সংক্ষেপে
- হাতিরঝিল (Hatirjheel) ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকার মাঝে বিস্তৃত একটি লেককেন্দ্রিক বিনোদন এলাকা; এখানে হাঁটার পথ, সেতু, নৌকা ভ্রমণ ও ওয়াটার ট্যাক্সির ব্যবস্থা রয়েছে।
- ঘোরার সেরা সময় বিকেল থেকে সন্ধ্যা; নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক থাকে।
- নৌকা ও ওয়াটার ট্যাক্সির ভাড়া দূরত্বভেদে জনপ্রতি আনুমানিক 30 থেকে 100 টাকা; ঘাটে ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন।
- শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি, রিকশা বা রাইড শেয়ারে সহজে পৌঁছানো যায়।
- সন্ধ্যার আলোকসজ্জা এখানকার মূল আকর্ষণ; ভিড় এড়াতে কর্মদিবসে যান এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।
সূচিপত্র
- অবস্থান ও পরিচিতি
- ইতিহাস ও উন্নয়ন
- যা যা করবেন
- নৌকা ভ্রমণ
- কিভাবে পৌঁছাবেন
- সেরা সময়
- যোগাযোগ
- ভ্রমণ টিপস
- সচরাচর জিজ্ঞাসা
অবস্থান ও পরিচিতি
হাতিরঝিল ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকার মধ্যবর্তী একটি বড় লেক ও উন্মুক্ত বিনোদন এলাকা। শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোর মাঝে খোলা পানি, সবুজ পাড় ও আধুনিক সেতুর সমন্বয়ে এটি ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় ঘোরার জায়গা হিসেবে পরিচিত।

লেকের পাড়ে হাঁটার পথ, বসার জায়গা ও সবুজ অংশ রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বহু মানুষ এখানে হাঁটতে, নৌকায় ঘুরতে এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন। সন্ধ্যার আলোকসজ্জার পর লেকের দৃশ্য বদলে যায়, তাই অনেকেই সন্ধ্যাটা এখানে কাটাতে পছন্দ করেন।
ইতিহাস ও উন্নয়ন
জলাবদ্ধতা কমানো ও নগরের সৌন্দর্য বাড়ানোর লক্ষ্যে হাতিরঝিল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় 2007 সালে এবং 2013 সালের জানুয়ারিতে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে প্রায় 302 একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন, যান চলাচলের নতুন সংযোগ তৈরি এবং নগরবাসীর জন্য একটি উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা। লেক খনন, পাড় বাঁধানো ও সেতু নির্মাণের পর এলাকাটি ধীরে ধীরে ঢাকার জনপ্রিয় ঘোরার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
যা যা করবেন
লেকের পাড়ে হাঁটা, সেতু থেকে দৃশ্য দেখা, নৌকায় লেক ঘোরা, সূর্যাস্ত দেখা এবং পাড়ের খাবার খাওয়া — হাতিরঝিলে এক বিকেলে এগুলোই করার মতো কাজ।

- লেকের পাড়ে হাঁটা: লেক ঘিরে তৈরি হাঁটার পথ সকাল-বিকেল হাঁটার জন্য উপযুক্ত। পাড়ে বসার জায়গা থাকায় পরিবার নিয়ে বসে আড্ডা দেওয়া যায়।
- সেতু ও আলোকসজ্জা: লেকের উপর দিয়ে যাওয়া সেতুগুলো হাতিরঝিলের চেনা দৃশ্য। সন্ধ্যায় সেতুতে আলো জ্বলে উঠলে ছবি তোলার ভালো সুযোগ তৈরি হয়।
- অ্যাম্ফিথিয়েটার: লেকের পাড়ের মুক্তমঞ্চে বসে পানির দৃশ্য উপভোগ করা যায়। মাঝেমধ্যে এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
- নৌকা ভ্রমণ: ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে লেকে ঘোরা এখানকার জনপ্রিয় কার্যক্রম। পানি থেকে সেতু ও পাড়ের দৃশ্য ভিন্নভাবে দেখা যায়।
- সূর্যাস্ত দেখা: বিকেলের শেষে সূর্যাস্ত এবং সন্ধ্যার পর লেকে প্রতিফলিত আলো দেখতে অনেকে বিশেষভাবে আসেন।
- স্ট্রিট ফুড: লেকের পাড়ে চা-কফির স্টল এবং ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ির মতো খাবারের দোকান পাবেন।
নৌকা ভ্রমণ
হাতিরঝিলে দুই ধরনের নৌযান চলে — ঘোরাঘুরির নৌকা এবং নির্দিষ্ট রুটের ওয়াটার ট্যাক্সি। নিচের তালিকায় আনুমানিক ভাড়া দেওয়া হলো।
| নৌযান | বিবরণ | ভাড়া (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| সাধারণ নৌকা | ঘাট থেকে লেকে ছোট ঘোরাঘুরি | জনপ্রতি 30–50 টাকা |
| নৌকা রিজার্ভ | পরিবার বা বন্ধুদের দল নিয়ে পুরো নৌকা | 300–500 টাকা (পুরো নৌকা) |
| ওয়াটার ট্যাক্সি | নির্দিষ্ট ঘাট থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্য | জনপ্রতি 30–40 টাকা |
| পুরো লেক ঘোরা | নৌকায় পুরো লেক প্রদক্ষিণ | জনপ্রতি 80–100 টাকা |
ভাড়া মৌসুম ও চাহিদা অনুযায়ী বদলায়, তাই ঘাটে ওঠার আগেই ভাড়া ঠিক করে নিন। নৌকায় ওঠার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না, শিশুদের হাত ধরে রাখুন এবং সম্ভব হলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
কিভাবে পৌঁছাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি, রিকশা বা রাইড শেয়ারে হাতিরঝিলে পৌঁছানো যায়।
| দিক | যাওয়ার উপায় | আনুমানিক সময় |
|---|---|---|
| গুলশান-বনানী | রিকশা, সিএনজি বা রাইড শেয়ার | 15–25 মিনিট |
| রামপুরা-মগবাজার | রিকশা বা বাস | 10–20 মিনিট |
| কারওয়ান বাজার-তেজগাঁও | সিএনজি বা রিকশা | 10–15 মিনিট |
| শহরের অন্য এলাকা | বাসে কাছের পয়েন্টে নেমে রিকশা | যানজট অনুযায়ী ভিন্ন |
গুলশান-বনানী, রামপুরা, মগবাজার বা কারওয়ান বাজারমুখী বাসে এসে হাতিরঝিল সংলগ্ন পয়েন্টে নামুন; সেখান থেকে হেঁটে বা রিকশায় লেকের পাড়ে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গেলে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখুন।
সেরা সময়
হাতিরঝিল যাওয়ার সেরা সময় বিকেল 4টা থেকে রাত 8টা। এই সময়ে রোদ কম থাকে, সূর্যাস্ত দেখা যায় এবং সন্ধ্যার পর লেক ও সেতুর আলোকসজ্জা উপভোগ করা যায়।
বছরের মধ্যে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি — শীতের মাসগুলোতে আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক থাকে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সরকারি ছুটিতে এখানে ভিড় বেশি হয়, তাই নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে কর্মদিবসের বিকেলে যান। বর্ষাকালে লেকে পানি বেশি থাকে, তবে বৃষ্টির প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া ভালো।
যোগাযোগ
ঠিকানা: হাতিরঝিল, ঢাকা। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা 999-এ কল করুন।
ভ্রমণ টিপস
নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের জন্য নিচের বিষয়গুলো মনে রাখুন।
- মূল্যবান জিনিসপত্র ও মোবাইল সাবধানে রাখুন, বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে।
- রাতে নির্জন ও অন্ধকার অংশে একা ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন; আলোকিত মূল এলাকায় থাকুন।
- শিশুদের লেকের কিনার থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন এবং পানিতে নামতে দেবেন না।
- ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন; লেকের পানি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করুন।
- সন্ধ্যায় মশার উপদ্রব থাকতে পারে, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিয়ে যান।
আরও পড়ুন
- ফ্যান্টাসি কিংডম — ঢাকার কাছে পরিবার নিয়ে ঘোরার জনপ্রিয় বিনোদন পার্ক।
- আহসান মঞ্জিল — ঢাকার ঐতিহাসিক নবাববাড়ি ও জাদুঘর।
- লালবাগ কেল্লা — মুঘল আমলের ঐতিহাসিক দুর্গ।
- ঢাকা (উইকিপিডিয়া) — রাজধানী ঢাকা সম্পর্কে সাধারণ তথ্য।
- গুগল ম্যাপে হাতিরঝিল — অবস্থান ও যাওয়ার পথ দেখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
হাতিরঝিল কোথায় অবস্থিত?
হাতিরঝিল ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত।
হাতিরঝিলে নৌকা ভাড়া কত?
দূরত্ব অনুযায়ী জনপ্রতি আনুমানিক 30 থেকে 100 টাকা ভাড়া হয়ে থাকে। ভাড়া মৌসুম ও চাহিদা অনুযায়ী বদলায়, তাই ঘাটে ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করে নিন।
হাতিরঝিলে কি ওয়াটার ট্যাক্সি চলে?
হ্যাঁ, হাতিরঝিলে নির্দিষ্ট ঘাট থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল করে। ঘোরার পাশাপাশি লেকের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতেও এটি ব্যবহার করা যায়।
হাতিরঝিল যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
বিকেল 4টা থেকে রাত 8টা হাতিরঝিল ঘোরার সেরা সময়। বছরের মধ্যে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক থাকে।
হাতিরঝিলে কি খাবারের দোকান আছে?
হ্যাঁ, লেকের পাড়ে ও আশপাশে চা-কফির স্টল এবং ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ির মতো স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে। ভারী খাবারের জন্য কাছের গুলশান-বনানী এলাকায় অনেক রেস্তোরাঁ পাবেন।
রাতে হাতিরঝিলে যাওয়া কি নিরাপদ?
আলোকিত মূল এলাকায় সাধারণত নিরাপদ, তবে রাতে নির্জন ও অন্ধকার অংশ এড়িয়ে চলুন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।
