথ আর সবুজ পরিবেশ এলাকাটিকে শহরের অন্যান্য অংশ থেকে আলাদা করেছে। ক্যাফেটি লেকের একেবারে কিনারে হওয়ায় বসার জায়গা থেকে সরাসরি জলের দৃশ্য দেখা যায়। গুলশান, বনানী ও বারিধারা থেকে এখানে পৌঁছানো সহজ, ফলে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এটি নিয়মিত আড্ডার জায়গা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

গুলশান লেক, ঢাকা
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (Jubair1985, CC BY-SA 4.0) — গুলশান লেক

ক্যাফেটি মূলত লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করেই সাজানো — কৃত্রিম জাঁকজমকের বদলে এখানে প্রাধান্য পেয়েছে খোলামেলা বসার জায়গা আর লেকের দৃশ্য।

পরিবেশ ও বসার ব্যবস্থা

ক্যাফেটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর খোলামেলা লেকমুখী পরিবেশ।

লেকের দিকে মুখ করে সাজানো আউটডোর ডেকে বসে জলের ওপর বিকেলের আলো আর সন্ধ্যার বাতাস উপভোগ করা যায়। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় জায়গাটি আরও মনোরম হয়ে ওঠে। যারা রোদ বা বৃষ্টি এড়াতে চান, তাদের জন্য ইনডোর বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। সপ্তাহান্তে ও সন্ধ্যায় ভিড় বেশি থাকে, তাই আগে পৌঁছালে লেকের ধারের ভালো সিট পাওয়া সহজ হয়।

ক্যাফেটির মেনুতে রয়েছে কফি, চা, ফ্রেশ জুস, শেক, স্ন্যাকস, হালকা খাবার ও ডেজার্ট।

ভারী খাবারের বদলে এখানে প্রাধান্য পেয়েছে ক্যাফে-ধাঁচের হালকা মেনু — আড্ডার ফাঁকে খাওয়ার উপযোগী আইটেমই বেশি। জনপ্রিয় আইটেম ও আনুমানিক দামের একটি ধারণা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো।

ধরন জনপ্রিয় আইটেম দাম (আনুমানিক)
কফি এসপ্রেসো, ক্যাপুচিনো, ক্যাফে ল্যাটে, কোল্ড কফি 150–350 টাকা
চা ও গরম পানীয় দুধ চা, গ্রিন টি, হট চকলেট 80–200 টাকা
জুস ও শেক ফ্রেশ ফলের জুস, মিল্কশেক, স্মুদি 150–300 টাকা
স্ন্যাকস ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নাচোস, চিকেন উইংস 180–400 টাকা
হালকা খাবার স্যান্ডউইচ, বার্গার, পাস্তা, চাউমিন 250–500 টাকা
ডেজার্ট কেক, ব্রাউনি, আইসক্রিম 150–350 টাকা

উপরের দামগুলো আনুমানিক — মেনু ও দাম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই অর্ডারের আগে কাউন্টারে হালনাগাদ দাম যাচাই করে নিন।

খরচ

দুজনের জন্য কফি ও হালকা স্ন্যাকসসহ আনুমানিক খরচ 500 থেকে 1,000 টাকা।

দল বড় হলে বা বেশি আইটেম নিলে খরচ বাড়বে। পরিকল্পনার সুবিধার জন্য একটি আনুমানিক হিসাব নিচে দেওয়া হলো।

খাত আনুমানিক খরচ
এক কাপ কফি 150–350 টাকা
দুজনের কফি ও স্ন্যাকস 500–1,000 টাকা
চারজনের আড্ডা (খাবারসহ) 1,200–2,500 টাকা
যাতায়াত (রাইড শেয়ারিং, দূরত্বভেদে) 150–400 টাকা

সব দাম আনুমানিক — ভ্রমণের আগে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়াই ভালো।

কিভাবে পৌঁছাবেন

গুলশান এলাকায় হওয়ায় ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে রাইড শেয়ারিং, সিএনজি বা নিজস্ব গাড়িতে ক্যাফেটিতে পৌঁছানো যায়।

  • রাইড শেয়ারিং (উবার/পাঠাও): গন্তব্য হিসেবে “Beranie Lake Shore Cafe, Gulshan” লিখুন — সবচেয়ে ঝামেলাহীন উপায়। গুগল ম্যাপে অবস্থান দেখুন
  • সিএনজি/রিকশা: গুলশান, বনানী বা মহাখালী থেকে সরাসরি যাওয়া যায়
  • নিজস্ব গাড়ি: গুলশান লেক সংলগ্ন সড়ক ধরে এগোলেই ক্যাফে; পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে জেনে নিন
  • বাস: গুলশানগামী বাসে নেমে সেখান থেকে রিকশা বা হেঁটে যাওয়া যায়

ঢাকার আরেকটি জনপ্রিয় লেককেন্দ্রিক ঘোরার জায়গা সম্পর্কে জানতে পড়ুন হাতিরঝিল ভ্রমণ গাইড।

সেরা সময়

বিকেল 4টা থেকে সন্ধ্যা 7টা — লেকের পাড়ে বসার সবচেয়ে সুন্দর সময়।

এই সময়ে লেকের জলে সূর্যাস্তের আলো পড়ে, বাতাসে ঠান্ডা ভাব থাকে আর ক্যাফের আলোকসজ্জা জ্বলে ওঠে। অক্টোবর থেকে মার্চ — শীতের মৌসুমে আবহাওয়া সবচেয়ে মনোরম থাকে। দুপুরের কড়া রোদে আউটডোরে বসা কষ্টকর হতে পারে, তাই বিকেলের পর যাওয়াই ভালো।

রাতের গুলশান লেক
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (S.M.M.Musabbir Uddin, CC BY-SA 4.0) — রাতের গুলশান লেক

লেকের পাড়ে সন্ধ্যার আড্ডার আরেকটি ঠিকানা দিয়াবাড়ি লেক — বিস্তারিত জানতে পড়ুন।

যোগাযোগ

ক্যাফেটির যাচাইকৃত ফোন নম্বর অনলাইনে পাওয়া যায়নি; ঠিকানা নিচে দেওয়া হলো।

  • ঠিকানা: গুলশান লেকের পাড়, গুলশান, ঢাকা

যাওয়ার আগে গুগল ম্যাপে অবস্থান দেখে নিন। ঢাকার আরও খাবারের ঠিকানার খোঁজে দেখুন নকশী পল্লী রেস্টুরেন্ট।

ভ্রমণ টিপস

ছুটির দিনে আগে পৌঁছান, দাম যাচাই করে অর্ডার করুন আর লেকের পাড় পরিষ্কার রাখুন — তাহলেই ঘোরাটা উপভোগ্য হবে।

  • শুক্রবার ও ছুটির দিনে সন্ধ্যায় ভিড় বেশি থাকে; ভালো সিটের জন্য বিকেলেই পৌঁছান
  • সন্ধ্যায় লেকের পাড়ে মশা থাকতে পারে — প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যান
  • অর্ডারের আগে মেনুর হালনাগাদ দাম জেনে নিন
  • প্লাস্টিক বা ময়লা লেকে বা পাড়ে ফেলবেন না
  • সানসেটের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা বা ফোন প্রস্তুত রাখুন
  • গুলশান লেকের আরও ছবি দেখুন উইকিমিডিয়া কমন্সে

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বেরানিয়ে লেক শোর ক্যাফে কোথায় অবস্থিত?

ক্যাফেটি ঢাকার গুলশান এলাকায়, গুলশান লেকের পাড়ে অবস্থিত। গুলশান, বনানী ও বারিধারা থেকে এখানে সহজে যাওয়া যায়।

ক্যাফেতে যাওয়ার সেরা সময় কখন?

বিকেল 4টা থেকে সন্ধ্যা 7টা যাওয়ার সেরা সময়। এই সময়ে লেকের ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যায় এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে আবহাওয়া সবচেয়ে ভালো থাকে।

এখানে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়?

মেনুতে রয়েছে কফি, চা, ফ্রেশ জুস, শেক, স্ন্যাকস, স্যান্ডউইচ-বার্গারের মতো হালকা খাবার ও ডেজার্ট। ভারী খাবারের বদলে ক্যাফে-ধাঁচের হালকা আইটেমই বেশি।

দুজনের আনুমানিক খরচ কত হবে?

দুজনের জন্য কফি ও হালকা স্ন্যাকসসহ আনুমানিক খরচ 500 থেকে 1,000 টাকা। দাম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই অর্ডারের আগে যাচাই করে নিন।

পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে যাওয়া যাবে কি?

হ্যাঁ। লেকমুখী খোলা বসার ব্যবস্থা ও ইনডোর সিটিং থাকায় বন্ধুদের আড্ডা, পারিবারিক ঘোরাঘুরি বা নিরিবিলি সময় কাটানো — সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী।

আগে থেকে বুকিং দিতে হয় কি?

সাধারণত বুকিং ছাড়াই যাওয়া যায়। তবে ছুটির দিনে বা বড় দল নিয়ে গেলে আগে যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top