সংক্ষেপে

  • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেলের 2026 সালের মার্চ মাসের তালিকা অনুযায়ী দেশে সরকারি স্বীকৃত ফাইভ স্টার হোটেল 20টি — এই পোস্টে সবচেয়ে পরিচিত 13টির বিস্তারিত তালিকা।
  • আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ফাইভ স্টার হোটেল সবচেয়ে বেশি ঢাকায় (গুলশান, নিকুঞ্জ ও কারওয়ান বাজার এলাকায়); কক্সবাজারে সরকারি তালিকাভুক্ত চারটি ফাইভ স্টার হোটেল আছে।
  • আনুমানিক ভাড়া: ঢাকার ফাইভ স্টার হোটেলে প্রতি রাত 11,000–40,000 টাকা, কক্সবাজারে 7,000–22,000 টাকা — মৌসুম, তারিখ ও বুকিং চ্যানেলভেদে বদলায়, তাই বুকিংয়ের আগে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নিন।
  • ব্যবসায়িক সফরে থাকুন গুলশান-নিকুঞ্জের হোটেলে; পরিবার নিয়ে সমুদ্রপাড়ে ছুটি কাটাতে চাইলে কক্সবাজারের রিসোর্ট-ধাঁচের ফাইভ স্টার হোটেল বেছে নিন।

সূচিপত্র: ঢাকার ফাইভ স্টার হোটেল | কক্সবাজারের ফাইভ স্টার হোটেল | চট্টগ্রাম ও সিলেট | ভাড়ার তুলনা | বুকিং টিপস | সচরাচর জিজ্ঞাসা

বিদেশি অতিথি, করপোরেট সফর, পারিবারিক ছুটি কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষ — কখনো কখনো থাকার জায়গাটাই ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বড় অংশ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে ফাইভ স্টার হোটেল বলতে আমরা যা বুঝি, তার সরকারি শ্রেণিবিন্যাস করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেল — 2026 সালের মার্চ মাসের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে এখন 20টি হোটেল পাঁচ-তারকা স্বীকৃতি পেয়েছে। এই তালিকা থেকে আমি বেছে নিয়েছি ভ্রমণকারী ও অতিথিদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত 13টি ফাইভ স্টার হোটেল — প্রতিটির ইতিহাস, অবস্থান, সুবিধা, কাদের জন্য উপযুক্ত, আর আনুমানিক ভাড়াসহ বিস্তারিত পরিচিতি নিচে দিলাম।

ঢাকার ফাইভ স্টার হোটেল

ঢাকাতেই দেশের সবচেয়ে বেশি ফাইভ স্টার হোটেল — বড় অংশই গুলশান-বনানীর কূটনৈতিক ও করপোরেট বেল্ট, এয়ারপোর্ট-সংলগ্ন নিকুঞ্জ, আর শহরের কেন্দ্র কারওয়ান বাজার-শাহবাগ এলাকায়। ব্যবসায়িক সফরে এলে আপনার অফিস বা মিটিংয়ের ভেন্যুর কাছের এলাকায় হোটেল নিন — ঢাকার যানজটে 5 কিলোমিটার পথেও 1 ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, কারওয়ান বাজার — ঢাকার প্রবীণ ফাইভ স্টার হোটেলগুলোর একটি — ছবি: Asivechowdhury, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও (Pan Pacific Sonargaon), কারওয়ান বাজার

1981 সালে চালু হওয়া প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের আন্তর্জাতিক মানের বিলাসবহুল হোটেলগুলোর একটি। চার দশকের বেশি সময় ধরে এটি রাষ্ট্রীয় অতিথি, কূটনীতিক ও করপোরেট ইভেন্টের ঠিকানা হিসেবে পরিচিত। কারওয়ান বাজারের কেন্দ্রীয় অবস্থানের কারণে শহরের যেকোনো প্রান্তে যাতায়াত সুবিধাজনক। ভেতরে রয়েছে সুইমিং পুল, হেলথ ক্লাব, একাধিক রেস্টুরেন্ট ও বড় ব্যাঙ্কোয়েট হল — বিয়ে ও করপোরেট অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকার জনপ্রিয় ভেন্যুগুলোর একটি এটি। প্রথমবার ঢাকায় ফাইভ স্টার অভিজ্ঞতা চাইলে ঐতিহ্য ও অবস্থান — দুটোই এখানে পাবেন। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 11,000–16,000 টাকা।

দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা (The Westin Dhaka), গুলশান

ম্যারিয়ট গ্রুপের ওয়েস্টিন ব্র্যান্ডের এই হোটেল গুলশান 2-এ অবস্থিত — দূতাবাস, বহুজাতিক কোম্পানির অফিস ও অভিজাত শপিংমলের একদম কাছে। 241টি প্রশস্ত রুম ও স্যুটে ওয়েস্টিনের সিগনেচার হেভেনলি বেড, 5টি রেস্টুরেন্ট, সুইমিং পুল ও 2,000 বর্গমিটারের বেশি মিটিং-ব্যাঙ্কোয়েট স্পেস রয়েছে। ব্যবসায়িক সফরে যারা গুলশান-বনানী বেল্টে থাকতে চান, তাদের কাছে এটি সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 20,000–26,000 টাকা।

রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন (Radisson Blu Dhaka Water Garden), নিকুঞ্জ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে প্রায় 13 মিনিটের পথে, নিকুঞ্জের সবুজ চত্বরে এই হোটেলের বড় আকর্ষণ এর ওয়াটার গার্ডেন পরিবেশ — নামের মতোই পানির ছোঁয়া আছে পুরো প্রপার্টিতে। আউটডোর সুইমিং পুল, স্পা ও ওয়েলনেস সেন্টার, ফ্রি ওয়াই-ফাই, আর বিমানবন্দর-কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ট্রানজিট যাত্রী ও এয়ারলাইন ক্রুদের কাছে এটি নিয়মিত পছন্দ। চেক-ইন দুপুর 2টা, চেক-আউট দুপুর 12টা। ভোরের ফ্লাইট বা গভীর রাতের আগমন থাকলে এই এলাকার হোটেলই সবচেয়ে নিরাপদ বাজি। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 19,000–25,000 টাকা।

রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেল
রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন — এয়ারপোর্ট-সংলগ্ন অবস্থান ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক — ছবি: Tanvir Rahat, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)

লে মেরিডিয়েন ঢাকা (Le Méridien Dhaka), নিকুঞ্জ

ম্যারিয়টের লে মেরিডিয়েন ব্র্যান্ডের ঢাকার এই হোটেলটি আধুনিক ডিজাইন আর 16 তলার স্কাইলাইন ইনফিনিটি পুলের জন্য পরিচিত — সন্ধ্যায় শহরের আলোর দিকে তাকিয়ে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা ঢাকার হোটেলগুলোর মধ্যে বিরল। বিমানবন্দরের কাছে অবস্থান, সমসাময়িক ইন্টেরিয়র ও ফাইন ডাইনিং — বিলাসবহুল ট্রানজিট বা শহরে ছোট ছুটির জন্য এটি প্রিমিয়াম পছন্দ। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 32,000–40,000 টাকা।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেল, শাহবাগ
ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, শাহবাগ — 1966 সালের ঐতিহ্যবাহী হোটেল, 2018 সালে সংস্কারের পর নতুন রূপে — ছবি: Titu Oheduzzaman, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)

ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা (InterContinental Dhaka), শাহবাগ

1966 সালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা নামে যাত্রা শুরু — স্বাধীনতার আগের ও পরের কয়েক দশকে কূটনীতিক, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রীয় অতিথিদের সবচেয়ে পরিচিত ঠিকানা ছিল এটি। দীর্ঘ সংস্কারের পর 2018 সালে IHG-এর অধীনে নতুন রূপে ফিরে আসে। শাহবাগে রমনা পার্কের পাশে অবস্থান — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হাঁটা দূরত্বে। ইতিহাসের ছোঁয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ঢাকায় থাকতে চাইলে এর বিকল্প কম। আউটডোর পুল, ফিটনেস সেন্টার ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 18,000–26,000 টাকা।

রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেল (Renaissance Dhaka Gulshan Hotel), গুলশান

ম্যারিয়টের রেনেসাঁ ব্র্যান্ডের এই হোটেল গুলশানে অবস্থিত — বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে অতিথি রেটিংয়ে নিয়মিত 9-এর ওপরে স্কোর করে, যা ঢাকার হোটেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আউটডোর সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার, বার ও রেস্টুরেন্ট, আর ফ্যামিলি রুমের সুবিধা — ব্যবসায়িক সফরের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও থাকার উপযোগী। গুলশানের করপোরেট বেল্টে যাদের কাজ, তাদের জন্য অবস্থানগতভাবে আদর্শ। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 19,000–24,000 টাকা।

আমেরি ঢাকা (Amari Dhaka), গুলশান

থাইল্যান্ডের ওনিক্স হসপিটালিটি গ্রুপের আমেরি ব্র্যান্ডের ঢাকার এই হোটেল সমসাময়িক থাই-অনুপ্রাণিত ডিজাইনের জন্য পরিচিত। গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার কাছে অবস্থান, রুফটপ পুল, স্পা ও একাধিক ডাইনিং অপশন — ডিজাইন-সচেতন ভ্রমণকারীদের কাছে এটি তরুণ ও আধুনিক বিকল্প। সেবার মান নিয়ে অতিথি রিভিউ সাধারণত ইতিবাচক। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 15,000–19,000 টাকা।

কক্সবাজারের সরকারি তালিকাভুক্ত ফাইভ স্টার হোটেল

মন্ত্রণালয়ের 2026 সালের মার্চ মাসের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী কক্সবাজারে সরকারি স্বীকৃত ফাইভ স্টার হোটেল চারটি — সি-গাল হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, সায়মন বিচ রিসোর্ট এবং রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা (সরকারি তালিকার বিস্তারিত কক্সবাজার লাইফের এই প্রতিবেদনে দেখুন)। সমুদ্রপাড়ে ছুটি কাটাতে চাইলে এই চারটির বাইরে বুকিং সাইটে “5-star” ট্যাগ দেখলেই সরকারি স্বীকৃতি ধরে নেবেন না — নিচের বুকিং টিপস অংশে এ নিয়ে বিস্তারিত বলেছি।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত — সরকারি তালিকাভুক্ত চারটি ফাইভ স্টার হোটেলই এই জেলায় (প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি) — ছবি: Tanweer Morshed, CC BY-SA 3.0 (Wikimedia Commons)

রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ইনানী

কক্সবাজারের ইনানীতে অবস্থিত এই রিসোর্ট দেশের বড় বিচ রিসোর্টগুলোর একটি — নিজস্ব সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন অবস্থান, ওয়াটার পার্ক, সুইমিং পুল, স্পা ও একাধিক রেস্টুরেন্ট নিয়ে এটি পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট অভিজ্ঞতা দেয়। পরিবার বা বন্ধুদের দল নিয়ে কয়েক দিনের ছুটির জন্য সবচেয়ে বেশি নাম শোনা যায় এই রিসোর্টটির। কলাতলীর ভিড় থেকে দূরে, শান্ত পরিবেশ চাইলে ইনানীর এই ঠিকানা ভালো। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 10,000–22,000 টাকা।

সায়মন বিচ রিসোর্ট (Sayeman Beach Resort), কলাতলী

কলাতলী বিচের কাছে অবস্থিত সায়মন বিচ রিসোর্ট কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠিত ফাইভ স্টার নামগুলোর একটি। সি-ভিউ রুম, সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার ও সমুদ্রপাড়ের সহজ অ্যাক্সেস — পরিবার নিয়ে থাকার জন্য এর অবস্থান ও সুবিধার সমন্বয় ভালো। সুগন্ধা-কলাতলী বেল্টের রেস্টুরেন্ট ও মার্কেট হাঁটা দূরত্বে থাকায় খাওয়া-দাওয়ার বিকল্পও প্রচুর। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 8,000–15,000 টাকা।

ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (Ocean Paradise), কলাতলী

সরকারি তালিকাভুক্ত চারটির একটি — কলাতলীতে অবস্থিত এই হোটেল পরিবার-বান্ধব পরিবেশ ও সুইমিং পুল সুবিধার জন্য পরিচিত। সমুদ্রসৈকত কাছে, রুম থেকে সমুদ্রের দৃশ্য পাওয়া যায় এমন ক্যাটাগরি আছে। মাঝারি বাজেটে ফাইভ স্টার অভিজ্ঞতা চাইলে কক্সবাজারের এই হোটেলটি বিবেচনায় রাখুন। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 7,000–13,000 টাকা।

সি-গাল হোটেল (Sea-Gull Hotel), সুগন্ধা

সুগন্ধা পয়েন্টের হোটেল-মোটেল জোনে অবস্থিত সি-গাল কক্সবাজারের পুরনো বিলাসবহুল হোটেলগুলোর একটি — দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সম্মেলন, ইভেন্ট ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম ও স্যুট, সুইমিং পুল, একাধিক রেস্টুরেন্ট, কফি শপ ও কনফারেন্স হল রয়েছে। সৈকতের একদম কাছে থেকে শহরের সুবিধা হাতের নাগালে চাইলে এটি নির্ভরযোগ্য পছন্দ। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 7,000–12,000 টাকা।

চট্টগ্রাম ও সিলেটের ফাইভ স্টার হোটেল

ঢাকা ও কক্সবাজারের বাইরেও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের ফাইভ স্টার হোটেল আছে — ব্যবসায়িক সফর বা ওই অঞ্চলে ছুটির পরিকল্পনা থাকলে এগুলো জেনে রাখুন।

রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেল
রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ — বন্দরনগরীর প্রধান ফাইভ স্টার হোটেল — ছবি: Intakhab, CC BY-SA 4.0 (Wikimedia Commons)

রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ (Radisson Blu Chattogram Bay View), চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম শহরের প্রধান ফাইভ স্টার হোটেল — বে ভিউ নামের মতোই ওপরের তলার রুম থেকে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য পাওয়া যায়। সুইমিং পুল, স্পা, একাধিক রেস্টুরেন্ট ও বড় ব্যাঙ্কোয়েট সুবিধা নিয়ে এটি বন্দরনগরীর করপোরেট ইভেন্ট ও বিয়ের অন্যতম প্রধান ভেন্যু। চট্টগ্রামে ব্যবসায়িক সফরে এলে অবস্থান ও সুবিধার দিক থেকে এটি সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 9,000–16,000 টাকা।

গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (Grand Sylhet Hotel & Resort), সিলেট

সিলেট শহরের কাছে অবস্থিত এই হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফাইভ স্টার ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত ও অতিথিদের কাছে ভালো রেটিং পাওয়া ঠিকানা। রিসোর্ট-ধাঁচের পরিবেশ, সুইমিং পুল ও সবুজ চত্বর — সিলেটের চা-বাগান ও জাফলং-বিছনাকান্দি ঘোরার ফাঁকে বিলাসবহুল বেস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সিলেট অঞ্চলের হোটেল নিয়ে আমাদের সিলেটের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট গাইডে আরও বিকল্প পাবেন। আনুমানিক ভাড়া: প্রতি রাত 7,000–13,000 টাকা।

ভাড়ার তুলনা — এক নজরে

নিচের সব ভাড়াই আনুমানিক — অক্টোবর 2026-এর বুকিং-সাইট তালিকা থেকে পাউন্ড-মূল্যকে টাকায় রূপান্তর করে ধারণা দেওয়া। মৌসুম (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি ও ঈদের ছুটিতে ভাড়া বাড়ে), সপ্তাহান্ত, রুম ক্যাটাগরি ও বুকিং চ্যানেলভেদে প্রকৃত ভাড়া বদলায় — বুকিংয়ের আগে বর্তমান ভাড়া অবশ্যই যাচাই করে নিন।

হোটেল এলাকা প্রতি রাতের আনুমানিক ভাড়া (টাকা)
লে মেরিডিয়েন ঢাকানিকুঞ্জ, ঢাকা32,000–40,000
দ্য ওয়েস্টিন ঢাকাগুলশান, ঢাকা20,000–26,000
ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকাশাহবাগ, ঢাকা18,000–26,000
রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেননিকুঞ্জ, ঢাকা19,000–25,000
রেনেসাঁ ঢাকা গুলশানগুলশান, ঢাকা19,000–24,000
আমেরি ঢাকাগুলশান, ঢাকা15,000–19,000
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওকারওয়ান বাজার, ঢাকা11,000–16,000
রয়্যাল টিউলিপ সি পার্লইনানী, কক্সবাজার10,000–22,000
রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউচট্টগ্রাম9,000–16,000
সায়মন বিচ রিসোর্টকলাতলী, কক্সবাজার8,000–15,000
ওশান প্যারাডাইসকলাতলী, কক্সবাজার7,000–13,000
গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসিলেট7,000–13,000
সি-গাল হোটেলসুগন্ধা, কক্সবাজার7,000–12,000

ফাইভ স্টার হোটেল বুকিংয়ের আগে যা জানবেন

  • সরকারি স্বীকৃতি বনাম বুকিং-সাইটের ট্যাগ: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের শ্রেণিবিন্যাসে দেশে ফাইভ স্টার হোটেল 20টি (বাংলাদেশে ফাইভ স্টার হোটেলের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত গাইড)। কিন্তু বুকিং সাইটে অনেক হোটেল নিজে থেকে “5-star” ট্যাগ ব্যবহার করে — দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হোটেলটি সরকারি তালিকায় আছে কিনা বা আন্তর্জাতিক চেইনের (ম্যারিয়ট, IHG, রেডিসন, প্যান প্যাসিফিক) সম্পত্তি কিনা যাচাই করুন।
  • ভাড়ার ওপরে অতিরিক্ত চার্জ: তালিকার ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে — চূড়ান্ত বিল কত দাঁড়াবে, বুকিংয়ের আগেই হোটেল বা বুকিং প্ল্যাটফর্ম থেকে জেনে নিন।
  • সরাসরি বনাম প্ল্যাটফর্ম: হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনেক সময় সদস্য-ছাড় বা ব্রেকফাস্ট-সহ প্যাকেজ থাকে; আবার বুকিং প্ল্যাটফর্মে মৌসুমি অফার মেলে। দুটোই তুলনা করে দেখুন।
  • আগে বুক করুন পিক সিজনে: নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি ও ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারের ফাইভ স্টার হোটেল দ্রুত ভরে যায় — 2–4 সপ্তাহ আগে বুকিং নিরাপদ।
  • সাম্প্রতিক রিভিউ দেখুন: 2025–26 সালের অতিথি রিভিউতে সেবার মান, খাবার ও রুমের অবস্থার হালনাগাদ চিত্র পাবেন — পুরনো খ্যাতির ওপর ভরসা না করে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা যাচাই করুন।
  • ঢাকায় সব বাজেটের বিকল্প: ফাইভ স্টারের বাইরে ঢাকায় মাঝারি ও বাজেট হোটেলের বড় তালিকা আছে — আমাদের ঢাকার হোটেল গাইডে এলাকাভিত্তিক সব মানের হোটেলের তালিকা পাবেন।
  • কক্সবাজার ভ্রমণ পরিকল্পনা: মেরিন ড্রাইভ ধরে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে মেরিন ড্রাইভের হোটেল ও রিসোর্টের তালিকা দেখুন; আর সেন্ট মার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেন্ট মার্টিনের হোটেল গাইড কাজে লাগবে।

বাংলাদেশে মোট কয়টি ফাইভ স্টার হোটেল আছে?

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেলের 2026 সালের মার্চ মাসের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে সরকারি স্বীকৃত ফাইভ স্টার হোটেল 20টি। এর মধ্যে কক্সবাজারেই আছে 4টি — সি-গাল হোটেল, ওশান প্যারাডাইস, সায়মন বিচ রিসোর্ট ও রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা।

ঢাকার সেরা ফাইভ স্টার হোটেল কোনটি?

উদ্দেশ্য অনুযায়ী বেছে নিন — ব্যবসায়িক সফরে গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান বা আমেরি ঢাকা; এয়ারপোর্ট-সংলগ্ন ট্রানজিটের জন্য লে মেরিডিয়েন ঢাকা বা রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন; আর ঐতিহ্য ও কেন্দ্রীয় অবস্থান চাইলে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।

ফাইভ স্টার হোটেলে এক রাতের ভাড়া কত?

ঢাকার ফাইভ স্টার হোটেলে আনুমানিক 11,000–40,000 টাকা এবং কক্সবাজারে আনুমানিক 7,000–22,000 টাকা প্রতি রাত। তবে মৌসুম, সপ্তাহান্ত, রুম ক্যাটাগরি ও বুকিং চ্যানেলভেদে ভাড়া বদলায় — সব ভাড়াই আনুমানিক, বুকিংয়ের আগে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নিন।

কক্সবাজারের সরকারি স্বীকৃত ফাইভ স্টার হোটেল কোনগুলো?

চারটি — রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা (ইনানী), সায়মন বিচ রিসোর্ট (কলাতলী), ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (কলাতলী) এবং সি-গাল হোটেল (সুগন্ধা)। এগুলো মন্ত্রণালয়ের 2026 সালের মার্চ মাসের তালিকায় পাঁচ-তারকা হিসেবে স্বীকৃত।

বুকিং সাইটে ‘5-star’ লেখা মানেই কি সরকারি স্বীকৃত ফাইভ স্টার?

না। অনেক হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্মে নিজে থেকে 5-star ট্যাগ ব্যবহার করে, যা সরকারি শ্রেণিবিন্যাসের সমান নয়। নিশ্চিত হতে দেখুন হোটেলটি আন্তর্জাতিক চেইনের (ম্যারিয়ট, IHG, রেডিসন, প্যান প্যাসিফিক) সম্পত্তি কিনা, অথবা মন্ত্রণালয়ের 20টির তালিকায় আছে কিনা।

পরিবার নিয়ে থাকার জন্য কোন ফাইভ স্টার হোটেল ভালো?

সমুদ্রপাড়ে ছুটির জন্য কক্সবাজারের রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বা সায়মন বিচ রিসোর্ট — বড় পুল, রিসোর্ট পরিবেশ ও পারিবারিক রুমের সুবিধা আছে। ঢাকায় পরিবার নিয়ে থাকতে চাইলে রেনেসাঁ ঢাকা গুলশানের ফ্যামিলি রুম বা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের প্রশস্ত রুম ভালো বিকল্প।

4 thoughts on “বাংলাদেশের ফাইভ স্টার হোটেল: সেরা 13টির বিস্তারিত তালিকা”

  1. Pingback: চট্টগ্রামের হোটেল: সেরা 7টি থাকার ঠিকানা ও ভাড়ার গাইড

  2. Pingback: বগুড়ার হোটেল ও রিসোর্ট: সেরা 7টি থাকার ঠিকানার সম্পূর্ণ গাইড

  3. Pingback: দিনাজপুরের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট: থাকার সম্পূর্ণ গাইড

  4. Pingback: চাঁদপুরের হোটেল: সেরা 7টি থাকার ঠিকানা, ভাড়া ও বুকিং গাইড

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top