এই গাইডে যা আছে:
ভারতের কলকাতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে Dhaka to Kolkata bus schedule নিয়ে যাদের প্রশ্ন—কোন বাসে যাবেন, ভাড়া কত, কতক্ষণ লাগবে, ভিসা লাগবে কিনা—তাদের জন্য এই পোস্টে সময়সূচি, ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়মসহ সব দরকারি তথ্য একসাথে দিলাম। ঢাকা থেকে কলকাতার সড়ক দূরত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার, আর বাসে পৌঁছাতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা (সীমান্ত পারাপারসহ)। এই রুটে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, দেশ ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন অপারেটরের বাস চলাচল করে। ঢাকা থেকে অন্য দূরপাল্লার রুটের খোঁজে থাকলে ঢাকা থেকে খুলনা বাসের সময়সূচি ও ভাড়া পোস্টটিও দেখতে পারেন।
সংক্ষেপে জানুন:
- দূরত্ব: প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার (সড়কপথে, বেনাপোল হয়ে)
- যাত্রার সময়: ১০–১২ ঘণ্টা (ইমিগ্রেশনসহ)
- নন-এসি ভাড়া: ১,০০০–১,৫০০ টাকা (আনুমানিক)
- এসি ভাড়া: ১,৫০০–২,১০০ টাকা (আনুমানিক)
- অপারেটর: শ্যামলী, গ্রিন লাইন, দেশ ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন অপারেটর
- বাস ছাড়ে: ঢাকা আরামবাগ ও কমলাপুর থেকে সকাল-রাত
রুট পরিচিতি
ঢাকা থেকে কলকাতার বাস যশোর–বেনাপোল হয়ে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত পার হয়ে কলকাতা পৌঁছায়—পুরো পথ প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী; ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ ও কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত। এই রুটে বাসে যেতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা (দুই দেশের ইমিগ্রেশনসহ)।
এই রুটে যাওয়ার জন্য বৈধ পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভিসা বাধ্যতামূলক। ঢাকা থেকে সিলেটের দিকেও বাস চলে—বিস্তারিত ঢাকা থেকে সিলেট বাসের সময়সূচি ও ভাড়া পোস্টে দেখতে পারেন।

সময়সূচি ও অপারেটর
ঢাকা–কলকাতা রুটে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, দেশ ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন অপারেটরের বাস চলাচল করে। ঢাকার আরামবাগ, কমলাপুর ও গাবতলী থেকে সকাল ও রাতে বাস ছাড়ে। ছাড়ার সঠিক সময় যাত্রার আগে কাউন্টারে নিশ্চিত হয়ে নিন, কারণ সময় মাঝেমাঝে বদলে যায়।
| অপারেটর | বাসের ধরন | ছাড়ার সময় (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| শ্যামলী | নন-এসি/ভলভো এসি | সকাল–রাত |
| গ্রিন লাইন | এসি কোচ | সকাল–রাত |
| দেশ ট্রাভেলস | নন-এসি/এসি কোচ | সকাল–রাত |
| সেন্টমার্টিন | এসি কোচ | সকাল–রাত |
কলকাতা থেকে ফিরতি পথে ঢাকাগামী বাসও পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে অন্য রুটের বাসের ধারণা পেতে ঢাকা থেকে খুলনা বাসের সময়সূচি ও ভাড়া দেখতে পারেন।
ভাড়া
প্রায় ৩৫০ কিলোমিটারের এই আন্তর্জাতিক রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া আনুমানিক ১,০০০–১,৫০০ টাকা—অপারেটর ও সার্ভিসভেদে ভাড়া বদলায়। টিকিট কাটার সময় ভাড়া নিশ্চিত করে নিন। এসি/ভলভো বাসের ভাড়া ১,৫০০ থেকে ২,১০০ টাকা পর্যন্ত।
| আসনের ধরন | ভাড়া (টাকা, আনুমানিক) |
|---|---|
| নন-এসি চেয়ার কোচ | ১,০০০–১,৫০০ |
| এসি/ভলভো কোচ | ১,৫০০–২,১০০ |
ঈদ বা লম্বা ছুটিতে চাহিদা বাড়লে ভাড়া বাড়তে পারে। টিকিট কাটার সময় ভাড়া নিশ্চিত করে রসিদ নিন। অনলাইনে টিকিট কাটতে চাইলে অপারেটরের অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহার করুন—এতে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা কম হয় এবং আসন নিশ্চিত থাকে।

টিকিট ও কাউন্টার
ঢাকার আরামবাগ, কমলাপুর ও গাবতলী বাস টার্মিনালে এই রুটের বিভিন্ন অপারেটরের কাউন্টার আছে। যাত্রার ২–৩ দিন আগে টিকিট কেটে রাখাই নিরাপদ, বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে। পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া টিকিট কাটা যাবে না—কাউন্টারে পাসপোর্ট দেখাতে হবে। অনলাইন বুকিং সুবিধা থাকলে অপারেটরের অফিসিয়াল পেজ থেকে টিকিট কাটুন।
কলকাতা যাওয়ার জন্য সকালের বাসে রওনা দিন—সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছে যাবেন। টিকিট, পাসপোর্ট ও ভিসার কপি যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে রাখুন। ফিরতি যাত্রার টিকিটও আগেই কেটে রাখুন।
বোর্ডিং ও নামার জায়গা
ঢাকায় এই রুটের বাস ছাড়ে আরামবাগ, কমলাপুর ও গাবতলী থেকে। ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে টার্মিনালে পৌঁছে যান—ইমিগ্রেশনের কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগে। কলকাতায় বাস পৌঁছায় মার্কুইস স্ট্রিট এলাকায়, সেখান থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার ট্যাক্সি ও মেট্রো পাওয়া যায়।
বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্তে দুই দেশের ইমিগ্রেশন পার হতে ২–৩ ঘণ্টা লাগতে পারে। ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়ান।

যাত্রার টিপস
১০–১২ ঘণ্টার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা আরামদায়ক করতে আগে থেকে প্রস্তুতি নিন। বাসে ওঠার আগে হালকা খাবার খেয়ে নিন। পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট সবসময় হাতের ব্যাগে রাখুন।
কলকাতায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে নিউ মার্কেট ও বড়বাজার ঘুরে দেখুন। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও হাওড়া ব্রিজ দেখতে ভুলবেন না।
সীমান্তে মুদ্রা বিনিময় করা যায়—তবে রেট যাচাই করে নিন। ভারতে বাংলাদেশি সিম কাজ করবে না—সেখানে স্থানীয় সিম নিন।
কলকাতা থেকে ফেরার সময় পাসপোর্টে এন্ট্রি সিল আছে কিনা যাচাই করুন।
ভারতে যাওয়ার আগে ভিসার মেয়াদ ও এন্ট্রি সংখ্যা যাচাই করুন।
- পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া এই রুটে যাওয়া যাবে না—আগেই প্রস্তুত রাখুন।
- পানির বোতল, হালকা খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের ব্যাগে রাখুন।
- মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নিন।
- মূল্যবান জিনিস সবসময় নিজের কাছে রাখুন।
- সীমান্তে দালালদের এড়িয়ে চলুন—নিজে ইমিগ্রেশন করুন।
- কলকাতায় থাকার জন্য আগেই হোটেল বুক করে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ঢাকা–কলকাতা বাস নিয়ে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলাম। ভাড়া বা সময় নিয়ে আরও প্রশ্ন থাকলে কাউন্টারে ফোন করে জেনে নিন।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে কলকাতা বাস ভাড়া কত?
উত্তর: নন-এসি বাসে আনুমানিক ১,০০০–১,৫০০ টাকা।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে কতক্ষণ লাগে?
উত্তর: দূরত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার; ইমিগ্রেশনসহ বাসে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাগে।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে কলকাতার বাস কোথা থেকে ছাড়ে?
উত্তর: ঢাকার আরামবাগ, কমলাপুর ও গাবতলী থেকে সকাল ও রাতে বাস ছাড়ে।
প্রশ্ন: এই রুটে কোন বাস চলে?
উত্তর: শ্যামলী, গ্রিন লাইন, দেশ ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন অপারেটরের বাস এই রুটে চলাচল করে।
প্রশ্ন: কলকাতা যেতে ভিসা লাগবে?
উত্তর: হ্যাঁ, বৈধ পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভিসা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: সীমান্ত পার হতে কতক্ষণ লাগে?
উত্তর: বেনাপোল–পেট্রাপোলে দুই দেশের ইমিগ্রেশনে ২–৩ ঘণ্টা লাগতে পারে।
প্রশ্ন: অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
উত্তর: অপারেটরের অনলাইন বুকিং সুবিধা থাকলে অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে টিকিট কাটুন।
প্রশ্ন: কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরতি বাস কখন পাওয়া যায়?
উত্তর: কলকাতার মার্কুইস স্ট্রিট থেকে ঢাকাগামী বাস পাওয়া যায়। আগেই টিকিট কেটে রাখুন।
প্রশ্ন: কলকাতায় ঘোরার জায়গা কী কী?
উত্তর: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ, নিউ মার্কেট দেখতে পারেন।
প্রশ্ন: এই রুটে এসি বাস আছে?
উত্তর: এসি/ভলভো সার্ভিস আছে। ভাড়া ও সময় জানতে যাত্রার আগে কাউন্টারে খোঁজ নিন।
বাসের সময়সূচি, ভাড়া ও কাউন্টারের তথ্য প্রায়ই বদলায়। যাত্রার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে যাচাই করে নিন।
