⚠️ সতর্কতা: নিচের ভাড়া বিআইডব্লিউটিএ-নির্ধারিত ডেক ভাড়ার সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা ও লঞ্চ-ভ্রমণ প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। ঈদ ও ছুটির ভিড়ে কেবিন ভাড়া ব্যাপক ওঠানামা করে — যাত্রার আগে টার্মিনাল/কাউন্টারে সর্বশেষ ভাড়া নিশ্চিত করুন। ছাড়ার সময় আবহাওয়া ও নদীর অবস্থা অনুযায়ী বদলাতে পারে।

সদরঘাট: ঢাকার সদর দরজা

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা পাড়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল — দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের ঢাকায় পা রাখার আর বিদায়ের জায়গা। মুঘল আমল থেকে এই ঘাট ঢাকার প্রধান নদীবন্দর; পাশেই আহসান মঞ্জিল, কিছুটা হাঁটাপথে লালবাগ কেল্লা ও বাহাদুর শাহ পার্ক। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কমলেও বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুরগামী শত শত লঞ্চের আনাগোনায় সদরঘাট এখনো দেশের ব্যস্ততম নদী টার্মিনালগুলোর একটি — সন্ধ্যায় পুরো পাড় জুড়ে হকারের হাঁক, কুলিদের ছোটাছুটি আর সাইরেনের শব্দে এক অদ্ভুত প্রাণ।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ঢাকা — বুড়িগঙ্গার পাড়ে লঞ্চের সারি
সদরঘাট টার্মিনালে লঞ্চের সারি। ছবি: Md Shaifuzzaman, উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কোন কোন গন্তব্যে লঞ্চ যায়

সদরঘাট থেকে সবচেয়ে ব্যস্ত রুট ঢাকা–বরিশাল: আধুনিক লঞ্চগুলো (সুন্দরবন, পারাবত, প্রিন্স আওলাদ, এডভেঞ্চার, মানামী, সুরভী) রাত ~৯টায় ছেড়ে ভোর ~৫টায় বরিশাল পৌঁছায়। এছাড়া পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, হাতিয়া, চাঁদপুরসহ দক্ষিণ ও উপকূলীয় নানা ঘাটে নিয়মিত লঞ্চ চলে — বেশিরভাগই সন্ধ্যা-রাতে ছাড়ে। দূরত্ব ছোট হলে (চাঁদপুর) দিনের যাত্রাও মেলে।

ভাড়া: বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ডেক ভাড়া

রুট ডেক ভাড়া (নির্ধারিত)
ঢাকা–চাঁদপুর২০০ টাকা
ঢাকা–বরিশাল৪২৯ টাকা
ঢাকা–ভোলা৪২৪ টাকা
ঢাকা–পটুয়াখালী৫৩৫ টাকা
ঢাকা–ঝালকাঠি৫৪৪ টাকা
ঢাকা–হাতিয়া৫৪২ টাকা
ঢাকা–বরগুনা৬৯৮ টাকা

কেবিন: বিআইডব্লিউটিএ নিয়মে সিঙ্গেল কেবিন (নন-এসি) = ডেক ভাড়ার ৪ গুণ, ডাবল কেবিন = ৮ গুণ। বাস্তব প্রতিবেদন অনুযায়ী বরিশাল রুটে সিঙ্গেল ~১,০০০, ডাবল ~২,০০০, ফ্যামিলি ২,৫০০–৩,০০০, সেমি-ভিআইপি ৩,৫০০–৪,০০০ এবং ভিআইপি ৬,০০০–১০,০০০ টাকা পর্যন্ত (অপারেটর ও মৌসুমভেদে)। চলাচলের তথ্য: বিআইডব্লিউটিএ।

রাতের সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ঢাকা
রাতের সদরঘাট — ছাড়ার অপেক্ষায় আলোকিত লঞ্চ। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

টিকিট ও যাত্রার টিপস

  • কেবিন চাইলে যাত্রার দিন বিকেল ৪–৫টার মধ্যে টার্মিনালে পৌঁছে সরাসরি লঞ্চের কাউন্টারে টিকিট করুন — ঈদের মৌসুমে আরও আগে।
  • ডেক যাত্রায় চাদর/হালকা কম্বল সঙ্গে নিন; মূল্যবান জিনিস বুকের ব্যাগে, পকেটমার থেকে সাবধান থাকুন — টার্মিনাল এলাকায় ভিড় অসাধারণ।
  • লঞ্চে রাতের খাবারের ব্যবস্থা থাকে (ক্যান্টিন) — ভাত-ডাল থেকে ইলিশ/রুপচাঁদা পর্যন্ত মেনু মেলে।
  • ভোরে গন্তব্যে পৌঁছলেও লঞ্চে সকাল ~৮টা পর্যন্ত থাকা/ঘুমানো যায় (বরিশাল রুটে প্রচলিত) — তাড়া না থাকলে ভিড় এড়িয়ে নামুন।
  • শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে যাত্রা হলে কেবিন নিন; ডেকে রাত কাটানো ওঠাবসা সবার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
  • সদরঘাট ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লা একই বেলায় রাখুন — দুটোই হাঁটাপথে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

সদরঘাট কোথায়?

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে — আহসান মঞ্জিলের পাশে; গুলিস্তান/সদরঘাট এলাকা থেকে সহজে পৌঁছানো যায়।

ঢাকা থেকে বরিশাল লঞ্চ কখন ছাড়ে?

বেশিরভাগ বরিশাল লঞ্চ রাত ~৯টায় ছেড়ে ভোর ~৫টায় পৌঁছায়; লঞ্চভেদে কিছুটা হেরফের আছে।

ঢাকা–বরিশাল লঞ্চের ডেক ভাড়া কত?

বিআইডব্লিউটিএ-নির্ধারিত ৪২৯ টাকা; সিঙ্গেল কেবিন ~১,০০০ ও ডাবল ~২,০০০ টাকা (প্রতিবেদন অনুযায়ী)।

সদরঘাট থেকে কোন কোন জায়গায় লঞ্চ যায়?

বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, হাতিয়া, চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বহু ঘাটে।

লঞ্চের টিকিট কিভাবে কাটবো?

টার্মিনাল ভবন ও প্রতিটি লঞ্চের নিজস্ব কাউন্টারে সরাসরি — কেবিনের জন্য বিকেলে আগেভাগে যান।

সদরঘাট ঘুরতে গেলে পাশে আর কি দেখবো?

আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, বাহাদুর শাহ পার্ক ও পুরান ঢাকার বিখ্যাত খাবারের দোকানগুলো কাছেই।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top