সদরঘাট: ঢাকার সদর দরজা
পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা পাড়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল — দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের ঢাকায় পা রাখার আর বিদায়ের জায়গা। মুঘল আমল থেকে এই ঘাট ঢাকার প্রধান নদীবন্দর; পাশেই আহসান মঞ্জিল, কিছুটা হাঁটাপথে লালবাগ কেল্লা ও বাহাদুর শাহ পার্ক। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কমলেও বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুরগামী শত শত লঞ্চের আনাগোনায় সদরঘাট এখনো দেশের ব্যস্ততম নদী টার্মিনালগুলোর একটি — সন্ধ্যায় পুরো পাড় জুড়ে হকারের হাঁক, কুলিদের ছোটাছুটি আর সাইরেনের শব্দে এক অদ্ভুত প্রাণ।
কোন কোন গন্তব্যে লঞ্চ যায়
সদরঘাট থেকে সবচেয়ে ব্যস্ত রুট ঢাকা–বরিশাল: আধুনিক লঞ্চগুলো (সুন্দরবন, পারাবত, প্রিন্স আওলাদ, এডভেঞ্চার, মানামী, সুরভী) রাত ~৯টায় ছেড়ে ভোর ~৫টায় বরিশাল পৌঁছায়। এছাড়া পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, হাতিয়া, চাঁদপুরসহ দক্ষিণ ও উপকূলীয় নানা ঘাটে নিয়মিত লঞ্চ চলে — বেশিরভাগই সন্ধ্যা-রাতে ছাড়ে। দূরত্ব ছোট হলে (চাঁদপুর) দিনের যাত্রাও মেলে।
ভাড়া: বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত ডেক ভাড়া
| রুট | ডেক ভাড়া (নির্ধারিত) |
|---|---|
| ঢাকা–চাঁদপুর | ২০০ টাকা |
| ঢাকা–বরিশাল | ৪২৯ টাকা |
| ঢাকা–ভোলা | ৪২৪ টাকা |
| ঢাকা–পটুয়াখালী | ৫৩৫ টাকা |
| ঢাকা–ঝালকাঠি | ৫৪৪ টাকা |
| ঢাকা–হাতিয়া | ৫৪২ টাকা |
| ঢাকা–বরগুনা | ৬৯৮ টাকা |
কেবিন: বিআইডব্লিউটিএ নিয়মে সিঙ্গেল কেবিন (নন-এসি) = ডেক ভাড়ার ৪ গুণ, ডাবল কেবিন = ৮ গুণ। বাস্তব প্রতিবেদন অনুযায়ী বরিশাল রুটে সিঙ্গেল ~১,০০০, ডাবল ~২,০০০, ফ্যামিলি ২,৫০০–৩,০০০, সেমি-ভিআইপি ৩,৫০০–৪,০০০ এবং ভিআইপি ৬,০০০–১০,০০০ টাকা পর্যন্ত (অপারেটর ও মৌসুমভেদে)। চলাচলের তথ্য: বিআইডব্লিউটিএ।
টিকিট ও যাত্রার টিপস
- কেবিন চাইলে যাত্রার দিন বিকেল ৪–৫টার মধ্যে টার্মিনালে পৌঁছে সরাসরি লঞ্চের কাউন্টারে টিকিট করুন — ঈদের মৌসুমে আরও আগে।
- ডেক যাত্রায় চাদর/হালকা কম্বল সঙ্গে নিন; মূল্যবান জিনিস বুকের ব্যাগে, পকেটমার থেকে সাবধান থাকুন — টার্মিনাল এলাকায় ভিড় অসাধারণ।
- লঞ্চে রাতের খাবারের ব্যবস্থা থাকে (ক্যান্টিন) — ভাত-ডাল থেকে ইলিশ/রুপচাঁদা পর্যন্ত মেনু মেলে।
- ভোরে গন্তব্যে পৌঁছলেও লঞ্চে সকাল ~৮টা পর্যন্ত থাকা/ঘুমানো যায় (বরিশাল রুটে প্রচলিত) — তাড়া না থাকলে ভিড় এড়িয়ে নামুন।
- শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে যাত্রা হলে কেবিন নিন; ডেকে রাত কাটানো ওঠাবসা সবার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
- সদরঘাট ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লা একই বেলায় রাখুন — দুটোই হাঁটাপথে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সদরঘাট কোথায়?
পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে — আহসান মঞ্জিলের পাশে; গুলিস্তান/সদরঘাট এলাকা থেকে সহজে পৌঁছানো যায়।
ঢাকা থেকে বরিশাল লঞ্চ কখন ছাড়ে?
বেশিরভাগ বরিশাল লঞ্চ রাত ~৯টায় ছেড়ে ভোর ~৫টায় পৌঁছায়; লঞ্চভেদে কিছুটা হেরফের আছে।
ঢাকা–বরিশাল লঞ্চের ডেক ভাড়া কত?
বিআইডব্লিউটিএ-নির্ধারিত ৪২৯ টাকা; সিঙ্গেল কেবিন ~১,০০০ ও ডাবল ~২,০০০ টাকা (প্রতিবেদন অনুযায়ী)।
সদরঘাট থেকে কোন কোন জায়গায় লঞ্চ যায়?
বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, হাতিয়া, চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বহু ঘাটে।
লঞ্চের টিকিট কিভাবে কাটবো?
টার্মিনাল ভবন ও প্রতিটি লঞ্চের নিজস্ব কাউন্টারে সরাসরি — কেবিনের জন্য বিকেলে আগেভাগে যান।
সদরঘাট ঘুরতে গেলে পাশে আর কি দেখবো?
আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, বাহাদুর শাহ পার্ক ও পুরান ঢাকার বিখ্যাত খাবারের দোকানগুলো কাছেই।
