বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন কেন ব্যবহার করবেন?
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক সামনে অবস্থিত ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন রাজধানীর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। কমলাপুর থেকে ছাড়া প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেন এখানে থামে, তাই উত্তরা, খিলক্ষেত, কুর্মিটোলা এলাকার বাসিন্দা এবং ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছে এই স্টেশন অত্যন্ত সুবিধাজনক — কমলাপুর যাওয়ার যানজট এড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি সারা দেশে যাওয়া যায়।
স্টেশন কোথায়?
স্টেশনটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনালের বিপরীতে, বিমানবন্দর গোলচত্বর সংলগ্ন এলাকায়। পায়ে হেঁটে টার্মিনাল থেকে স্টেশনে যেতে ৫–১০ মিনিট লাগে। উত্তরা থেকে বাস/রিকশায় সহজেই পৌঁছানো যায়; খিলক্ষেত বাস স্ট্যান্ড কাছেই। ঢাকার যানজট এড়িয়ে উত্তর ঢাকার যাত্রীরা এই স্টেশন ব্যবহার করেন।
যেসব ট্রেন এই স্টেশনে থামে
| গন্তব্য | জনপ্রিয় ট্রেন | যাত্রাকাল (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| চট্টগ্রাম | সুবর্ণা, সোনার বাংলা, মহানগর গোধূলী, তূর্ণা | ~৫–৬ ঘণ্টা |
| কক্সবাজার | কক্সবাজার এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস | ~৮–৯ ঘণ্টা |
| সিলেট | পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, কালনী | ~৬–৭ ঘণ্টা |
| রাজশাহী | সিল্কসিটি, পদ্মা, ধূমকেতু, বনলতা | ~৫–৬ ঘণ্টা |
| খুলনা | সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস | ~৮–৯ ঘণ্টা |
| ময়মনসিংহ | তিস্তা, মোহনগঞ্জ, হাওর, জামালপুর এক্সপ্রেস | ~২.৫–৩ ঘণ্টা |
| রংপুর/লালমনিরহাট | রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস | ~৮–১০ ঘণ্টা |
সতর্কতা: সব ট্রেন এই স্টেশনে থামে না — কিছু ট্রেন (যেমন নন-স্টপ সুবর্ণা/সোনার বাংলার নির্দিষ্ট ট্রিপ) সরাসরি চলে যায়। বুকিংয়ের সময় স্টপেজ দেখে নিন।
টিকিট কীভাবে কাটবেন?
- অনলাইন: eticket.railway.gov.bd থেকে “Biman Bandar” স্টেশন সিলেক্ট করে টিকিট কাটুন — সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।
- স্টেশন কাউন্টার: স্টেশনের নিজস্ব টিকিট কাউন্টার আছে — আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়।
- অগ্রিম বুকিং: যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে টিকিট পাওয়া যায়; ছুটির মৌসুমে আগেভাগে কাটুন।
- স্ট্যান্ডিং টিকিট: অনলাইনে সিট শেষ হলে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট পাওয়া যেতে পারে।
বিমানবন্দর যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
- ফ্লাইট থেকে নেমে সরাসরি ট্রেনে ওঠা যায় — লাগেজ নিয়ে পায়ে হেঁটেই স্টেশন।
- ট্রেনে এসে ফ্লাইট ধরতেও সুবিধা — তবে ফ্লাইটের অন্তত ৩ ঘণ্টা হাতে রেখে ট্রেন বেছে নিন, ট্রেন দেরি হতে পারে।
- রাতের ফ্লাইটের যাত্রীরা রাতের ট্রেনে (তূর্ণা, উপবন) সাশ্রয়ীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
স্টেশনের সুবিধা ও আশপাশ
- ওয়েটিং এরিয়া ও প্ল্যাটফর্ম শেড আছে; ফুড স্টল পাওয়া যায়।
- স্টেশনের বাইরে বাস, সিএনজি ও রিকশা স্ট্যান্ড — উত্তরা, মিরপুর, বনানী যাতায়াতে সুবিধা।
- খিলক্ষেত ও কাওলা বাজার কাছেই — নাস্তা ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটার ব্যবস্থা আছে।
- পার্কিং সুবিধা সীমিত — নিজের গাড়ি রাখার পরিকল্পনা থাকলে আগে খোঁজ নিন।
যাত্রীদের টিপস
- অনলাইন টিকিটে স্টেশন নাম “Biman Bandar” দেখায় — কমলাপুর (Dhaka) থেকে আলাদা, বুকিংয়ের সময় খেয়াল করুন।
- পিক আওয়ারে স্টেশন এলাকায় যানজট থাকে — হাতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট রাখুন।
- রাতের ট্রেনে লাগেজের নিরাপত্তায় নিজে সতর্ক থাকুন।
- ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস জানতে ট্রেন নম্বর দিয়ে 16318 নম্বরে SMS করুন (TR
ট্রেন নম্বর)।
আরও ট্রেন গাইড: ঢাকা–জয়দেবপুর ট্রেন | বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকিট বুকিং | ঢাকা–নরসিংদী ট্রেন | অফিসিয়াল: বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কোন কোন জেলায় ট্রেন যায়?
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহসহ প্রায় সব বড় গন্তব্যে।
অনলাইন টিকিটে স্টেশনের নাম কী দেখায়?
“Biman Bandar” নামে বুকিং করা যায়।
বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে স্টেশন কত দূর?
পায়ে হেঁটে ৫–১০ মিনিটের পথ।
সব আন্তঃনগর ট্রেন কি এখানে থামে?
বেশিরভাগ ট্রেন থামে, তবে কিছু নন-স্টপ ট্রেন থামে না — বুকিংয়ে স্টপেজ দেখে নিন।
স্টেশনে টিকিট কাউন্টার আছে?
হ্যাঁ, স্টেশনের নিজস্ব কাউন্টার আছে।
ফ্লাইট ধরে ট্রেনে যাওয়া কি নিরাপদ সময়ের দিক থেকে?
অন্তত ৩ ঘণ্টা ব্যবধান রাখলে ঝুঁকি কম থাকে।
