ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোথায় ঘুরতে যাবেন ভাবছেন? নোয়াখালী শহরের কাছেই আছে নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক — শিশু থেকে বয়স্ক, সবার জন্য সাজানো একটি পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র। রাইডের রোমাঞ্চ, ওয়াটার জোনের শীতল পানি, গেম জোনের খেলা আর খোলা সবুজ চত্বর — একদিনের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য নোয়াখালীবাসীর কাছে এটি প্রিয় ঠিকানা। এই লেখায় জেনে নিন পার্কের অবস্থান, টিকিট মূল্য, রাইডের বর্ণনা, যাওয়ার উপায়, সেরা সময় ও কাজের কিছু টিপস।

পার্কটি কোথায় অবস্থিত
নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকায় অবস্থিত। জেলা শহর মাইজদী থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায়। নোয়াখালী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা (নোয়াখালী জেলা সম্পর্কে জানুন), আর এই পার্ক জেলা শহরকেন্দ্রিক বিনোদনের অন্যতম প্রধান ঠিকানা। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে খোলামেলা পরিবেশে গড়ে ওঠায় সপ্তাহান্তে এখানে পরিবারগুলোর ভিড় লেগেই থাকে।
ছোটদের আনন্দের জগৎ
পার্কের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশ শিশুদের রাইড জোন। রঙিন মেরি-গো-রাউন্ডে চড়ে ছোটদের মুখে যে হাসি ফোটে, তা দেখাই বাবা-মায়ের বড় আনন্দ। এছাড়া আছে ছোট ট্রেন, দোলনা, স্লাইড আর বাউন্সি জোন — যেখানে শিশুরা নিরাপদে দৌড়ঝাঁপ করতে পারে। পাশেই বসার জায়গা থাকায় অভিভাবকরা কাছ থেকে নজর রাখতে পারেন।
বড়দের জন্য রোমাঞ্চ
শুধু শিশুরা নয়, তরুণ ও বড়দের জন্যও আছে রোমাঞ্চকর রাইড। বাম্পার কারে বন্ধুদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মজা, ঘূর্ণি রাইডের চক্কর আর গতির রাইডগুলো মুহূর্তেই মন চাঙা করে দেয়। যারা একটু শান্তভাবে সময় কাটাতে চান, তারা পার্কের ভেতর হেঁটে বেড়াতে পারেন বা সবুজ চত্বরে বসে আড্ডা দিতে পারেন।

ওয়াটার জোন ও গেম জোন
গরমের দিনে পার্কের ওয়াটার জোনই সবচেয়ে জনপ্রিয়। ওয়াটার স্লাইড আর পানিতে খেলার জায়গায় শিশু-কিশোরদের ভিড় থাকে। পাশাপাশি গেম জোনে আছে ভিডিও গেম ও টার্গেট গেমের স্টল — পরিবারের সবাই মিলে খেলায় মেতে ওঠার দারুণ সুযোগ। মনে রাখবেন, ওয়াটার জোন মৌসুমভেদে চালু থাকে, তাই যাওয়ার আগে খোঁজ নিয়ে যান।
খাবার আর পিকনিকের ব্যবস্থা
সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হলে পার্কের ভেতরের ফুড কোর্টে বসে পড়ুন। ফাস্টফুড, স্ন্যাকস আর ঠান্ডা পানীয়ের দোকান আছে। চাইলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়েও যেতে পারেন — খোলা চত্বরে দল বেঁধে পিকনিক করার জায়গা রয়েছে। শীত মৌসুমে স্কুল-কলেজের পিকনিকের দলগুলো এখানে আসে।
টিকিট মূল্য
পার্কে ঢুকতে প্রবেশ টিকিট কাটতে হয়, আর জনপ্রিয় রাইডগুলোর জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। নিচের মূল্যতালিকাটি আনুমানিক — মৌসুম বা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে দাম বদলাতে পারে। যাওয়ার আগে পার্কের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়াই ভালো।
| টিকিটের ধরন | মূল্য (আনুমানিক) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্রবেশ টিকিট (জনপ্রতি) | 100 টাকা | শুধু প্রবেশ; রাইড অন্তর্ভুক্ত নয় |
| রাইড টিকিট (প্রতিটি) | 30-80 টাকা | রাইডভেদে মূল্য ভিন্ন হয় |
| ওয়াটার জোন | 100-150 টাকা | মৌসুমভেদে চালু থাকে |
| ছোট শিশু | ফ্রি বা ছাড় | বয়সসীমা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে |
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাওয়া এখন বেশ সহজ। সায়েদাবাদ থেকে বাসে 4-5 ঘণ্টায়, আর কমলাপুর থেকে ট্রেনে 5-6 ঘণ্টায় নোয়াখালী পৌঁছানো যায়। নোয়াখালী শহরে (মাইজদী) নেমে সিএনজি বা অটোরিকশায় 15-25 মিনিটে পার্কে পৌঁছে যাবেন — চালককে “ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক, ধর্মপুর” বললেই হবে। চট্টগ্রাম থেকেও বাসে নোয়াখালী আসা যায়।
| কোথা থেকে | যানবাহন | আনুমানিক সময় | আনুমানিক ভাড়া |
|---|---|---|---|
| ঢাকা (সায়েদাবাদ) | বাস | 4-5 ঘণ্টা | 400-550 টাকা |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ট্রেন | 5-6 ঘণ্টা | 200-350 টাকা |
| নোয়াখালী শহর (মাইজদী) | সিএনজি/অটোরিকশা | 15-25 মিনিট | 50-100 টাকা |
দেশের অন্য পার্কেও ঘুরতে চাইলে ভিন্নজগত পার্ক বা স্বপ্নপুরী আর্টিফিশিয়াল আমিউজমেন্ট পার্কের গাইডও দেখতে পারেন। আর বন্যপ্রাণী দেখার শখ থাকলে দুলাহাজরা সাফারি পার্ক ঘুরে আসুন।
যাওয়ার সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি — শীতকালই পার্কে ঘোরার সেরা সময়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় সারাদিন আরামে ঘোরা যায়, আর এই সময় পিকনিকের মৌসুমও চলে। বিকেলের নরম আলোয় ছবি তোলার জন্য পার্ক দারুণ লাগে। তবে ছুটির দিনে বিকেলে ভিড় বেশি হয়; ভিড় এড়াতে চাইলে সকাল 10টার মধ্যে পৌঁছে যান। ওয়াটার জোন উপভোগ করতে চাইলে গরমের মাস (মার্চ-জুন) বেছে নিন। বর্ষায় খোলা চত্বরে কাদা হতে পারে, তাই ছাতা সঙ্গে রাখুন।
যোগাযোগ
ঠিকানা: নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক, ধর্মপুর, নোয়াখালী সদর, নোয়াখালী।
জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা 999 নম্বরে কল করুন। যাওয়ার আগে খোলার সময় ও টিকিটের হালনাগাদ তথ্য পার্কের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে জেনে নিন।
পরিবার নিয়ে যাওয়ার আগে
- ছুটির দিনে সকাল সকাল পৌঁছান — রাইডের লাইন ছোট থাকে।
- শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন।
- রাইডে ওঠার আগে বয়স ও উচ্চতার নিয়ম দেখে নিন; শিশুদের চোখের আড়াল করবেন না।
- টিকিটের রসিদ ও মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখুন।
- ওয়াটার জোনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বাড়তি পোশাক ও তোয়ালে নিন।
- ফেরার গাড়ি আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর।
একদিনের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটানোর জন্য নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক চমৎকার গন্তব্য। পরিকল্পনা করে বেরিয়ে পড়ুন — শিশুদের মুখের হাসিই হবে দিনের সেরা প্রাপ্তি।
নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক কোথায় অবস্থিত?
পার্কটি নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকায়, জেলা শহর মাইজদীর কাছে অবস্থিত। ঠিকানা: নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক, ধর্মপুর, নোয়াখালী সদর, নোয়াখালী।
নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্কের টিকিট মূল্য কত?
প্রবেশ টিকিট আনুমানিক 100 টাকা (জনপ্রতি)। জনপ্রিয় রাইডগুলোর জন্য আলাদা টিকিট লাগে — প্রতিটি 30-80 টাকা। ওয়াটার জোনের ফি আনুমানিক 100-150 টাকা। দাম পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে হালনাগাদ তথ্য জেনে নিন।
পার্ক কখন খোলা থাকে?
পার্কটি সাধারণত প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে সময় মৌসুমভেদে বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে খোঁজ নিন।
ছোট শিশুদের নিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ। শিশুদের জন্য আলাদা রাইড জোন, মেরি-গো-রাউন্ড, মিনি ট্রেন ও বাউন্সি জোন আছে। তবে রাইডে ওঠার সময় বয়স ও উচ্চতার নিয়ম মেনে চলুন এবং শিশুদের সবসময় সঙ্গে রাখুন।
ওয়াটার জোন কখন চালু থাকে?
ওয়াটার জোন সাধারণত গরমের মৌসুমে (মার্চ-জুন) চালু থাকে। শীতকালে এটি বন্ধ থাকতে পারে, তাই যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
ঢাকা থেকে নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্কে কিভাবে যাব?
ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বাসে (4-5 ঘণ্টা) বা কমলাপুর থেকে ট্রেনে (5-6 ঘণ্টা) নোয়াখালী যান। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় 15-25 মিনিটে পার্কে পৌঁছাতে পারবেন।
