⚠️ সর্বশেষ অবস্থা (অক্টোবর ২০২৬): খুলনা–কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে বন্ধ আছে। ২০২৬ সালে দুই দেশের আলোচনায় পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি। নিচের সময়সূচি ও ভাড়া ট্রেনটি বন্ধ হওয়ার আগের কার্যকর তথ্য — ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করুন।
খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন: বন্ধন এক্সপ্রেস
খুলনা থেকে কলকাতা সরাসরি ট্রেনের নাম বন্ধন এক্সপ্রেস। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালু হয়। খুলনা থেকে বেনাপোল–পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত মোট দূরত্ব ১৭২ কিলোমিটার, যাত্রায় সময় লাগত প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা (সীমান্ত আনুষ্ঠানিকতাসহ)। খুলনা বিভাগের মানুষের জন্য চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনে কলকাতা যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম ছিল এই ট্রেন। (দ্রষ্টব্য: ঢাকা–কলকাতা রুটের ট্রেনের নাম মৈত্রী এক্সপ্রেস — খুলনা রুটের সঙ্গে মেলাবেন না।)
বন্ধ হওয়ার আগের সময়সূচি
বন্ধন এক্সপ্রেস সপ্তাহে ২ দিন — বৃহস্পতিবার ও রবিবার চলাচল করত। একই দিনে ট্রেনটি দুই দিকেই যাতায়াত করত:
| ট্রেন নং ও রুট | ছাড়ে | পৌঁছায় | দিন |
|---|---|---|---|
| 13129: কলকাতা → খুলনা | কলকাতা সকাল ৭:১০ (ভারতীয় সময়) | খুলনা দুপুর ১২:৩০ (বাংলাদেশ সময়) | বৃহস্পতি ও রবিবার |
| 13130: খুলনা → কলকাতা | খুলনা দুপুর ১:৩০ (বাংলাদেশ সময়) | কলকাতা সন্ধ্যা ৬:১০ (ভারতীয় সময়) | বৃহস্পতি ও রবিবার |
সময়সূচিটি পুনরায় চালুর পর বহাল থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় — নতুন সময়সূচি ঘোষণা হলে এই পেজ আপডেট করা হবে।
আসনের শ্রেণি ও টিকিট
বন্ধন এক্সপ্রেসে দুই শ্রেণির আসন ছিল: এসি চেয়ার ও এসি ফার্স্ট ক্লাস (কেবিন)। চালু থাকাকালীন ভাড়া নির্ধারিত ছিল মার্কিন ডলারে — এসি চেয়ার প্রায় ২০ ডলার ও এসি ফার্স্ট প্রায় ৩০ ডলার সমমূল্যের টাকা (বন্ধ হওয়ার আগের তথ্য; পুনরায় চালু হলে নতুন ভাড়া ঘোষণা করা হবে)। টিকিট পাওয়া যেত খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের আন্তর্জাতিক কাউন্টার থেকে — টিকিট কাটতে বৈধ পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভিসা আবশ্যক ছিল। অনলাইনে এই ট্রেনের টিকিট বিক্রি হতো না।
সীমান্ত আনুষ্ঠানিকতা
- যাত্রার আগে বৈধ পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভিসা অবশ্যই থাকতে হবে — ভিসা ছাড়া টিকিটই পাওয়া যেত না।
- বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেক হতো বেনাপোল স্টেশনে, ভারত অংশের চেক পেট্রাপোলে — সব যাত্রীকে লাগেজসহ নেমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হতো।
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া জরুরি ছিল।
- ফেরার সময় ভারতীয় রুপি থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন; অনুমোদিত সীমার বেশি মুদ্রা বহন করবেন না।
কেন বন্ধ, কবে চালু হতে পারে?
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনকালীন পরিস্থিতিতে মৈত্রী ও বন্ধন — দুই আন্তঃদেশীয় ট্রেনই বন্ধ হয়ে যায়; পরবর্তীতে ভারতের পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন দুটি বাতিল ঘোষণা করে। ভিসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় চালুর উদ্যোগও থমকে ছিল। ২০২৬ সালে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে পুনরায় চালুর আলোচনা হয়েছে এবং বেনাপোল স্টেশনে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন — তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষিত হয়নি। খবর পেতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম অনুসরণ করুন। আন্তঃদেশীয় অন্য ট্রেনের তথ্য: বাংলাদেশ রেলওয়ে।
ট্রেন বন্ধ থাকলে খুলনা থেকে কলকাতা যাবেন যেভাবে
- বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে (সবচেয়ে প্রচলিত): খুলনা থেকে বাসে বেনাপোল (প্রায় ২ ঘণ্টা), পায়ে হেঁটে সীমান্ত পার হয়ে পেট্রাপোল থেকে বনগাঁ লোকাল ট্রেন বা বাসে কলকাতা। আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিসও যশোর-বেনাপোল রুটে চলে।
- ঢাকা হয়ে বিমানে: খুলনা থেকে ট্রেনে/বাসে ঢাকা এসে বিমান বাংলাদেশ বা ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে কলকাতা — সময় বাঁচে, খরচ বেশি। বিমানবন্দর পৌঁছানো সহজ করতে পড়ুন ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন গাইড।
- সীমান্ত পারাপারে পাসপোর্ট-ভিসা অবশ্যই লাগবে; ছুটির দিনে বেনাপোলে ভিড় বেশি থাকে, সকালে পৌঁছানো ভালো।
কলকাতায় দেখার মতো
কলকাতা স্টেশন শহরের প্রাণকেন্দ্রে — কাছেই হাওড়া ব্রিজ (রবীন্দ্র সেতু), ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ভারতীয় জাদুঘর, নিউ মার্কেট ও কলেজ স্ট্রিট। প্রথমবারের ভ্রমণে ২ দিন রাখলে প্রধান জায়গাগুলো ঘোরা যায়। ট্রাম ও মেট্রো রেলে শহর ঘোরা সস্তা ও সহজ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন কি এখন চলছে?
না। বন্ধন এক্সপ্রেস ১৯ জুলাই ২০২৪ থেকে বন্ধ আছে।
খুলনা–কলকাতা ট্রেনের নাম কী?
বন্ধন এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ১৩১২৯/১৩১৩০)।
ট্রেনটি কবে আবার চালু হবে?
২০২৬ সালে আলোচনা চলছে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি।
বন্ধন এক্সপ্রেস সপ্তাহে কয়দিন চলত?
সপ্তাহে ২ দিন — বৃহস্পতিবার ও রবিবার।
ট্রেনে যেতে কি ভিসা লাগে?
হ্যাঁ, বৈধ পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভিসা আবশ্যক।
ট্রেন বন্ধ থাকলে বিকল্প উপায় কী?
বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাস/লোকাল ট্রেন, অথবা ঢাকা হয়ে ফ্লাইট।
