সংক্ষেপে
- ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে টাঙ্গাইল রুটে প্রতিদিন 8টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে — ভ্রমণ সময় প্রায় 1 ঘণ্টা 50 মিনিট থেকে 2 ঘণ্টা।
- প্রথম ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল 6:00-এ ছাড়ে; শেষ ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস রাত 10:45-এ ছাড়ে।
- টিকিটের ভাড়া 90 টাকা (শোভন) থেকে 315 টাকা (এসি বার্থ) পর্যন্ত; ভাড়ায় 15% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।
- টিকিট মিলবে eticket.railway.gov.bd, রেল সেবা অ্যাপ এবং স্টেশন কাউন্টারে — বিস্তারিত বুকিং নিয়ম জানতে পড়ুন আমাদের বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকিট বুকিং গাইড।
সূচিপত্র
- ঢাকা–টাঙ্গাইল রুটে চলাচলকারী ট্রেন
- ট্রেনের সময়সূচি
- শ্রেণি অনুযায়ী টিকিটের মূল্য
- অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম
- যাত্রাপথের স্টেশন ও স্টপেজ
- টাঙ্গাইলে নেমে কোথায় ঘুরবেন
- ভ্রমণের আগে জেনে রাখুন
- সচরাচর জিজ্ঞাসা
ঢাকা–টাঙ্গাইল রুটে চলাচলকারী ট্রেন
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে 8টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে: ধূমকেতু, একতা, সিল্কসিটি, সিরাজগঞ্জ, চিত্রা, দ্রুতযান, লালমনি ও পদ্মা এক্সপ্রেস। এর মধ্যে টাঙ্গাইলমুখী কোনো আলাদা ট্রেন নেই — প্রতিটি ট্রেনই ঢাকা থেকে দূরপাল্লার গন্তব্যের (রাজশাহী, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, লালমনিরহাট) পথে টাঙ্গাইলে যাত্রাবিরতি করে। একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস সপ্তাহের প্রতিদিন চলে, বাকিগুলোর নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আছে।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | গন্তব্য | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস | 769 | ঢাকা → রাজশাহী | বৃহস্পতিবার |
| একতা এক্সপ্রেস | 705 | ঢাকা → পঞ্চগড় | নেই |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস | 753 | ঢাকা → রাজশাহী | রবিবার |
| সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস | 776 | ঢাকা → সিরাজগঞ্জ বাজার | শনিবার |
| চিত্রা এক্সপ্রেস | 764 | ঢাকা → খুলনা | রবিবার |
| দ্রুতযান এক্সপ্রেস | 757 | ঢাকা → পঞ্চগড় | নেই |
| লালমনি এক্সপ্রেস | 751 | ঢাকা → লালমনিরহাট | শুক্রবার |
| পদ্মা এক্সপ্রেস | 759 | ঢাকা → রাজশাহী | মঙ্গলবার |

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ট্রেনের সময়সূচি
নিচে প্রতিটি ট্রেনের ঢাকা (কমলাপুর) থেকে ছাড়ার সময় ও টাঙ্গাইল পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলো। পদ্মা এক্সপ্রেস রাত 10:45-এ ছেড়ে টাঙ্গাইল পৌঁছায় পরদিন রাত 12:32-এ — এটি রুটের একমাত্র রাত্রিকালীন ট্রেন।
| ট্রেনের নাম | ঢাকা থেকে ছাড়ে | টাঙ্গাইল পৌঁছায় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস | সকাল 6:00 | সকাল 7:47 | বৃহস্পতিবার |
| একতা এক্সপ্রেস | সকাল 10:15 | দুপুর 12:03 | নেই |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস | দুপুর 2:30 | বিকাল 4:26 | রবিবার |
| সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস | বিকাল 4:15 | সন্ধ্যা 6:11 | শনিবার |
| চিত্রা এক্সপ্রেস | সন্ধ্যা 7:30 | রাত 9:26 | রবিবার |
| দ্রুতযান এক্সপ্রেস | রাত 8:45 | রাত 10:32 | নেই |
| লালমনি এক্সপ্রেস | রাত 9:45 | রাত 11:32 | শুক্রবার |
| পদ্মা এক্সপ্রেস | রাত 10:45 | রাত 12:32 (পরদিন) | মঙ্গলবার |
শ্রেণি অনুযায়ী টিকিটের মূল্য
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল রুটের টিকিটের ভাড়া আসনের শ্রেণি অনুযায়ী 90 টাকা থেকে 315 টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে কম খরচে যেতে চাইলে শোভন, আর আরামের জন্য এসি বার্থ বেছে নিন।
| আসনের শ্রেণি | ভাড়া (টাকা) |
|---|---|
| শোভন | 90 |
| শোভন চেয়ার | 105 |
| প্রথম শ্রেণি সিট | 175 |
| প্রথম শ্রেণি বার্থ | 240 |
| স্নিগ্ধা | 210 |
| এসি সিট | 240 |
| এসি বার্থ | 315 |
নোট: ভাড়ায় 15% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত। রেলওয়ে মাঝে মাঝে ভাড়া সংশোধন করে — টিকিট কাটার সময় অফিসিয়াল পোর্টালে চূড়ান্ত ভাড়া দেখে নিন।
অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম
ঘরে বসেই টিকিট কাটা যায় — লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং পোর্টাল eticket.railway.gov.bd অথবা রেল সেবা মোবাইল অ্যাপ থেকে টিকিট কিনুন। ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া জানতে দেখুন আমাদের বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকিট বুকিং গাইড। মূল ধাপগুলো:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে পোর্টালে একবার রেজিস্ট্রেশন করুন।
- From-এ Dhaka, To-তে Tangail ও যাত্রার তারিখ বেছে Search Trains-এ ক্লিক করুন।
- পছন্দের ট্রেন ও আসন শ্রেণি বেছে আসন নির্বাচন করুন (একসঙ্গে সর্বোচ্চ 4টি আসন)।
- মোবাইলে আসা OTP দিয়ে যাচাই করে যাত্রীদের নাম লিখুন।
- বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডে পেমেন্ট করলেই ই-টিকিট তৈরি — ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে রাখুন।
টিকিট বিক্রি শুরু হয় যাত্রার 10 দিন আগে সকাল 8:00-এ। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের মৌসুমে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই আগেভাগে কেটে রাখাই ভালো। স্টেশন কাউন্টার থেকেও নগদে টিকিট কেনা যায়।
যাত্রাপথের স্টেশন ও স্টপেজ
ঢাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনগুলো সাধারণত কমলাপুর → বিমানবন্দর → জয়দেবপুর → টাঙ্গাইল রুটে চলে। সিল্কসিটি ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস মির্জাপুরেও থামে। মনে রাখবেন — সব ট্রেন সব স্টেশনে থামে না। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উঠলে যাদের বাসা উত্তর ঢাকায়, তাদের জন্য সুবিধা হয়। ভ্রমণ সময় ট্রেনভেদে 1 ঘণ্টা 47 মিনিট থেকে 1 ঘণ্টা 56 মিনিট।
টাঙ্গাইলে নেমে কোথায় ঘুরবেন
টাঙ্গাইল শুধু যাতায়াতের জেলা নয় — এখানে ঘোরার মতো জায়গাও কম নেই। টাঙ্গাইল স্টেশন থেকে সহজে যাওয়া যায় দশ টাকার নোটের আটিয়া মসজিদ, মহেড়া জমিদার বাড়ি এবং মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী জনপদে। আর টাঙ্গাইল মানেই পোড়াবাড়ির চমচম — ফেরার পথে মিষ্টি কিনতে ভুলবেন না।
ভ্রমণের আগে জেনে রাখুন
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত 30 মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান — প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে সময় লাগে।
- ই-টিকিটের পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফটো আইডি (NID) সাথে রাখুন; টিটিই চেক করতে পারেন।
- ঈদ ও লম্বা ছুটিতে ভিড় বেশি থাকে — আগেই টিকিট কাটুন, জানালার পাশের আসন চাইলে দ্রুত বুক করুন।
- রাতের ট্রেনে (লালমনি, পদ্মা) যাত্রায় মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।
- ট্রেন মাঝে মাঝে দেরিতে ছাড়ে — বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে বা 16163 হটলাইনে হালনাগাদ জেনে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কাছাকাছি রুট: ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন, চট্টগ্রাম-ঢাকা ট্রেন।
টিকিট: রেলওয়ে ই-টিকিট | বাংলাদেশ রেলওয়ে
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল রুটে কতটি ট্রেন চলে?
ঢাকা (কমলাপুর) থেকে টাঙ্গাইল রুটে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে — ধূমকেতু, একতা, সিল্কসিটি, সিরাজগঞ্জ, চিত্রা, দ্রুতযান, লালমনি ও পদ্মা এক্সপ্রেস।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
ট্রেনভেদে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট সময় লাগে।
ঢাকা–টাঙ্গাইল ট্রেনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়া কত?
সর্বনিম্ন ৯০ টাকা (শোভন) এবং সর্বোচ্চ ৩১৫ টাকা (এসি বার্থ)। ভাড়ায় ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটা যায় কি?
হ্যাঁ। eticket.railway.gov.bd পোর্টাল বা রেল সেবা মোবাইল অ্যাপ থেকে টিকিট কাটা যায়। টিকিট বিক্রি শুরু হয় যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮:০০-এ।
কোন ট্রেনগুলোর সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নেই?
একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস সপ্তাহের প্রতিদিন চলাচল করে।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের প্রথম ও শেষ ট্রেন কোনটি?
প্রথম ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস (সকাল ৬:০০) এবং শেষ ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস (রাত ১০:৪৫)।
