ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে কোথায় যাবেন ভাবছেন? ঢাকার একদম কাছেই, আশুলিয়ায় আছে ফ্যান্টাসি কিংডম — থিম পার্ক আর ওয়াটার পার্ক মিলিয়ে সারাদিনের আনন্দের ঠিকানা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাইড, পানির খেলা আর খোলা আকাশের নিচে ঘোরাঘুরি — একদিনের ছুটিতে এর চেয়ে ভালো পরিকল্পনা আর কী হতে পারে!
এই গাইডে জানুন ফ্যান্টাসি কিংডমের রাইড, ওয়াটার কিংডম, টিকিট প্যাকেজ, যাতায়াত, সেরা সময় আর পরিবার নিয়ে যাওয়ার দরকারি টিপস। সঙ্গে থাকছে টিকিটের আনুমানিক খরচের তালিকা।
ফ্যান্টাসি কিংডম কোথায়
ফ্যান্টাসি কিংডম অবস্থিত ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায়, ঢাকা–আশুলিয়া মহাসড়কের পাশে। রাজধানীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয় বলে সকালে রওনা দিয়ে সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় ফিরে আসা যায়। বিশাল এলাকাজুড়ে সাজানো এই পার্কে একদিকে থিমভিত্তিক রাইডের জোন, অন্যদিকে পানির রাইডের জন্য আলাদা ওয়াটার কিংডম — ফলে সব বয়সের দর্শনার্থীর জন্যই কিছু না কিছু আছে।
পার্কের ভেতরে সবুজ খোলা জায়গা, ফুড কোর্ট আর বিশ্রামের বেঞ্চ আছে। বিশেষ অনুষ্ঠান আর মৌসুমি উৎসবে লাইভ পরিবেশনার আয়োজনও হয়। ছুটির দিনে এখানে ভিড় হয় বেশ, তাই সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে যাওয়াই ভালো।
থিম পার্কের রাইড: রোমাঞ্চ যাদের পছন্দ
ফ্যান্টাসি কিংডমের মূল আকর্ষণ এর রাইডগুলো। গতি আর উচ্চতার রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য আছে দ্রুতগতির রোলার কোস্টার আর উঁচু থেকে হঠাৎ নেমে আসার ড্রপ টাওয়ার। ঘূর্ণির মজা চাইলে টর্নেডো ধরনের স্পিনিং রাইডে উঠতে পারেন, আর পরিবারের সবাই মিলে চড়া যায় মেরি-গো-রাউন্ডে।
- রোলার কোস্টার — গতির রোমাঞ্চপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ
- ড্রপ টাওয়ার — উঁচু থেকে নিচে নামার শিহরণ
- টর্নেডো ধরনের ঘূর্ণি রাইড
- মেরি-গো-রাউন্ড — পরিবারের সবার জন্য
- শিশুদের জন্য আলাদা কিডস রাইড জোন
প্রতিটি রাইডে চড়ার আগে উচ্চতা ও বয়স সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখে নিন। কিছু রাইড রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাঝে মাঝে বন্ধ থাকতে পারে, তাই জনপ্রিয় রাইডগুলোতে সকাল সকাল উঠে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
যারা খুব বেশি রোমাঞ্চ চান না, তাদের জন্য পার্কজুড়ে হাঁটাপথ, বসার জায়গা আর ছবি তোলার সুন্দর স্পট আছে। বিকেলে পার্কের ভেতরে হেঁটে বেড়ানো আর ফুড কোর্টে বসে আড্ডা দেওয়ার মজাই আলাদা।

ওয়াটার কিংডম: গরমের দিনে পানির রাজ্য
ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্সের ভেতরেই আছে ওয়াটার কিংডম — পানির রাইডের আলাদা জোন। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এখানকার ওয়েভ পুল, ওয়াটার স্লাইড আর সুইমিং পুলে নামলেই শরীর-মন জুড়িয়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে স্লাইডে নামার মজা কিংবা পরিবারের সঙ্গে পুলে ভেসে থাকা — পানিপ্রেমীদের জন্য এ এক অন্য জগৎ।
ওয়াটার কিংডমের জন্য সাধারণত আলাদা টিকিট বা প্যাকেজ নিতে হয়। পানিতে নামার আগে লকারে জিনিসপত্র রেখে যান, আর শিশুদের কখনোই একা পানিতে নামতে দেবেন না। সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলুন।
টিকিট মূল্য ও প্যাকেজ
ফ্যান্টাসি কিংডমের টিকিটের ধরন ও মূল্য সময়ভেদে বদলাতে পারে। নিচের তালিকায় একটি আনুমানিক ধারণা দেওয়া হলো — যাওয়ার আগে অফিসিয়াল উৎস থেকে সর্বশেষ মূল্য অবশ্যই যাচাই করে নিন।
| টিকিটের ধরন | যা যা থাকছে | মূল্য (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| শুধু প্রবেশ | পার্কে প্রবেশ | 300 টাকা |
| থিম পার্ক প্যাকেজ | প্রবেশ + সব রাইড | 700 টাকা |
| ওয়াটার কিংডম প্যাকেজ | প্রবেশ + পানির রাইড | 600 টাকা |
| কম্বো প্যাকেজ | থিম পার্ক + ওয়াটার কিংডম | 1000 টাকা |
উপরের সব মূল্য আনুমানিক। ছুটির দিনে বিশেষ অফার বা পারিবারিক প্যাকেজ থাকতে পারে, আর অনলাইনে আগাম বুকিংয়ে ছাড় মিলতে পারে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আশুলিয়াগামী বাসে করে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাওয়া যায়। নিজের গাড়ি বা রাইড শেয়ারিংয়ে গেলে সময় বাঁচে আর ফেরার পথে সুবিধা হয়। পার্ক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব শাটল বাস সার্ভিসও ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চলাচল করে — ছাড়ার স্থান ও সময়সূচি আগে থেকে জেনে নিন।
সকালে যত তাড়াতাড়ি রওনা দেবেন, পার্কে তত বেশি সময় কাটাতে পারবেন। ফেরার পথে সন্ধ্যার যানজট এড়াতে পার্ক বন্ধের কিছুটা আগেই রওনা দেওয়া ভালো।
ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি — শীতকাল ফ্যান্টাসি কিংডম ভ্রমণের সবচেয়ে আরামদায়ক সময়। এই সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে, ফলে সারাদিন রাইডে চড়া আর ঘোরাঘুরি করা সহজ হয়।
গরমকালে ওয়াটার কিংডম বেশি উপভোগ্য, তবে রোদ থেকে বাঁচতে ক্যাপ, সানস্ক্রিন আর পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন। বর্ষায় মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামতে পারে, তাই ছাতা সঙ্গে রাখলে ভালো। সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকে; ভিড় এড়াতে চাইলে কর্মদিবসে যান।
পরিবার নিয়ে যাওয়ার টিপস
- শিশুদের জন্য আলাদা রাইড জোন আছে; বয়স ও উচ্চতার নির্দেশনা মেনে রাইড বাছুন
- পানি, হালকা খাবার, ছাতা বা ক্যাপ সঙ্গে রাখুন
- মূল্যবান জিনিস ও অতিরিক্ত কাপড় লকারে রাখুন
- ওয়াটার কিংডমে গেলে তোয়ালে ও বদলের কাপড় নিন
- শিশুদের সবসময় নজরে রাখুন, বিশেষ করে পানির রাইড এলাকায়
- ফেরার পরিবহন আগেই ঠিক করে রাখুন
একদিনের ছুটিতে ঢাকার কাছেই এমন রোমাঞ্চ আর আনন্দের ঠিকানা খুব কমই আছে। পরিকল্পনা করে বেরিয়ে পড়ুন — ফ্যান্টাসি কিংডমে কাটানো দিনটি পরিবারের সবার মনে থাকবে অনেকদিন।
সম্পর্কিত ভ্রমণ গাইড
ঢাকার আরও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানুন: হাতিরঝিল ভ্রমণ গাইড, আহসান মঞ্জিল। দূরের জেলা থেকে এলে অনলাইনে বাস টিকিট বুকিং গাইডটি দেখে নিতে পারেন।
যোগাযোগ
ঠিকানা: আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা 999 নম্বরে কল করুন। টিকিট ও সময়সূচির সর্বশেষ তথ্যের জন্য পার্কের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
তথ্যসূত্র
ফ্যান্টাসি কিংডম কোথায় অবস্থিত?
ফ্যান্টাসি কিংডম ঢাকার আশুলিয়া এলাকায়, ঢাকা–আশুলিয়া মহাসড়কের পাশে জামগড়ায় অবস্থিত। রাজধানীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব প্রায় 30 কিলোমিটার।
ফ্যান্টাসি কিংডমের টিকিট মূল্য কত?
টিকিট মূল্য প্যাকেজভেদে ভিন্ন হয়; শুধু প্রবেশ, রাইডসহ প্যাকেজ ও ওয়াটার কিংডমের জন্য আলাদা প্যাকেজ থাকতে পারে। যাওয়ার আগে অফিসিয়াল টিকিট পেজ থেকে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করে নিন।
ফ্যান্টাসি কিংডমে কি কি রাইড আছে?
রোলার কোস্টার, ড্রপ টাওয়ার, টর্নেডো ধরনের ঘূর্ণি রাইড, মেরি-গো-রাউন্ড ও শিশুদের রাইড জোন রয়েছে। ওয়াটার কিংডমে আছে পানির স্লাইড ও সুইমিং পুল।
ওয়াটার কিংডম কি আলাদা পার্ক?
না; ওয়াটার কিংডম ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্সের ভেতরেই পানির রাইডের আলাদা জোন। এর জন্য আলাদা টিকিট প্যাকেজ থাকতে পারে।
শিশুদের নিয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম যাওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ; শিশুদের জন্য আলাদা রাইড জোন আছে। তবে প্রতিটি রাইডের বয়স ও উচ্চতাসীমা মেনে চলুন এবং শিশুদের সবসময় তত্ত্বাবধানে রাখুন।
ফ্যান্টাসি কিংডম যাওয়ার সেরা সময় কখন?
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শীতকাল সবচেয়ে আরামদায়ক। সাপ্তাহিক ছুটি ও লম্বা ছুটিতে ভিড় বেশি থাকে, তাই সম্ভব হলে কর্মদিবসে যান।
