সংক্ষেপে

  • বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (Bangladesh Parjatan Corporation) সারা দেশের পর্যটন এলাকায় সরকারি হোটেল ও মোটেল পরিচালনা করে।
  • কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়াসহ অন্তত 14টি জেলায় তাদের ইউনিট রয়েছে।
  • বেসরকারি হোটেলের তুলনায় ভাড়া তুলনামূলক কম — ইকোনমি বেড 200–300 টাকা থেকে শুরু (প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী)।
  • hotels.gov.bd থেকে অনলাইনে রুম বুকিং করা যায়।
  • সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেক ইউনিট পর্যায়ক্রমে পিপিপি (PPP) মডেলে পরিচালিত হতে পারে — যাওয়ার আগে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করুন।

বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সরকারি ট্যুরিজম হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে — বাংলাদেশেও সেই সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। দেশের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোতে তাদের নিজস্ব হোটেল ও মোটেল রয়েছে, যেখানে বেসরকারি হোটেলের তুলনায় সাধারণত কম খরচে থাকা যায়। এই গাইডে পর্যটন কর্পোরেশন হোটেল ও মোটেলের সম্পূর্ণ তালিকা, কোন জেলায় কোন ইউনিট আছে, প্রকাশিত ভাড়ার ধারণা, অনলাইন বুকিং পদ্ধতি এবং যাওয়ার আগে জানা দরকারি টিপস — সব এক জায়গায় তুলে ধরা হলো।

এই গাইডে যা যা আছে

  1. পর্যটন কর্পোরেশন হোটেল কী ও কেন এখানে থাকবেন
  2. ঢাকা — হোটেল অবকাশ
  3. কক্সবাজার — শৈবাল, প্রবাল, লাবণী ও উপল
  4. কুয়াকাটা — মোটেল, ইয়ুথ ইন ও হলিডে হোমস
  5. সিলেট ও জাফলং
  6. উত্তরবঙ্গ — রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া
  7. পার্বত্য এলাকা — খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান
  8. খুলনা অঞ্চল — মোংলা
  9. টেকনাফ, বেনাপোল, টুঙ্গিপাড়া ও চট্টগ্রাম
  10. পর্যটন কর্পোরেশন হোটেলের ভাড়া ও ট্যারিফের ধারণা
  11. কীভাবে বুকিং করবেন
  12. যাওয়ার আগে জেনে নিন
  13. যোগাযোগ
  14. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পর্যটন কর্পোরেশন হোটেল কী ও কেন এখানে থাকবেন

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (Bangladesh Parjatan Corporation) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা — দেশের জাতীয় পর্যটন সংস্থা হিসেবে কাজ করে। পর্যটন প্রচার ও অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি কর্পোরেশন নিজে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পিকনিক স্পট পরিচালনা করে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী একসময় সারা দেশে তাদের 22টি হোটেল-মোটেল ছিল, মোট শয্যাসংখ্যা প্রায় 750।

তাদের ইউনিটে থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা তিনটি — দাম, লোকেশন ও নিরাপত্তা। ভাড়া বেসরকারি হোটেলের তুলনায় কম রাখা হয়, ইউনিটগুলো সাধারণত পর্যটন এলাকার ভালো জায়গায় (সৈকতের কাছে, শহরের কেন্দ্রে), আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। পরিবার, শিক্ষা সফর বা বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য এগুলো কার্যকর বিকল্প।

ঢাকা — হোটেল অবকাশ

রাজধানীতে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল হোটেল অবকাশ (Hotel Abakash), মহাখালীতে। ঢাকায় কাজে বা ট্রানজিটে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য এটি সাশ্রয়ী সরকারি অপশন। প্রকাশিত ট্যারিফ তালিকা অনুযায়ী এখানে রয়েল স্যুট 10,000 টাকা, ব্রাইডাল রুম ও ডিলাক্স স্যুট 6,000 টাকা, ডিলাক্স এসি কুইন রুম 5,000 টাকা এবং এসি টুইন রুম 4,000–5,000 টাকার মধ্যে (পরিবর্তন হতে পারে)। বিমানবন্দর ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে যাতায়াত সহজ বলে সংক্ষিপ্ত থাকার জন্য উপযোগী।

কক্সবাজার — শৈবাল, প্রবাল, লাবণী ও উপল

কক্সবাজারে (Cox’s Bazar) পর্যটন কর্পোরেশনের সবচেয়ে বেশি পরিচিত কয়েকটি ইউনিট রয়েছে। হোটেল শৈবাল মোটেল রোডের শেষ প্রান্তে 1982–1985 সালে নির্মিত — সবুজে ঘেরা বড় ক্যাম্পাস ও মিঠাপানির পুকুরসহ এটি কর্পোরেশনের অন্যতম বড় সম্পত্তি। পাশাপাশি রয়েছে মোটেল প্রবাল ও মোটেল লাবণী। সৈকত থেকে একটু দূরে, ইনানীতে (Inani) রয়েছে মোটেল উপল — নিরিবিলি পরিবেশে সাগর দেখতে চাইলে এটি জনপ্রিয়। মোটেল উপল নিয়ে অভিযানের বিস্তারিত গাইড পড়ুন: মটেল উপল: কক্সবাজারের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। কক্সবাজারের বেসরকারি হোটেল-রিসোর্টের বিকল্প জানতে দেখুন সেন্ট মার্টিনের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট।

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে পর্যটন মোটেল — কুয়াকাটায় পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে পর্যটন মোটেল। ছবি: Shahnoor Habib Munmun, Wikimedia Commons (CC BY 3.0)

কুয়াকাটা — মোটেল, ইয়ুথ ইন ও হলিডে হোমস

সাগরকন্যা কুয়াকাটায় (Kuakata) কর্পোরেশনের রয়েছে পর্যটন মোটেল ও ইয়ুথ ইন এবং হলিডে হোমস। প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী মোটেলে এসি রয়েল ডিলাক্স 5,000 টাকা, এসি কাপল 3,000 টাকা, এসি টুইন 2,500 টাকা, নন-এসি কাপল 1,500 টাকা এবং নন-এসি ফোর বেড 1,600 টাকা। হলিডে হোমসে এসি কাপল ডিলাক্স 2,000 টাকা, এসি টুইন 1,700 টাকা, ইকোনমি রুম 600 টাকা ও প্রতি বেড 500 টাকা — বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে সস্তা অপশনগুলোর একটি। কুয়াকাটার পর্যটন মোটেল নিয়ে বিস্তারিত: পর্যটন মোটেল কুয়াকাটা: সাগরকন্যার ঠিকানা। এলাকার অন্য হোটেলের তুলনা দেখুন কুয়াকাটার হোটেল: সেরা 7টি হোটেল ও রিসোর্টের সম্পূর্ণ গাইড।

সিলেট ও জাফলং

সিলেটে (Sylhet) পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলটি পাহাড়ি এলাকায় বড় জায়গা নিয়ে অবস্থিত — সরকারি হিসাবে প্রায় 50–60 একর এলাকা। প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী এসি কাপল বেড 3,000 টাকা, এসি কুইন বেড 2,600 টাকা, নন-এসি টুইন বেড (টিভিসহ) 1,900 টাকা ও ড্রাইভার বেড 600 টাকা। চা-বাগান ও জাফলং (Jaflong) ভ্রমণের বেস হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়; জাফলংয়েও কর্পোরেশনের মোটেল রয়েছে (এসি টুইন বেড 1,800 টাকা, প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী)। সিলেটের অন্য থাকার অপশন: সিলেটের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট।

রাজশাহীর পর্যটন মোটেলের সামনের দৃশ্য — উত্তরবঙ্গে পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল
রাজশাহীর পর্যটন মোটেলের সামনের দৃশ্য। ছবি: Musfiq munna, Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0)

উত্তরবঙ্গ — রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া

উত্তরবঙ্গের প্রধান শহরগুলোতেও পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল আছে, যা ওই অঞ্চল ভ্রমণে সাশ্রয়ী থাকার ঠিকানা দেয়।

  • রাজশাহী: ভিআইপি স্যুট 4,600 টাকা, এসি থ্রি বেড 4,000 টাকা, এসি টুইন/কাপল 2,600 টাকা, এসি সিঙ্গেল 1,900 টাকা, ইকোনমি বেড 300 টাকা (প্রকাশিত ট্যারিফ)। পদ্মাপাড় ভ্রমণের জন্য শহরের কেন্দ্রীয় অবস্থান সুবিধাজনক।
  • দিনাজপুর: এসি ডিলাক্স 2,300 টাকা, এসি টুইন 1,900 টাকা, ইকোনমি রুম 700 টাকা, প্রতি বেড 400 টাকা। কান্তজিউ মন্দির ও রামসাগর ভ্রমণের বেস হিসেবে কাজে লাগে।
  • রংপুর: ভিআইপি এসি স্যুট 4,400 টাকা, এসি টুইন 2,900 টাকা, ইকোনমি বেড মাত্র 200 টাকা — বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য অন্যতম সস্তা সরকারি থাকার ব্যবস্থা।
  • বগুড়া: এসি স্যুট 4,700 টাকা, এসি টুইন 2,900 টাকা, নন-এসি টুইন 2,000 টাকা, ড্রাইভার বেড 800 টাকা, সিঙ্গেল 500 টাকা। মহাস্থানগড় ভ্রমণে থাকার জন্য উপযোগী।
বগুড়ার পর্যটন মোটেল — মহাস্থানগড় ভ্রমণে থাকার সাশ্রয়ী ঠিকানা
বগুড়ার পর্যটন মোটেল। ছবি: Wikimedia Commons (CC BY-SA 3.0)

উত্তরবঙ্গের বেসরকারি হোটেলের তালিকা দেখুন: দিনাজপুরের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট।

বান্দরবানের পর্যটন মোটেল — পার্বত্য এলাকায় পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল
বান্দরবানের পর্যটন মোটেল। ছবি: Faisal Akram, Wikimedia Commons (CC BY-SA 2.0)

পার্বত্য এলাকা — খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান

পার্বত্য চট্টগ্রামেও কর্পোরেশনের ইউনিট রয়েছে। খাগড়াছড়ির পর্যটন মোটেলে প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী এসি স্যুট 3,100 টাকা, এসি টুইন 2,100 টাকা, নন-এসি টুইন 1,300 টাকা ও ইকোনমি রুম 300 টাকা। সাজেক যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ি শহরে রাত কাটানোর সাশ্রয়ী অপশন এটি। বান্দরবানেও পর্যটন মোটেল রয়েছে — পাহাড়ি শহর ঘুরতে গিয়ে বাজেটের মধ্যে থাকতে চাইলে খোঁজ নিতে পারেন। পার্বত্য এলাকার বেসরকারি থাকার অপশন: বান্দরবানের সেরা হোটেল ও রিসোর্ট।

খুলনা অঞ্চল — মোংলা

সুন্দরবন ভ্রমণের প্রবেশদ্বার মোংলায় পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল রয়েছে। প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী এসি কাপল ও এসি টুইন বেড 2,000 টাকা, নন-এসি কাপল ও টুইন 1,200 টাকা। সুন্দরবন ট্যুরের আগে-পরে রাত কাটানোর জন্য এটি বাজেট-বান্ধব ঠিকানা। খুলনা শহরের হোটেল দেখুন: খুলনার সেরা হোটেল।

টেকনাফ, বেনাপোল, টুঙ্গিপাড়া ও চট্টগ্রাম

  • টেকনাফ — হোটেল নে-তাউং (Hotel Ne-Taung): এসি স্যুট 3,100 টাকা, এসি টুইন 1,800 টাকা, নন-এসি টুইন 1,200 টাকা, এসি ডাবল 2,000 টাকা (প্রকাশিত ট্যারিফ)। সেন্ট মার্টিন যাওয়ার আগে টেকনাফে থাকার সরকারি অপশন।
  • বেনাপোল: স্থলবন্দর এলাকায় মোটেল — এসি স্যুট 3,800 টাকা, এসি টুইন 2,200 টাকা, নন-এসি টুইন 1,500 টাকা, ডরমিটরি (4 বেডের রুম) 300 টাকা। ভারত যাতায়াতকারীদের ট্রানজিট থাকার জন্য উপযোগী।
  • টুঙ্গিপাড়া: এসি টুইন 1,300 টাকা, নন-এসি টুইন 800 টাকা, ডরমিটরি প্রতি বেড 200 টাকা — সবচেয়ে কম খরচের ইউনিটগুলোর একটি।
  • চট্টগ্রাম: শৈকত এলাকায় এসি স্যুট রুম 7,000 টাকা (প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী)।

পর্যটন কর্পোরেশন হোটেলের ভাড়া ও ট্যারিফের ধারণা

নিচের টেবিলে কয়েকটি ইউনিটের প্রকাশিত ট্যারিফ দেওয়া হলো। এগুলো কর্পোরেশনের পুরনো প্রকাশিত তালিকা থেকে নেওয়া — বর্তমান ভাড়া বদলে থাকতে পারে, তাই বুকিংয়ের সময় হালনাগাদ ভাড়া অবশ্যই যাচাই করে নিন। বিদেশি পর্যটকদের জন্য কিছু ক্যাটাগরিতে আলাদা (বেশি) ট্যারিফ প্রযোজ্য।

ইউনিট রুমের ধরন ভাড়া (টাকা, আনুমানিক)
হোটেল অবকাশ, ঢাকাডিলাক্স স্যুট / রয়েল স্যুট6,000 / 10,000
কক্সবাজারইন্টারন্যাশনাল স্যুট / এসি স্ট্যান্ডার্ড10,000 / 3,500
কুয়াকাটা মোটেলএসি কাপল / নন-এসি কাপল3,000 / 1,500
কুয়াকাটা হলিডে হোমসইকোনমি রুম / প্রতি বেড600 / 500
সিলেটএসি কাপল / নন-এসি টুইন3,000 / 1,900
রাজশাহীভিআইপি স্যুট / এসি টুইন4,600 / 2,600
রংপুর / বগুড়াএসি টুইন / ইকোনমি বেড2,900 / 200–300
টুঙ্গিপাড়াডরমিটরি (প্রতি বেড)200

কীভাবে বুকিং করবেন

পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল-মোটেলে রুম বুক করার কয়েকটি উপায় আছে:

  1. অনলাইন: hotels.gov.bd পোর্টাল থেকে সরাসরি রুম রিজার্ভ করা যায়; অনলাইন পেমেন্টের (মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) ব্যবস্থাও রয়েছে — অনলাইন বুকিং সেবা চালুর খবর।
  2. সরাসরি: সংশ্লিষ্ট মোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে বা ফোনে খালি থাকা সাপেক্ষে রুম নিতে হয়। সিজনে (শীতকাল, ঈদের ছুটি) আগে বুকিং করা ভালো।
  3. প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মহাখালীর প্রধান কার্যালয় থেকেও বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় (যোগাযোগ বিভাগ দেখুন)।

বুকিংয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন; বিদেশি অতিথিদের পাসপোর্ট লাগে। চেক-ইন সাধারণত দুপুর 12টা থেকে।

যাওয়ার আগে জেনে নিন

  • ভাড়া যাচাই করুন: এই গাইডের ট্যারিফ পুরনো প্রকাশিত তালিকা থেকে নেওয়া। বর্তমান ভাড়া ওপরে-নিচে হতে পারে — বুকিংয়ের সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
  • পিপিপি পরিবর্তন: সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্পোরেশনের হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ সব স্থাপনা পর্যায়ক্রমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) মডেলে পরিচালনার প্রক্রিয়ায় আছে — পর্যটন কর্পোরেশনের সব স্থাপনা পিপিপি মডেলে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনা বা ভাড়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।
  • সিজন: অক্টোবর–মার্চ পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও সিলেটের ইউনিটে চাপ বেশি থাকে; 7–10 দিন আগে বুকিং নিরাপদ।
  • বাজেট টিপস: একা বা দলবেঁধে গেলে ইকোনমি বেড বা ডরমিটরি (200–500 টাকা) সবচেয়ে সস্তা; শিক্ষা সফরের দলের জন্য ইয়ুথ ইন/হলিডে হোমস উপযোগী।
  • খাবার: বেশিরভাগ ইউনিটে নিজস্ব রেস্তোরাঁ আছে; বাইরে খেতে চাইলে আশপাশের স্থানীয় হোটেলেও সুবিধা পাবেন।

যোগাযোগ

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের প্রকাশিত ঠিকানা: 83–88, বীর উত্তম এ. কে. খন্দকার রোড, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-1212। টেলিফোন: +88-02-8833229; ইমেইল: [email protected]; ওয়েবসাইট: parjatan.gov.bd। নির্দিষ্ট মোটেলের ফোন নম্বর ওয়েবসাইট বা অনলাইন বুকিং পোর্টাল থেকে যাচাই করে নিন।

পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেলে কি অনলাইনে বুকিং করা যায়?

হ্যাঁ। hotels.gov.bd পোর্টাল থেকে কর্পোরেশনের হোটেল-মোটেলে অনলাইনে রুম রিজার্ভ করা যায় এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট দেওয়া যায়। এছাড়া সরাসরি মোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়েও খালি থাকা সাপেক্ষে রুম নেওয়া যায়।

পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলে এক রাতের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?

প্রকাশিত ট্যারিফ অনুযায়ী ইকোনমি বেড বা ডরমিটরি 200–500 টাকা থেকে শুরু — যেমন টুঙ্গিপাড়ায় ডরমিটরি প্রতি বেড 200 টাকা, রংপুরে ইকোনমি বেড 200 টাকা। তবে এগুলো পুরনো তালিকার ভাড়া; বর্তমান ভাড়া বুকিংয়ের সময় যাচাই করুন।

কক্সবাজারে পর্যটন কর্পোরেশনের কোন কোন হোটেল আছে?

কক্সবাজারে হোটেল শৈবাল, মোটেল প্রবাল, মোটেল লাবণী এবং ইনানীতে মোটেল উপল রয়েছে। হোটেল শৈবাল 1982–1985 সালে নির্মিত মোটেল রোডের শেষ প্রান্তে সবুজে ঘেরা বড় ক্যাম্পাসে অবস্থিত।

পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেলে বিদেশিরা থাকতে পারেন?

পারেন। বিদেশি অতিথিদের জন্য কিছু রুম ক্যাটাগরিতে আলাদা ট্যারিফ প্রযোজ্য হতে পারে এবং চেক-ইনের সময় পাসপোর্ট দেখাতে হয়। বুকিংয়ের সময় বিদেশি ট্যারিফ জেনে নিন।

সরকারি হোটেল-মোটেলগুলো কি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে?

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্পোরেশনের হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পিকনিক স্পটসহ সব স্থাপনা পর্যায়ক্রমে পিপিপি (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব) মডেলে পরিচালনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনা ও সেবায় পরিবর্তন আসতে পারে।

পরিবার বা শিক্ষা সফরের দল নিয়ে থাকার সুবিধা আছে?

আছে। কুয়াকাটার ইয়ুথ ইন ও হলিডে হোমস, বেনাপোল ও টুঙ্গিপাড়ার ডরমিটরি দলবেঁধে থাকার জন্য সাশ্রয়ী। বড় দলের জন্য আগে থেকে বুকিং করে রাখা ভালো।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top