নুহাশ পল্লী: এক নজরে
গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে, গজারি বনের সবুজে ঘেরা প্রায় ৪০ বিঘা জমির বাগানবাড়ি — নুহাশ পল্লী। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে গড়া এই বাগানবাড়ি তার বড় ছেলে নুহাশ হুমায়ূনের নামে নামাঙ্কিত। শুরুটা ছিল মাত্র ২২ বিঘা দিয়ে (আশির দশকের শেষে); কয়েক দশকে তা বিশাল বাগান, দীঘি, বাংলো আর হাজারো গাছের নন্দনকাননে রূপ নিয়েছে। এখানে শুটিং হয়েছে তার অসংখ্য নাটক-সিনেমার, লেখা হয়েছে বহু উপন্যাসের খসড়া। ২০১২ সালের ২৪ জুলাই এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন লেখক — ফলে নুহাশ পল্লী আজ শুধু পিকনিক স্পট নয়, লক্ষ পাঠকের আবেগের তীর্থস্থান।
কি দেখবেন
লেখকের সমাধি: বাগানের শান্ত কোণে, গাছের ছায়ায় হুমায়ূন আহমেদের কবর। প্রতিদিন শত শত পাঠক আসেন জিয়ারত করতে; জন্মদিন (১৩ নভেম্বর) ও মৃত্যুবার্ষিকীতে (১৯ জুলাই) এখানে মেলা বসে — এই দুই দিন সবার জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি।
লিচু বাগান: নুহাশ পল্লীর সবচেয়ে বিখ্যাত সম্পদ — শতাধিক লিচু গাছের বিশাল বাগান। মে–জুনে লিচুর মৌসুমে গাছে ঝুলে থাকে লাল লিচু; এই সময়টায় ভিড় সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে আম, কাঁঠালসহ নানা ফল ও ঔষধি গাছের সংগ্রহ।
বৃষ্টি বিলাস: দীঘির পাড়ে লেখকের প্রিয় বাংলো — দর্শনার্থীরা এখানে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। বর্ষায় বৃষ্টি দেখার জন্যই এর নামকরণ, যা তার নাটক-সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তীর্থের মতো।
ভূত বিলাস: রহস্যময় নামের আরেকটি বাংলো — ফি দিয়ে (আনুমানিক ৩,০০০–৫,০০০ টাকা) দিনের বেলা সময় কাটানো যায় (বুকিং গেট অফিসে; অবস্থা আগে জেনে নিন)। তার “ভূত” আবেগের ছোঁয়া পল্লীর নানা কোণে।
দীঘি লীলাবলী: বিশাল পুকুর/দীঘি, শানবাঁধা ঘাট আর পাড়ের সারি সারি গাছ — ছবির জন্য সেরা জায়গা। পাশে সুইমিং পুলও আছে (পিকনিক গ্রুপের জন্য প্রযোজ্য)।
সবুজ মাঠ ও মঞ্চ: খেলার বড় মাঠ, বসার বেঞ্চ আর ছায়াঘেরা আড্ডার জায়গা — পারিবারিক দিনের জন্য আদর্শ।
প্রবেশ ফি, সময় ও পিকনিক
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রবেশ ফি | ১২ বছরের ঊর্ধ্বে জনপ্রতি ২০০ টাকা; ১২-এর নিচে ফ্রি |
| ফ্রি প্রবেশের দিন | ১৩ নভেম্বর (লেখকের জন্মদিন) ও ১৯ জুলাই (মৃত্যুবার্ষিকী) |
| খোলার সময় | প্রতিদিন সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা; সাপ্তাহিক বন্ধ নেই |
| পিকনিক ভাড়া (নভেম্বর–মার্চ) | সর্বোচ্চ ৩০০ জনের গ্রুপ; সাধারণ ~৫০,০০০ / ছুটির দিনে ~৬০,০০০ টাকা (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কম) — আগের তালিকা, অফিসে যাচাই করুন |
কিভাবে যাবেন
বাসে সরাসরি রুট: গুলিস্তান থেকে কাপাসিয়াগামী ঢাকা পরিবহন, মহাখালী থেকে সম্রাট লাইন/রাজদূত/ডাউন টাউন — নেমে যান হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে; সেখান থেকে সিএনজি/লেগুনায় নুহাশ পল্লী (~৪–৫ কিমি)। ময়মনসিংহগামী বাসে গাজীপুর চৌরাস্তা নেমেও সিএনজি নেওয়া যায়, তবে বাসগুলো চৌরাস্তায় দেরি করে।
ট্রেনে: জয়দেবপুর স্টেশনে নেমে সিএনজি/অটোতে পিরুজালী।
ব্যক্তিগত গাড়িতে: ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক > হোতাপাড়া > নুহাশ পল্লী সড়ক। জেলা তথ্য: গাজীপুর জেলা প্রশাসন।
কোথায় থাকবেন ও খাবেন
থাকা: নুহাশ পল্লীতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা নেই — এটি দিনের ভ্রমণের জায়গা। ঢাকা থেকে ডে-ট্রিপই স্বাভাবিক; গাজীপুরে থাকতে চাইলে দেখুন রাঙ্গামাটি রিসোর্ট, গাজীপুর গাইড। একই দিনে মিলিয়ে নেওয়া যায় ভাওয়াল রাজবাড়িও।
খাবার: দিনের দর্শনার্থীদের জন্য আগে অর্ডার দিলে অফিস থেকে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা যায় (যাওয়ার আগে যোগাযোগ করুন)। গেটের বাইরের দোকানে চা-নাশতা মেলে — গরুর দুধের চা স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়। পিকনিক গ্রুপের রান্নার ব্যবস্থা নিজস্ব/ক্যাটারিংয়ে।
টিপস ও সতর্কতা
- সমাধিতে গেলে নীরবতা ও সম্মান বজায় রাখুন; সেলফির ভিড়ে অন্যের আবেগে ব্যাঘাত ঘটাবেন না।
- শুক্রবার ও ছুটির দিনে প্রচণ্ড ভিড় — নিরিবিলি অভিজ্ঞতার জন্য সপ্তাহের মাঝের দিন সকালে যান।
- লিচুর মৌসুমে (মে–জুন) গাছ থেকে নিজে লিচু পাড়া নিষেধ — কর্তৃপক্ষের নিয়ম মানুন।
- ৪০ বিঘা হাঁটতে হয় — আরামদায়ক জুতা পরুন; বর্ষায় সঙ্গে ছাতা/রেইনকোট ও পোকামাকড় প্রতিরোধক রাখুন।
- লেখকের স্মৃতিস্তম্ভ/আসবাবে হাত দেওয়া বা ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
নুহাশ পল্লী কোথায়?
গাজীপুর সদরের পিরুজালী গ্রামে — হুমায়ূন আহমেদের প্রায় ৪০ বিঘার বাগানবাড়ি, ঢাকা থেকে ডে-ট্রিপে যাওয়া যায়।
নুহাশ পল্লীর প্রবেশ ফি কত?
১২ বছরের ঊর্ধ্বে জনপ্রতি ২০০ টাকা, শিশুরা ফ্রি; ১৩ নভেম্বর ও ১৯ জুলাই সবার জন্য ফ্রি।
নুহাশ পল্লী কে প্রতিষ্ঠা করেছেন?
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ — বড় ছেলে নুহাশের নামে নামকরণ; এখানেই তার সমাধি।
নুহাশ পল্লীতে কি দেখব?
লেখকের সমাধি, লিচু বাগান, বৃষ্টি বিলাস ও ভূত বিলাস বাংলো, দীঘি লীলাবলী, সবুজ মাঠ ও গজারি বন।
ঢাকা থেকে নুহাশ পল্লী যাবো কীভাবে?
বাসে হোতাপাড়া নেমে সিএনজি/লেগুনা, অথবা ট্রেনে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে সিএনজি।
নুহাশ পল্লীতে পিকনিক করা যায়?
হ্যাঁ — শীত মৌসুমে (নভেম্বর–মার্চ) গ্রুপ পিকনিকের ভাড়া দেওয়া হয় (সর্বোচ্চ ৩০০ জন); অফিসে আগে বুকিং করুন।
