ঢাকার যানজট আর কোলাহল থেকে মাত্র দেড়-2 ঘণ্টা দূরে সবুজের মাঝে এমন একটি ঠিকানা আছে, যেখানে সপ্তাহান্তের ছুটিটা কাটিয়ে আসা যায় শহরের ভিড় ভুলে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত সহাগ পল্লী রিসোর্ট ঠিক এমনই একটি জায়গা — বড় বড় গাছ, ফুলের বাগান আর জলাশয়ঘেরা শান্ত পরিবেশে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর মতো আদর্শ।
এই লেখায় থাকছে রিসোর্টের রুম ও প্যাকেজের বিস্তারিত, ভেতরের সুবিধা, বুকিং প্রক্রিয়া এবং পরিবার নিয়ে যাওয়ার উপযোগিতা নিয়ে ব্যবহারিক ধারণা — যাতে যাওয়ার আগেই পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে পারেন।
অবস্থান ও যাতায়াত
সহাগ পল্লী রিসোর্ট গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার কালামপুরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে দূরত্ব প্রায় 50 কিলোমিটার। যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর যাওয়া। প্রাইভেট গাড়িতে সময় লাগে দেড় থেকে 2 ঘণ্টা। বাসে যেতে চাইলে গাবতলী বা মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে চন্দ্রায় নেমে সেখান থেকে লোকাল পরিবহনে রিসোর্টে যাওয়া যায়। দল বেঁধে গেলে ভাড়া করা মাইক্রোবাস সবচেয়ে সুবিধাজনক। রাস্তার অবস্থা ও যানজটের ওপর সময় কমবেশি হতে পারে, তাই হাতে অতিরিক্ত সময় রাখা ভালো।
রুম ও থাকার ব্যবস্থা
রিসোর্টে কয়েক ধরনের থাকার ব্যবস্থা আছে — ছোট পরিবার থেকে বড় দল, সবার কথা ভেবেই রুম সাজানো হয়েছে। ডিলাক্স রুমগুলো 2 জনের জন্য উপযুক্ত; স্বল্প খরচে রাত্রিযাপন করতে চাইলে এগুলোই ভালো পছন্দ। এক্সিকিউটিভ কটেজে 3 থেকে 4 জন থাকা যায়, আর আশপাশে গাছপালা থাকায় কটেজগুলোতে আলাদা একটা গ্রাম্য আবহ পাওয়া যায়। বড় পরিবার বা একসঙ্গে কয়েকজন গেলে ফ্যামিলি স্যুট সুবিধাজনক — প্রশস্ত কক্ষের সঙ্গে বসার জায়গা থাকে। আর 6 থেকে 8 জনের দলের জন্য আছে গ্রুপ কটেজ, যেখানে এক ছাদের নিচে সবাই মিলে থাকার মজাটাই আলাদা।
| রুমের ধরন | ধারণক্ষমতা | ভাড়া (প্রতি রাত) |
|---|---|---|
| ডিলাক্স রুম | 2 জন | 3,500 টাকা (আনুমানিক) |
| এক্সিকিউটিভ কটেজ | 3–4 জন | 6,000 টাকা (আনুমানিক) |
| ফ্যামিলি স্যুট | 4–5 জন | 9,000 টাকা (আনুমানিক) |
| গ্রুপ কটেজ | 6–8 জন | 12,000 টাকা (আনুমানিক) |
ভাড়া মৌসুম ও চাহিদা অনুযায়ী বদলাতে পারে, তাই বুকিংয়ের আগে ফোনে বর্তমান ভাড়া নিশ্চিত করে নিন। গাজীপুরের অন্য রিসোর্টের সঙ্গে তুলনা করতে চাইলে দেখতে পারেন ভাওয়াল রিসোর্ট বা নাজিমগড় গার্ডেন রিসোর্টের রুম রেট।

প্যাকেজ: দিনভ্রমণ থেকে কর্পোরেট আয়োজন
রাত্রিযাপন না করে শুধু দিনভ্রমণ করতে চাইলেও সহাগ পল্লী রিসোর্টে সুব্যবস্থা আছে। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার আর সুইমিং পুল ব্যবহারসহ ডে-ট্রিপ প্যাকেজটি পরিবার বা বন্ধুদের ছোট দলের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বড় দলের পিকনিকের জন্য আছে পিকনিক প্যাকেজ — 2 বেলা খাবারের পাশাপাশি খেলার মাঠ ও হল ব্যবহারের সুবিধা থাকে। আর অফিসের বার্ষিক ভ্রমণ বা টিম বিল্ডিংয়ের মতো আয়োজনের জন্য কর্পোরেট প্যাকেজে কনফারেন্স হল, খাবার ও খেলাধুলার ব্যবস্থা একসঙ্গে মেলে।
| প্যাকেজ | যা যা থাকে | দাম (জনপ্রতি) |
|---|---|---|
| ডে-ট্রিপ প্যাকেজ | সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, সুইমিং পুল ব্যবহার | 1,500 টাকা (আনুমানিক) |
| পিকনিক প্যাকেজ | 2 বেলা খাবার, খেলার মাঠ ও হল ব্যবহার | 2,000 টাকা (আনুমানিক) |
| কর্পোরেট প্যাকেজ | কনফারেন্স হল, খাবার ও খেলাধুলার ব্যবস্থা | 2,500 টাকা (আনুমানিক) |
প্যাকেজের দামও আনুমানিক ও পরিবর্তনশীল। দলের আকার বড় হলে ছাড়ের সুযোগ থাকতে পারে, তাই ফোনে কথা বলে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সুবিধা ও ভেতরের পরিবেশ
রিসোর্টের ভেতরে ঘুরে বেড়ানোর মতো জায়গার অভাব নেই। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা, খেলার মাঠে ক্রিকেট-ফুটবল, আর সন্ধ্যায় জলাশয়ের পাশে বসে আড্ডা — দিনটা কেটে যায় টেরই পাওয়া যায় না। রেস্টুরেন্টে প্যাকেজ অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা থাকে। কনফারেন্স হল থাকায় কর্পোরেট অনুষ্ঠান বা পারিবারিক বড় আয়োজনেও জায়গাটি নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।

পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য কেমন?
পরিবার নিয়ে যাওয়ার দিক থেকে সহাগ পল্লী রিসোর্ট বেশ উপযোগী। ঢাকা থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় ছোট বাচ্চা বা বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে লম্বা যাত্রার ধকল পোহাতে হয় না। খোলা মাঠে বাচ্চারা নিরাপদে খেলতে পারে, আর ফ্যামিলি স্যুটে একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা থাকায় আলাদা রুমের ঝামেলা কমে। খাবারের মান নিয়ে আগে থেকে কথা বলে নিলে পুরো পরিবারের জন্য দিনটা স্বস্তিদায়ক হয়। প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে মেঘমাটি ভিলেজ রিসোর্টের মতো জায়গাও ঘুরে দেখার মতো।
বুকিং অভিজ্ঞতা ও কিছু পরামর্শ
বুকিং প্রক্রিয়া বেশ সরল — সরাসরি ফোনে কথা বলে রুম বা প্যাকেজ ঠিক করা যায়। ছুটির দিন বা বিশেষ মৌসুমে ভিড় বেশি থাকে, তাই অন্তত 7 দিন আগে বুকিং করা নিরাপদ। বুকিংয়ের সময় যেসব বিষয় নিশ্চিত করে নেবেন: ভাড়ার মধ্যে খাবার অন্তর্ভুক্ত কি না, চেক-ইন ও চেক-আউটের সময়, অতিরিক্ত অতিথির জন্য চার্জ আছে কি না, দলে গেলে গ্রুপ ছাড়ের সুযোগ আছে কি না, এবং অগ্রিম পরিশোধ ও বাতিল নীতি। ফোনে বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পর কনফার্মেশন বার্তাটি সংরক্ষণ করে রাখুন — যাওয়ার দিন কাজে লাগবে।
যাওয়ার সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি — এই 4 মাস যাওয়ার সেরা সময়। আবহাওয়া শুষ্ক ও আরামদায়ক থাকে, ফলে বাইরে ঘোরাঘুরি ও খেলাধুলা করতে সুবিধা হয়। মার্চ থেকে মে মাসে গরম বেশি থাকে; জুন থেকে অক্টোবর বর্ষায় চারপাশ সবুজ দেখালেও বৃষ্টিতে বাইরের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। রিসোর্ট সারা বছর খোলা থাকে, তাই সময় বুঝে পরিকল্পনা সাজান। দেশের পর্যটন তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।
যোগাযোগ
বুকিং ও তথ্যের জন্য রিসোর্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন:
- ঠিকানা: কালামপুর, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
- ফোন: +8801321156888
- ইমেইল: [email protected]
- জাতীয় জরুরি সেবা: 999
যাওয়ার আগে ফোনে রুমের প্রাপ্যতা ও বর্তমান ভাড়া জেনে নিন।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে সহাগ পল্লী রিসোর্ট ঢাকার কাছেই সাধ্যের মধ্যে প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। দিনভ্রমণ হোক বা রাত্রিযাপন — পরিকল্পনা একটু গুছিয়ে নিলে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে কাটানো সময়টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সহাগ পল্লী রিসোর্ট কোথায় অবস্থিত?
সহাগ পল্লী রিসোর্ট গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার কালামপুরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় 50 কিলোমিটার।
ঢাকা থেকে সহাগ পল্লী রিসোর্ট যেতে কত সময় লাগে?
প্রাইভেট গাড়িতে দেড় থেকে 2 ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর যাওয়া যায়।
সহাগ পল্লী রিসোর্টে রুম ভাড়া কত?
রুমের ধরনভেদে ভাড়া আনুমানিক 3,500 থেকে 12,000 টাকা প্রতি রাত। ডে-ট্রিপ প্যাকেজ জনপ্রতি আনুমানিক 1,500 টাকা থেকে শুরু। দাম পরিবর্তনশীল, তাই বুকিংয়ের আগে ফোনে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সহাগ পল্লী রিসোর্টে কি দিনভ্রমণ করা যায়?
হ্যাঁ, দিনভ্রমণের জন্য ডে-ট্রিপ ও পিকনিক প্যাকেজ আছে। প্যাকেজে খাবার ও সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
সহাগ পল্লী রিসোর্ট বুকিং করব কিভাবে?
সরাসরি ফোনে বুকিং করা যায়: +8801321156888। ছুটির দিনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত 7 দিন আগে বুকিং করুন।
সহাগ পল্লী রিসোর্টে যাওয়ার সেরা সময় কখন?
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। এই সময় আবহাওয়া শুষ্ক ও আরামদায়ক থাকে।
