সংক্ষেপে জানুন
- ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস রুটে ২০টির বেশি অপারেটর চলাচল করে — নন-এসি থেকে স্লিপার কোচ পর্যন্ত।
- ভাড়া (আনুমানিক): নন-এসি ৮০০–১,২০০ টাকা, এসি ইকোনমি ১,৩০০–১,৬০০ টাকা, এসি বিজনেস ১,৮০০–২,১০০ টাকা, স্লিপার ২,০০০–২,৫০০ টাকা।
- যাত্রা সময় ৯–১২ ঘণ্টা (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে, ~৪১৫ কিমি)। রাতের কোচ সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- প্রধান কাউন্টার এলাকা: সায়েদাবাদ, আরামবাগ, ফকিরাপুল, কলাবাগান, কল্যাণপুর, রাজারবাগ।
- অনলাইনে টিকিট: অপারেটরের ওয়েবসাইট অথবা Shohoz, Bdtickets থেকে বুকিং করা যায়।
সূচিপত্র
- জনপ্রিয় বাস অপারেটর ও কোচ টাইপ
- ঢাকা-কক্সবাজার বাস ভাড়ার তালিকা
- বাসের সময়সূচি
- ঢাকায় প্রধান বাস কাউন্টার
- অনলাইনে টিকিট বুকিং
- ভ্রমণ টিপস
- সচরাচর জিজ্ঞাসা
ঢাকা-কক্সবাজার রুটের জনপ্রিয় বাস অপারেটর
এই রুটে প্রতিদিন শতাধিক ট্রিপ চলে। নির্ভরযোগ্য কয়েকটি অপারেটর:
- গ্রিন লাইন পরিবহন — ভলভো/স্ক্যানিয়া এসি কোচ ও স্লিপার; প্রিমিয়াম সার্ভিসের জন্য পরিচিত।
- হানিফ এন্টারপ্রাইজ — নন-এসি থেকে এসি সব ধরনের কোচ; ট্রিপ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- শ্যামলী পরিবহন — নন-এসি ও এসি; বাজেট-বান্ধব বিকল্প।
- সেন্টমার্টিন হুন্দাই/ট্রাভেলস — হুন্দাই কোচে আরামদায়ক যাত্রা।
- সৌদিয়া কোচ সার্ভিস — নন-এসি ও এসি দুটোই চালায়।
- দেশ ট্রাভেলস, সোহাগ পরিবহন, রয়েল কোচ, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস — এসি ও স্লিপার কোচ।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস ভাড়ার তালিকা
কোচ টাইপ অনুযায়ী আনুমানিক একমুখী ভাড়া (যাত্রার আগে যাচাই করুন):
| কোচ টাইপ | ভাড়া (আনুমানিক) | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| নন-এসি | ৮০০–১,২০০ টাকা | সবচেয়ে সস্তা; লম্বা যাত্রায় কষ্টকর |
| এসি ইকোনমি | ১,৩০০–১,৬০০ টাকা | এসি, ২+২ সিট |
| এসি বিজনেস ক্লাস | ১,৮০০–২,১০০ টাকা | ২+১ প্রশস্ত সিট, বেশি লেগস্পেস |
| স্লিপার কোচ | ২,০০০–২,৫০০ টাকা | শুয়ে যাওয়া যায়; রাতের যাত্রায় সেরা |
মনে রাখুন: ঈদ, পূজা বা লম্বা ছুটিতে ভাড়া বাড়ে এবং টিকিট দ্রুত শেষ হয়। অগ্রিম বুকিং করুন।
ঢাকা-কক্সবাজার বাসের সময়সূচি
নির্দিষ্ট সময়সূচি অপারেটরভেদে বদলায়, তবে সাধারণ প্যাটার্ন:
- সকাল: সকাল ৬:৪৫ থেকে দুপুর পর্যন্ত — হানিফ, সৌদিয়া, দেশ ট্রাভেলসের ট্রিপ।
- বিকাল/সন্ধ্যা: বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা — এসি কোচের বেশিরভাগ ট্রিপ।
- রাত: রাত ৯টা থেকে ১১:৪৫ — সবচেয়ে বেশি ট্রিপ; ঘুমিয়ে সকালে কক্সবাজার পৌঁছানো যায়।
যাত্রা সময়: ৯–১২ ঘণ্টা (যানজট ও বিরতি অনুযায়ী)। বাসগুলো সাধারণত ফেনী বা চট্টগ্রামে খাবার/বিশ্রাম বিরতি দেয়।
ঢাকায় প্রধান বাস কাউন্টার এলাকা
- সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল — সবচেয়ে বেশি অপারেটরের কাউন্টার (হানিফ, শ্যামলী, সৌদিয়া)।
- আরামবাগ/ফকিরাপুল — গ্রিন লাইনসহ প্রিমিয়াম অপারেটর।
- কলাবাগান — গ্রিন লাইন কাউন্টার।
- কল্যাণপুর — উত্তরবঙ্গগামীসহ কক্সবাজারের কিছু অপারেটর।
- রাজারবাগ — গ্রিন লাইন প্রধান কাউন্টার।
যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছান।
অনলাইনে টিকিট বুকিং
- অপারেটরের নিজস্ব ওয়েবসাইট (যেমন গ্রিন লাইনের সাইট) অথবা Shohoz, Bdtickets থেকে বুকিং করা যায়।
- তারিখ, কোচ টাইপ ও সিট বেছে বিকাশ/নগদ/কার্ডে পেমেন্ট করুন।
- কনফার্মেশন SMS/ই-টিকিট সংরক্ষণ করুন —
কাউন্টারে দেখাতে হতে পারে।
ভ্রমণ টিপস
- লম্বা যাত্রায় স্লিপার বা বিজনেস ক্লাস নিন — ঘাড়-কোমর ব্যথা এড়ানো যায়।
- রাতের কোচে হালকা চাদর/জ্যাকেট রাখুন — এসি ঠান্ডা থাকে।
- মূল্যবান জিনিস হাতের ব্যাগে রাখুন; বড় লাগেজ বাক্সারে টোকেন নিয়ে তুলুন।
- বমি ভাব হলে জানালার পাশের সিট নিন এবং হালকা খাবার খান।
- কক্সবাজার পৌঁছে হোটেল আগে থেকে বুকিং করে রাখুন, বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে।
কক্সবাজারে থাকার জায়গা: সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (সাবেক রয়্যাল টিউলিপ)। ট্রেনে যেতে চাইলে চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রেনের সময়সূচি দেখুন। ভ্রমণ পরিকল্পনা: সেরা ১৫টি স্থান।
অনলাইন বাস টিকিট: Shohoz। ট্রেনের টিকিট: রেলওয়ে ই-টিকিট।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস ভাড়া কত?
কোচভেদে আনুমানিক ৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকা। নন-এসি ৮০০–১,২০০, এসি ইকোনমি ১,৩০০–১,৬০০, বিজনেস ক্লাস ১,৮০০–২,১০০, স্লিপার ২,০০০–২,৫০০ টাকা। জ্বালানির দাম বাড়লে ভাড়া বদলায়।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে বাসে কতক্ষণ লাগে?
সাধারণত ৯–১২ ঘণ্টা। রাত ১০টার কোচে উঠলে সকাল ৭–৮টায় পৌঁছানো যায়।
কোন বাস কোম্পানি সবচেয়ে ভালো?
প্রিমিয়াম সার্ভিসে গ্রিন লাইন, বেশি ট্রিপে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, বাজেটে শ্যামলী জনপ্রিয়। স্লিপারে গ্রিন লাইন ও ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস ভালো।
অনলাইনে বাসের টিকিট কাটা যায়?
হ্যাঁ — অপারেটরের ওয়েবসাইট অথবা Shohoz, Bdtickets থেকে অনলাইনে বুকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পেমেন্ট করা যায়।
রাতে কোন সময় বাস ছাড়ে?
রাত ৯টা থেকে ১১:৪৫ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ট্রিপ। রাতের কোচে ঘুমিয়ে সকালে কক্সবাজার পৌঁছানো সবচেয়ে সুবিধাজনক।
ঈদের সময় টিকিট পাওয়া যায়?
ঈদ ও লম্বা ছুটিতে চাহিদা অনেক বেশি — অন্তত ৭–১০ দিন আগে টিকিট কেটে রাখুন, না হলে পাওয়া কঠিন।
