সংক্ষেপে

  • ঢাকা শিশু পার্ক রাজধানীর শাহবাগে রমনা পার্কের পাশে অবস্থিত দেশের প্রথম শিশু বিনোদন কেন্দ্র।
  • পার্কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের জন্য বন্ধ আছে; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা অনুযায়ী 2027 সালের জুনে পুনরায় চালুর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। যাওয়ার আগে খোলার খবর নিশ্চিত করে নিন।
  • বন্ধ হওয়ার আগে প্রবেশ টিকিট ছিল জনপ্রতি 15 টাকা এবং প্রতিটি রাইডে জনপ্রতি 10 টাকা। পুনরায় চালুর পর দাম বদলাতে পারে।
  • জনপ্রিয় রাইডের মধ্যে আছে উড়ন্ত বিমান, উড়ন্ত নভোযান, ঝুলন্ত চেয়ার, আনন্দ ঘূর্ণি ও ছোট মনিদের রেল গাড়ি।
  • শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশন, বাস বা রিকশায় সহজে পৌঁছানো যায়; শীতের বিকেল শিশুদের নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়।

সূচিপত্র

ঢাকা শিশু পার্ক (Dhaka Shishu Park) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত দেশের প্রথম শিশু বিনোদন কেন্দ্র। নানা রাইড আর খেলার ব্যবস্থা থাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঢাকার পরিবারগুলোর কাছে এটি ঘোরার প্রিয় জায়গা। এই গাইডে পার্কের অবস্থান, টিকিট মূল্য, জনপ্রিয় রাইড, যাওয়ার উপায় ও দরকারি ভ্রমণ টিপস একসাথে তুলে ধরা হলো।

শিশু পার্কের অবস্থান ও পরিচিতি

ঢাকা শিশু পার্ক শাহবাগে রমনা পার্কের পাশেই অবস্থিত — শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে এখানে পৌঁছানো সহজ।

প্রায় 15 একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্ক “শহীদ জিয়া শিশু পার্ক” নামেও পরিচিত। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে আছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। চালু থাকাকালে প্রতিদিন এখানে গড়ে 7,000 থেকে 10,000 দর্শনার্থী আসত; ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় এই সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত।

পার্কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের জন্য বন্ধ আছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা অনুযায়ী 2027 সালের জুনে পার্কটি নতুন রূপে পুনরায় চালুর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে খোলার সর্বশেষ খবর জেনে নেওয়াই ভালো।

শাহবাগ এলাকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন উইকিপিডিয়ার শাহবাগ থানা নিবন্ধ। আর বড়দের জন্য থিম পার্কের অভিজ্ঞতা চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ফ্যান্টাসি কিংডম।

টিকিট মূল্য ও রাইডসমূহ

পার্ক বন্ধ হওয়ার আগে প্রবেশ টিকিটের দাম ছিল জনপ্রতি 15 টাকা, আর প্রতিটি রাইডে চড়তে জনপ্রতি 10 টাকা করে আলাদা টিকিট কিনতে হতো। পুনরায় চালুর পর এই দাম বদলে যেতে পারে, তাই যাওয়ার আগে জেনে নেওয়াই ভালো।

টিকিট শুধু গেটের দুই পাশের কাউন্টারে বিক্রি হতো — কোনো রাইডের পাশে টিকিট পাওয়া যেত না। তাই ঢোকার সময়ই প্রয়োজনমতো রাইডের টিকিট কিনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। যেসব রাইডে শিশুর সাথে অভিভাবকের ওঠার অনুমতি ছিল, সেখানে শিশু ও অভিভাবক দুজনের জন্যই আলাদা টিকিট লাগত।

পার্কের জনপ্রিয় রাইডগুলো:

  • উড়ন্ত বিমান: বিমানের আদলে তৈরি রাইড; শিশুদের সবচেয়ে পছন্দের রাইডগুলোর একটি।
  • উড়ন্ত নভোযান: ঘুরতে ঘুরতে ওপরে ওঠার মজার রাইড।
  • ঝুলন্ত চেয়ার: চেয়ারে বসে বাতাসে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি দেয়।
  • আনন্দ ঘূর্ণি ও রোমাঞ্চ চক্র: ঘূর্ণায়মান রাইড; একটু বড় শিশুদের জন্য উপযুক্ত।
  • ছোট মনিদের রেল গাড়ি: পার্কজুড়ে ছোটদের ট্রেন ভ্রমণ।
  • এসো গাড়ি চড়ি: ছোটদের নিজে গাড়ি চালানোর আনন্দ।
  • লম্ফ ঝম্ফ ও ফুলদানী আমেজ: লাফিয়ে ওঠা আর ঘোরার রাইড।
  • বিস্ময় চক্র ও চাকা পায়ে চলা: অভিনব নকশার রাইড, নতুন অভিজ্ঞতাপ্রিয়দের জন্য।
  • এফ-6 জঙ্গি বিমান: যুদ্ধবিমানের আদলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন রাইড।

কিভাবে পৌঁছাবেন

শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনে নেমে হেঁটে বা রিকশায় পার্কে পৌঁছানো যায় — এটাই সবচেয়ে ঝামেলামুক্ত উপায়।

  • মেট্রোরেল: এমআরটি লাইন 6-এর শাহবাগ স্টেশনে নামুন; সেখান থেকে পার্ক হাঁটা দূরত্বে।
  • বাস: ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে শাহবাগগামী বাসে উঠে শাহবাগ মোড়ে নামুন।
  • রিকশা/সিএনজি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা বা পিজি হাসপাতাল এলাকা থেকে রিকশায় সহজে যাওয়া যায়।
  • নিজস্ব গাড়ি: গাড়ি নিয়ে গেলে আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আগেই দেখে নিন; ছুটির দিনে জায়গা পেতে দেরি হতে পারে।

পার্কে যাওয়ার দিকনির্দেশনা ও আরও তথ্য পাবেন উইকিভ্রমণের শিশু পার্ক গাইডে।

সেরা সময়

শীতকালে (অক্টোবর–মার্চ) বিকেল 3টা থেকে 5টার মধ্যে পার্কে যাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক।

পার্ক বন্ধ হওয়ার আগের সময়সূচী ছিল নিচের মতো — পুনরায় চালুর পর নতুন সময়সূচী ঘোষণা হতে পারে:

  • অক্টোবর–মার্চ: সোম–বৃহস্পতিবার ও শনিবার দুপুর 1টা থেকে সন্ধ্যা 7টা; শুক্রবার দুপুর 2:30 থেকে সন্ধ্যা 7:30।
  • এপ্রিল–সেপ্টেম্বর: সোম–বৃহস্পতিবার ও শনিবার দুপুর 2টা থেকে রাত 8টা; শুক্রবার দুপুর 2:30 থেকে সন্ধ্যা 7:30।
  • সাপ্তাহিক বন্ধ: রবিবার ও বুধবার সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকত।

শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে ভিড় বেশি হয়, তাই ভিড় এড়াতে চাইলে কর্মদিবসের বিকেল বেছে নিন। গ্রীষ্মে দুপুরের রোদ এড়িয়ে বিকেলে যাওয়াই ভালো।

শীতের বিকেলে পার্ক ঘোরার সাথে হাতিরঝিলে নৌভ্রমণের পরিকল্পনাও রাখতে পারেন।

ভ্রমণ টিপস

সাথে পানি, ছাতা ও নগদ টাকা রাখুন এবং শিশুদের সবসময় চোখে চোখে রাখুন — এতে ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হবে।

  • টিকিট কাউন্টারে নগদ টাকা লাগে; ঢোকার সময়ই রাইডের টিকিট কিনে নিন।
  • ছোট শিশুদের হাত ধরে রাখুন; ভিড়ের মধ্যে ওদের একা ছাড়বেন না।
  • আরামদায়ক জুতা পরুন — পার্কজুড়ে বেশ হাঁটতে হবে।
  • গরমের দিনে টুপি বা ছাতা ও পানির বোতল সাথে রাখুন।
  • বাইরের খাবার নেওয়ার নিয়ম পুনরায় চালুর পর জেনে নিন।
  • মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন; ভিড়ে ব্যাগ সামলে চলুন।
  • পুনরায় চালুর পর প্রথম দিকে ভিড় বেশি হতে পারে — সকালের দিকে গেলে রাইডে কম অপেক্ষা করতে হবে।

ঢাকার আশপাশে শিশুদের নিয়ে ঘোরার আরও জায়গা খুঁজলে দেখুন জিন্দা পার্ক, নারায়ণগঞ্জ ভ্রমণ গাইড।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ঢাকা শিশু পার্ক কোথায় অবস্থিত?

ঢাকার শাহবাগে রমনা পার্কের পাশে। শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় বাস, মেট্রোরেল বা রিকশায় সহজে পৌঁছানো যায়।

ঢাকা শিশু পার্ক কি এখন খোলা আছে?

না। দীর্ঘদিন সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকা পার্কটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা অনুযায়ী 2027 সালের জুনে পুনরায় চালুর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। যাওয়ার আগে খোলার সর্বশেষ খবর জেনে নিন।

ঢাকা শিশু পার্কের টিকিট মূল্য কত?

বন্ধ হওয়ার আগে প্রবেশ টিকিট ছিল জনপ্রতি 15 টাকা এবং প্রতিটি রাইডে জনপ্রতি 10 টাকা। পুনরায় চালুর পর দাম বদলাতে পারে।

ঢাকা শিশু পার্কের জনপ্রিয় রাইড কোনগুলো?

উড়ন্ত বিমান, উড়ন্ত নভোযান, ঝুলন্ত চেয়ার, আনন্দ ঘূর্ণি, রোমাঞ্চ চক্র, ছোট মনিদের রেল গাড়ি ও এসো গাড়ি চড়ি — এগুলো শিশুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল।

ঢাকা শিশু পার্কে যাওয়ার সেরা সময় কখন?

শীতকালের (অক্টোবর–মার্চ) বিকেল সবচেয়ে ভালো। শুক্রবার ও ছুটির দিনে ভিড় বেশি হয়, তাই ভিড় এড়াতে কর্মদিবস বেছে নিন।

শিশুদের সাথে অভিভাবকরা কি রাইডে উঠতে পারেন?

যেসব রাইডে অভিভাবকের ওঠার অনুমতি ছিল, সেখানে উঠতে পারতেন; তবে শিশু ও অভিভাবক দুজনের জন্যই আলাদা টিকিট লাগত।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top